দোমোদেদোভা বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার কারণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ তার দাভোস সফরে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন.রুশ পত্রিকা ‘ভেদমস্তি’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে মেদভেদেভ এ কথা বলেন.

অনেক আগে থেকেই প্রেসিডেন্টের সাক্ষাত্কার দেওয়ার দিনক্ষন ঠিক করা ছিল.আশা করা হয়েছিল যে,দাভোসের বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে বিনিয়োগপূর্ণ পরিবেশে মূলত অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে.কিন্তু জীবন নিয়ে এসেছে পরিবর্তন.দোমোদেদোভা বিমানবন্দরে রক্তাক্ত হত্যাযজ্ঞ যার ফলে ৩৫ জন নিহত হয় এবং এই ঘটনাই পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে পরিবর্তন নিয়ে আসে.তাই সাক্ষাত্কারের আলোচনাতেও কিছু পরিবর্তন হয়.প্রেসিডেন্ট বলেন,“অবশ্যই,এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা এবং এর জন্য পূর্ব পরিক্লপনা করাই ছিল. হামলার জন্য স্থান নির্বাচন ও বিস্ফোরণের বিভিন্ন উপাত্ত থেকে জানা যায় যে,এটি ভাল প্রস্তুতি নিয়েই ঘটানো হয়েছে যাতে যতটা সম্ভব বেশি মানুষ হত্যা করা যায়’’.

প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ দাভোস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন.তিনি মনে করেন, রাশিয়ার প্রস্তাব তুলে ধরার জন্য দাভোস গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র.তিনি বলেন “আমাদের সম্ভাব্যতা,কেন আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালী ও আমাদের আইনি প্রথা বিষয়ে অবহিত করা এবং একই সাথে আমাদের বাধ্যবাধকতা ও যে সব সমস্যা এখনও সমাধান করা হয় নি সে সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করা.আমার মনে হয়,শুধুমাত্র এই ধরনের উন্মক্ত আলোচনাই জানতে সাহায্য করবে যে রাশিয়া বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে.আমরা অবশ্যই বিনিয়োগ আশা করছি এবং অর্থনৈতিক মন্দার পর দ্রুত উন্নয়ন বৃদ্ধি করতে চাচ্ছি.দাভোসে আমার ঐ সংলাপ তাদেরকে উদ্দেশ্য করেই বলা হবে যাদের রাশিয়ার সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করার ইচ্ছা রয়েছে,রাশিয়ায় বিনিয়োগ করতে চায় এবং মিলিত উদ্দোগে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা ভাবছে.সর্বোপরি আমাদের দেশের অর্থনীতির আধুনিকায়নে একসাথে মনোনিবেশ করা’’.

দেশের আধুনিকায়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেখ করেন যে এর উদ্দেশ্য হচ্ছে- রাশিয়ার রয়েছে কাঁচামাল সরবরাহের বিশেষ সম্ভাবনা.এই ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখতে পারে দেশের জনগন.শিল্প ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরন করতে বিগত কয়েক বছরে প্রচলিত আইনে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে.মেদভেদেব বলেন “এক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্তের পথে আমি অগ্রসর হয়েছে তা হল-ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনি প্রথা রাশিয়া অনুসরন করতে পারে’’.

দেশের বিনিয়োগ অংশেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে.প্রেসিডেন্ট এ ক্ষেত্রে ‘স্কলকোভার’ উদাহরন তুলে ধরেন.এই প্রক্লপটি করার অর্থ হচ্ছে-কিভাবে  বিনিয়োগ ব্যাবসা গড়ে তোলা যায় তা দেখানো, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করা হচ্ছে.

প্রেসিডেন্ট একই সাথে সেই সব সমস্যার কথা এড়িয়ে যান নি যার অনুপস্থিতিতে আধুনিকীকরন সম্ভব না.যাদের মধ্যে রয়েছে,রাজনীতিতে পরিবর্তন,দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও ফৌজদারী আইনকে যুগোপযুগী করে তোলা.রাতারাতিই সব সমস্যার সমাধান করা অসম্ভব.মেদভেদেভ বলেন,রাষ্ট্র স্থির একটি প্রতিষ্ঠান নয় বরং এক গোষ্ঠীয় লোকজন এবং তাদের আচার-আচরন,ইচ্ছা-আকাঙ্খার সমষ্টি.আমাদের রাজনীতিতে প্রতিদন্ধিতা থাকা উচিত.এই বিষয়টি অমিমাংসিত.

বর্তমানে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সূচক তেমন খারাপ না.প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ বলেন “আমরা অনেক দ্রুত গতিতেই অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হই.এমনকি প্রায় ৪ ভাগ জিডিপি বৃদ্ধির পরিমান যা ইউরোপীয় সূচকের তুলনায়  অবশ্যই আশানুরুপ.আমরা সত্যিই বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে সফল হয়েছি এবং মন্দাপূর্বকালিন সময় ফিরে এসেছি.রাষ্ট্র সব ধরনের সামাজিক আবশ্যকীয় কাজ পূরন করেছে এবং এখানে কেউই রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অধিকার রাখে না”.

রাশিয়ার নেতা উল্লেখ করেন যে,রুশি জাতি অনেক জটিল,তাই দেশের নেতাদের পক্ষে সবকিছুই একসাথে করা সম্ভব না.দরকার বিবেচনার.যেমন-স্কলকোভা,২০১৪ সালের অলিম্পিক গেমস,এ্যাপেক সম্মেলন ও বিশ্বকাপ ফুটবল.দিমিত্রি মেদভেদেভ এই প্রক্লপসূমহকে উন্নয়নের এক একটি ক্ষেত্র হিসাবে বর্ননা করেন এবং উন্নয়ন বাস্তবায়নে রাশিয়া এখানে বিশ্ব অভিজ্ঞতা ব্যবহার করবে.

সাক্ষাত্কারের শেষ পর্যায়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিজের দায়িত্ব পালনের ধারা সমূহ তুলে ধরেন.যার প্রথমেই হচ্ছে- জনগনের জীবনযাত্রার রুপ ও তাদের বিশ্বাষ.এই বিষয়টি অবশ্যই,যে কোন রাজনীতিবিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বের.