২০১০ সালে দেশের সোনা ও বিদেশী মুদ্রা ভান্ডারের জন্য রাশিয়া সোনা কোনার বিষয়ে রেকর্ড করেছে. মূল্যবান এই ধাতুর সঞ্চয় বর্তমানে প্রায় একের তৃতীয়াংশ বেড়ে ৭৮৪ মেট্রিক টনের বেশী হয়েছে. এই রকমের গতিতে রাশিয়া বর্তমানে সারা বিশ্বের মধ্যে অষ্টম স্থানে রয়েছে ও এই সঞ্চয় শুধু সোনার জমা পরিমানেই রাশিয়াকে বিশ্বের এক নম্বর নেতৃত্ব স্থানীয় দেশে পরিনত করতে পারে.

    সঙ্কট পরবর্তী কালে ও বিনিময় যোগ্য মুদ্রার দামের ওঠা নামার সময়ে একমাত্র সোনাই হতে পারে স্থিতিশীল সঞ্চয় যোগ্য দ্রব্য. রাশিয়া ইচ্ছা প্রকাশ করেছে নিজেদের আন্তর্জাতিক সঞ্চয়ের ভান্ডারে মূল্যবান ধাতুর পরিমান বৃদ্ধি করতে. এর জন্য খুব একটা কম সম্ভাবনা নেই. পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাশিয়ার ভান্ডারে সোনার পরিমান শতকরা সাত শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশী, একই সময়ে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে এই পরিমান প্রায় অর্ধেক. সেই কারণেই তারা সোনার পরিমান বাড়াতে চায় না, এমনকি কখনও তা বিক্রী করেও দেয়.

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী ব্যাঙ্ক প্রতি বছরে একশ টনেরও বেশী সোনা কিনতে চায়. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ, এই কথা মনে করে রাশিয়ার ব্যাঙ্ক সংস্থা গুলির সমিতির সভাপতি গারেগিন তোসুনিয়ান বলেছেন:

    "খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল যে, সোনা ও বিনিময় মুদ্রার ভান্ডারকে প্রসারিত ভাবে তৈরী করা হচ্ছে. এক সময়ে তার প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ থাকত আমেরিকার ডলারে, তারপরে ইউরো মুদ্রা এসেছে. কিন্তু সোনা যেহেতু সবসময়েই ছিল ও বেশী স্থিতিশীল বিনিময় যোগ্য মুদ্রা হিসাবে থাকবে, তাই যুক্তিসঙ্গত হবে, যখন আমাদের দেশের মতো বড় দেশ তার সঞ্চয় কোন তৃতীয় দেশের মুদ্রায় সঞ্চিত না রেখে, সোনাতেই রাখবে. তার উপরে দেখাই য়াচ্ছে বিনিময় যোগ্য মুদ্রার বাজারের উদ্বায়ী ধরন. আর ইউরো এবং ডলারের ওঠা নামা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে".

    এখানে উল্লেখ যোগ্য যে, গত বছরে নিজেদের সোনার ভান্ডার একই রকম অপরিবর্তিত রেখেছে সবচেয়ে বড় উন্নত দেশ গুলিও, যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী ও ফ্রান্স. তারা এই ধাতু কেনা বা বেচার ব্যাপারে কোন রকমের চেষ্টাও করে নি, যদিও ২০০৯ সালে চুক্তি হয়েছিল বছরে চারশো টন সোনা কেনা বেচার ব্যবস্থা রাখার জন্য. ২০১০ সালে এই চুক্তি যারা করেছিল, সেই দেশ গুলি মাত্র সাড়ে ছয় টন সোনা বেচেছিল. এই ধরনের সোনার ভান্ডার স্থিতিশীল রাখার মানে হল, এই দেশ গুলির ভান্ডারে সোনার পরিমান অপরিবর্তিত রয়েছে ও তার শতকরা ভাগ ও পাল্টায় নি. কিছু ক্ষেত্রে তা শতকরা ৭৫ ভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছে (যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে), আর তার পরবর্তী কালে বৃদ্ধি পরিস্কার একটা ভারসাম্য হীনতার প্রমাণ হতেই পারে.

    কিছু দিন আগে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল যে, সোনা আর কোন রক্ষা করার মত কিছু হবে না আর তার যুগ অতিক্রান্ত হয়েছে, এই কথা কিন্তু ২০০৮ সালের সঙ্কটের পরে সত্য বলে প্রমাণিত হয় নি. স্বর্ণ সূচক আবার ফিরে আসছে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, ইউরো অঞ্চলে সার্বভৌম ঋণ বিশ্বের অর্থনীতিকে আবার নিজের রেলের উপরে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আশঙ্কা জনক অবস্থায় রেখেছে. আর এটা সোনার দাম বাড়িয়ে রাখার বিষয়ে একটা ভাল ভিত তৈরী করে রেখেছে, এমনকি তা বৃদ্ধিও করতে পারে.

    ২০১০ সালের ফলাফল অনুযায়ী রাশিয়ার চেয়ে মূল্যবান ধাতু শুধু সৌদি আরব দেশই বেশী কিনেছে. এটার কারণ, দুই দেশই বিশ্বের সবচেয়ে বড় খনিজ তেল সরবরাহ কারী দেশ আর কোন বড় মাপের বিদেশী ঋণ তাদের নেই. সম্ভবতঃ এই "প্রতিযোগিতা" চলবে এই বছরেও. অন্ততঃ, রাশিয়া নিজেদের সোনার ভান্ডার বৃদ্ধি করতে চেয়েছে স্থিতিশীল জমার পরিমান বাড়ানোর জন্য, যা পতনের বিপদ কালে "ভরসা যোগ্য গদির" কাজ করতে পারে.