শুক্রবার মিসরে পুলিশদের সাথে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ফলে শুধুমাত্র হতাহতের ঘটনাই ঘটে নি বরং তা মিসরে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা প্রশসনিক কর্মকর্তাদের অপসারনে বাধ্য করেছে.মিসর থেকে পাওয়া সংবাদসমূহ যা মূলত বিপ্লবেরই চিত্র বহন করে.বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না যে, শুরুতে সামাজিক-রাজনৈতিক এই বিক্ষোভ যা অত্র অঞ্চলে এবং সমাগ্রিক অর্থে সারা বিশ্বের জন্য অনুমান করাও কষ্টকর.

 আরব বিশ্বের দেশসমূহের মধ্যে তিউনিশিয়া ও মিসরকে অনেকটা ইউরোপীয় দেশের আদলেই চিন্তা করা হত এং দুটি দেশই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের কাছে ভ্রমনের জন্য জনপ্রিয় স্থান হিসাবে পরিচিত.কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই দৃশ্য সবার জন্যই ছিল অনেকটা অপত্যাশিত.একই সাথে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ যেমন-ইয়েমেন,মৌরিতানিয়া,আলজেরিয়া ও জর্দানের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা কিছুটা জটিল.তবে সাধারনত,যখনই আরব বিশ্বে কিছু ঘটে তাহলে মনে করা হয় যে,এই ঘটনার জন্য দায়ী হচ্ছে-পশ্চিমা দেশ,ইসলামিক নেতা অথবা সামরিক শক্তি.কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনার সাথে এর একটিরও কোন যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না.এমনই মতামত জানান রাশিয়ার রাজনৈতিক ফন্ড ‘পলিটিকা’র সভাপতি ভেয়াচেসলেভ নিকোনোভ.তার ভাষায়,‘বর্তমানে আমরা আরব বিশ্বে বিপ্লবের একটি পরিষ্কার চিত্র দেখতে পাচ্ছি.দারিদ্রতা,দুর্নীতি ও বেকারত্ব জনগনকে রাজপথে নামিয়ে দিচ্ছে’.

যদিও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেন যে,প্রথাগত অনুসারে বিপ্লবের ফলাফল হচ্ছে একধরনের কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য তা সম্পূর্ণ ভিন্ন.তাই আরব বিশ্বের সংকট পরিস্থিতি শুধুমাত্র বিপক্ষ দলের জন্যই মঙ্গলজনক নয় বরং তা ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর জন্যও সমান স্বার্থ বহন করতে পারে এবং তখন সত্যিকার গনতন্ত্রের কোন চর্চা হবে না.এই পেক্ষাপটে সাম্প্রতিক ঘটনাসমূহ থেকে কোন ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে না.বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরুত্সাহিত হবে,স্বাস্থ্যকর স্থানসমূহে পর্যটকদের সংখ্যা কমে যাবে,অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙ্গে যাবে এবং  যার ফলে সামাজিক ক্ষেত্রে বিরুপ প্রভাব দেখা দিবে .তবে এক্ষেত্রে অনেকটা ভিন্ন কথা শোনাচ্ছেন আরবীয় গবেষনা ইন্সটিটিউটের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সেন্টারের পরিচালক আলেকসান্দার ফিলোনিক.তিনি বলছেন,‘মিসরের এই ঘটনা ধারাবাহিকক্রমে নাটকীয় রুপ ধারন করছে.হোসনে মুবারকের অপসারনের পূর্ব পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা যা হতে পারে পূর্ব ধারনারও উর্ধে.তবে এটিই প্রধান বিষয় নয়.এই ঘটনা কি ধরনের গুরুত্ব  বহন করবে তাই আসল বিষয়.বলাই যায় যে, তা বিপ্লব.ইসালামী জঙ্গি গোষ্ঠীরা কি এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে?. মিসরে এরা যথেষ্ট প্রভাবশালী.হয়তবা তারাই রাষ্ট্র পরিচালনায় আসার পায়তারা করছে.তাই যদি হয় তাহলে এই ঘটনা সম্পূর্ণ অপত্যাশিত চরিত্র হিসাবে গন্য হবে এবং একই সাথে মিসরের সাথে ইজরাইল ও অন্যান্য আরব বিশ্বের সম্পর্ক কেমন হবে সে বিষয়েও কোন মন্তব্য করা যাচ্ছে না.যদিও আরব বিশ্বে মিসরের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জল.

কায়রো থেকে পাওয়া সর্বশেষ খবর থেকে জানা যায় যে,মিসরের পুলিশবাহিনী বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গতিপথ অবরুদ্ধ করেছে যারা চলমান রাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে চাচ্ছে.এর অংশ হিসাবে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী বিরোধী দলীয় নেতা ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক সংস্থার সাবেক প্রধান মোহাম্মেদ আল-বারাদেই মিসরে ফিরে এসেছেন.আল-বারাদেইকে প্রথমে কায়রোর একটি মসজিদে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং পরবর্তিতে তাকে গৃহবন্দি করা হয়.মিসরে ইসলামিক রাজনৈতিক দল ‘মুসলমান ভাই’ এর পাঁচজন নেতাকে দেশটিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে.বিরোধী সংগঠনসমূহ যাতে কার্যক্রম পরিচালনা না করতে পারে সেই কারণে মিসরীয় সরকার দেশের সকল মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে.