২০০৮ – ২০০৯ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের দায় বর্তান উচিত্ মার্কিন প্রশাসন ও বড় কর্পোরেশন গুলির নেতৃত্বের উপরে. এই রকমের সিদ্ধান্ত আমেরিকার কংগ্রেসের উদ্যোগে গঠিত দুই দলের সদস্যদের সঙ্কট অনুসন্ধান সম্বন্ধে গঠিত পরিষদ তার রিপোর্টে লিখেছে.

এই রিপোর্টের স্রষ্টারা মনে করেছেন যে, এই সঙ্কট সম্বন্ধে ব্যক্তিগত দায়িত্ব বর্তায় জর্জ বুশ জুনিয়র ও বিল ক্লিন্টনের প্রশাসনের উপরে, আর তার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ ব্যবস্থার নেতাদের উপরে. এই সঙ্কট এড়ানো সম্ভব ছিল, যদি জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা গুলি ও বৃহত্ কর্পোরেশনের নেতৃত্ব হিসেবে ভুল না করত, তারা এমনকি অর্থনীতির বিপজ্জনক গতি ও বিপদ সংকেত কেও উপেক্ষা করেছিলেন. এই রিপোর্ট যারা বানিয়েছেন, তারা বহু বিপদ সম্বন্ধে সাবধান করে দেওয়ার মত কারণ সম্বন্ধে উল্লেখ করেছেন, যা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল দেশে গৃহ নির্মাণ ঋণের বিষয়ে ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়া, গৃহ নির্মাণের ভিত্তিহীণ মূল্য বৃদ্ধি ও বিপজ্জনক ঋণ সংক্রান্ত প্রকল্পের অবাধ প্রসার.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রশাসনের অক্ষম প্রয়াস ১৯৩০ সালের বিরাট অবক্ষয়ের পরে প্রথমবার দেশকে সবচেয়ে ভারী অর্থনৈতিক সঙ্কটের খাদে নামিয়ে দিয়েছিল, যা এই রিপোর্টে পরিস্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. এই সঙ্কটের ঢেউ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে. প্রসঙ্গতঃ, এই সঙ্কটের কারণকে সহজ করতে গিয়ে লাভ হবে না, এই কথা মনে করেন রাশিয়ার বিশ্লেষক আলেকজান্ডার ইয়াকভলেভ, তিনি বলেছেন:

"বোঝাই যাচ্ছে যে, সব সময়েই কাউকে খুঁজে পেতে ইচ্ছে করে যে আসলে দায়ী, তার দেখিয়ে আঙ্গুল দেখিয়ে বলতে ইচ্ছা করে, যে এই নির্দিষ্ট লোক গুলির কাজের ফলে সব কিছু ঘটেছে. বিশ্বের বিগত অর্থনৈতিক সঙ্কট গুলির সম্বন্ধে বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, তাদের উত্পত্তি ও প্রসার হয়েছে বহুবিধ কারণের এক সাথে হওয়ার জন্যেই. এটা সত্য যে, আমেরিকার রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ ব্যবস্থা বিগত পাঁচ দশ বছর ধরে ভুল নীতি নিয়েছিল. আর এর ফলে বিনিয়োগ ব্যবস্থায় বুদ্বুদের মতো ফাঁকা প্রকল্পের সৃষ্টি হয়েছিল ও তাতে আরও অর্থ উপর থেকে ঢালা হয়েছিল. কিন্তু অন্য দিক থেকে দেখলে, বর্তমানে বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এমন ভাবে তৈরী হয়ে আছে, যে, শুধু রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ ব্যবস্থাই তার গতিবিধির উপরে প্রভাব ফেলে না. হ্যাঁ, এটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ, কিন্তু তার দিক নির্ণয়ের ক্ষমতা ক্রমেই কমে আসছে".

বিনিয়োগের সঙ্কট সমস্ত রকমের তীক্ষ্ণতা দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বিশ্বের অর্থনীতিকে মাত্র একটি বিনিময় যোগ্য মুদ্রার উপরে, আমেরিকার ডলারের উপরে ভরসা করে আর রাখা সম্ভব নয়. বর্তমানে বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর সংশোধন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে.