মিসরে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে.২৫ জানুযারী থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ যা সপ্তাহের শেষে মারাত্বক আন্দোলনে রুপ নিয়েছে.

শনিবার পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ.রাজধানী কায়রো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের রাজপথে বিক্ষোভ অব্যহত থাকে.সরকারবিরোধী বিক্ষোভ যা জাতীয় আন্দোলনের পরিনত হয়েছে.এই সুযোগে অনেক চোর ও হত্যাকারী ফায়দা লুটেছে.ক্ষমতাশীল জাতীয় ডেমোক্রেটিক দলের মূল ভবনে ভাঙ্গচুর এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়.বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিখ্যাত কায়রো জাদুঘরেও হামলা চালায় যা প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার অমূল্য সংগ্রহশালা হিসাবে পরিচিত.এমনকি সামরিক বাহিনীও জাদুঘরের রক্ষনাবেক্ষনে ব্যর্থ হয়.

বিক্ষোভ-আন্দোলনের এই সুযোগে জেলহাজত থেকে কয়েক হাজার অপরাধী পালিয়ে যায়.আন্দোলনকারীরা তাদের স্বাধীনতা না পেলে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহন করবে.পুরো দেশে এখন কারফিউ জারি রয়েছে.কয়েক হাজার মিসরীয় সেনাবাহিনী  জনগনের নিরাপত্তা ও শিঙ্খলতা বজায়ের জন্য বর্তমানে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে.তা সত্বেও আন্দোলনকারীরা পিছু পা হচ্ছে না.শনিবার দিবাগত রাতে বিক্ষোভকারিরা মিসরের রাজধানীর প্রানকেন্দ্রে অবস্থিতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে ব্যাপক ভাঙ্গচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়.টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরার মতে মিসরে গত কয়েকদিনে সংঘর্ষের ঘটনায়  অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়েছে.

মিসরে এখন হুসনে মোবারক প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন এবং তিনি ইতিমধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিয়েছেন.কিন্তু মিসরের বিরোধীদল দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এ সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সমর্থন করছে না.আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আল বারাদেই জানান যে,ক্ষমতাশীন দলের জনগনের কষ্ট অনুভবের আগ্রহ নেই ও তাদের অবশ্যই পদত্যাগ করা উচিত.

কায়রোর আন্দোলনের ঢেউ মিসরের সিমান্ত অতিক্রম করেছে.প্যারিস,বার্লিন ও লন্ডনে অনেক মিসরীয়রা প্লাকার্ড নিয়ে হুসনে মোবারকের জরুরি পদত্যাগ দাবী করেন এবং দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন শুরু করার আহবান জানান.মিসরীয় নেতাকে মন্ত্রীসভা ভাঙ্গার জন্য শুরুতেই ওয়াশিংটন পরামর্শ দেয়.

আগামী দিনগুলোতে মিসরের পরিস্থিতি কোন দিকে অগ্রসর হবে?.রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মধ্যপ্রাচ্য গবেষনা সেন্টারের  পরিচালক আন্দ্রেই ভালোদিন মনে করেন যে,পরিস্থিতি বেশ কয়েকটি কারণে নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যাচ্ছে.তিনি বলছেন,’প্রথমত-পরিস্থিতি অনেক দূরে গড়িয়ে গেছে.আন্দোলনরত অধিকাংশই হচ্ছে যুবক ও মধ্য বয়সী লোকজন যারা দেশটির আর্থ-সামাজিক রাজনীতিতে অসন্তুষ্ট.দ্বিতীয়ত-এই আন্দোলন যা তিউনেশিয়ার বিপ্লবের প্রভাব এবং তা পাশ্ববর্তী আলজেরিয়া ও ইয়েমেনে ও ছড়িয়ে পরতে পারে .তৃত্বীয় যে বিষয়টিতে আমি গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাচ্ছি তা হচ্ছে -হুসনে মোবারকের ৮২ বছর’.

বিশেষজ্ঞ পরিশেষ জানায় যে, বিভিন্ন দলের লোকজন যারা এই সরকারবিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়েছে তাদের নিজেদের ও সেনাবাহিনীর মধ্যে আপোশে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিবে.তার ভাষায়,তাহলেই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা সম্বভ.পরিস্থিতি উন্নয়নের এটিই একমাত্র পথ.আজকের দিনে মিসরের জন্য আরও ঘোলাটে পরিবেশ দেখা যাচ্ছে.