নতুন এক ঝড় আসছে ইজিপ্টে. সম্ভাবনা রয়েছে ২৫শে জানুয়ারী থেকে দেশে শুরু হওয়া গণ বিদ্রোহ আরও বিশাল আকার ধারণ করার.

    ইজিপ্টের বিরোধী পক্ষ, যারা এই গণ অভ্যুত্থানের আগুণ জ্বালিয়েছে, দেশের সমস্ত লোককে আজ হরতাল করতে বলেছে. আগামীকাল ঘোষণা হয়েছে এক বহু লক্ষ মানুষের প্রতিবাদ মিছিল করার. এই ধরনের আহ্বান করা হয়েছে এমন কি কায়রো শহরের প্রধান তহরির স্কোয়ার থেকে. দেশে কার্ফ্যু জারী করা স্বত্ত্বেও গত রাতে এখানে বহু হাজার লোক মিছিল করে এসে রাত কাটিয়েছে. এটাকে বিদ্রোহ বাড়ার লক্ষণ বলেই দেখা যেতে পারে, এই কথা মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

    "ইজিপ্টের ঘটনার দ্রুত পট পরিবর্তন বহু বিশেষজ্ঞকেই ভাবিয়ে তুলেছে. কারণ হল, এই দেশ কে আরব বিশ্বে স্থিতিশীলতার এক উদাহরণ বলে মনে করা হত. হ্যাঁ, সমস্যা অনেক জমা হয়েছিল, কিন্তু মনে হয়েছিল যে, মুবারক শক্ত হাতে প্রশাসনের হাল ধরে রয়েছেন. সামরিক বাহিনী থেকে বেরিয়ে আসা এই নেতা দেশে জরুরী অবস্থা জারী করেছেন. মনে হয়েছিল, যখন দেশে পশ্চিমের পক্ষে থাকা বিরোধী পক্ষকে দাবিয়ে দেওয়া হয়েছে ও ঐস্লামিক বিরোধী দলকে কোন মঞ্চই ছাড়া হয় নি, এই রকম কিছু সেখানে হতেই পারে না. কিন্তু পূর্বাভাষ ছিল ভুল. টিউনিশিয়ার উদাহরণ দেখিয়েছে যে, একটা স্ফুলিঙ্গ যথেষ্ট আরব দেশ গুলিতে বহু দিন ধরে এই বিরোধের জমা শুকনো খড়ের গাদাকে অগ্নিকুণ্ডে পরিনত করার জন্য. বর্তমানে ইজিপ্টের পরিস্থিতি একই রকমের নয়. আমার মনে হয়েছে যে, এটাকে রাশিয়াতে ১৯১৭ সালের শুরুর সময়ের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, যখন কোন পক্ষই খোলা ভাবে বিরোধী পক্ষকে নিজের শক্তি দিয়ে চিত্পাত করতে পারে না".

কিন্তু এর মানে মোটেও নয় যে, ইজিপ্টের সরকার ও বিরোধী পক্ষ কোন রকমের কাজ করছে না. দুই পক্ষই নিজেদের সুবিধা মতো পরিস্থিতিকে আয়ত্ত্ব করতে চাইছে. রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারক সরকারকে দেশের অর্থনীতিতে বিশ্বাস জাগানোর উপযুক্ত করতে বলেছেন, দ্রব্য মূল্য কম করতে বলেছেন, ভর্তুকি দিতে বলেছেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যে, মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে বলেছেন ও দেশের জনগনের জন্য কাজের ব্যবস্থা করতে বলেছেন. একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন সক্রিয়ভাবে দেশের কাঠামো সংশোধনের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ও অন্যান্য দল গুলির সঙ্গে আলোচনা বাড়াতে. এই সবের পিছনেই দেশে বিক্ষোভ কমানোর ইচ্ছা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে.

নিজেদের পক্ষ থেকে বিরোধী পক্ষের দল গুলি দেশে এক হতে শুরু করেছে. আগে যে সমস্ত বিরোধী পক্ষ আলাদা ছিল তারা এবং এমনকি দেশে নিষিদ্ধ মুসলমান ভাইদের দল বলে যে দল ছিল, তারা এক সঙ্গে ঠিক করেছে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রাক্তন প্রধান মুহামেদ আল- বরাদেই কে তাদের হয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলতে পাঠানোর. আল- বরাদেই, মুবারক যাতে ইস্তফা দেয়, সেই চেষ্টাই করছেন ও মত প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে দেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা সম্ভব হবে.

ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতির অবস্থা আরও সঙ্গীণ হয়েছে কারণ সম্ভবতঃ তিনি পশ্চিমের দেশ গুলির সমর্থন হারিয়েছেন. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপের সঙ্গীরা মুবারকের কাছে দাবী করেছে মিছিল কারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করতে ও স্বাধীন নির্বাচনের জন্য পরিস্থিতি তৈরী করতে.

ইজিপ্টে ক্ষমতার জন্য লড়াই এর তেজ বেড়েই চলেছে. একই সময়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে. রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মুডিস সংস্থা ইজিপ্টের বিনিয়োগ বীমা সূচক কে নেতিবাচক করে দিয়েছে. জাপানের নিসান কর্পোরেশনের গিজা শহরের গাড়ী জোড়া লাগানোর কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, কর্মচারীদের নিরাপত্তার কথা বলে. বহু দেশই ইজিপ্টের সমুদ্র তীরের বিশ্রাম কেন্দ্র গুলি থেকে তাদের বহু হাজার পর্যটকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে.