রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ দাভোস শহরের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগদান পেছিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সেখানে মূল বক্তৃতা দেওয়ার কথা, আর তিনি নিজে দোমোদিয়েদোভা বিমান বন্দরের সন্ত্রাসবাদী হানার তদন্তের কাজের নেতৃত্ব করছেন.

    দেশের প্রধান অভিশংসক ইউরি চাইকা কে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব দিয়েছেন বিমান বন্দরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন গুলি পালিত হয়েছিল কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে. দোমোদিয়েদোভা দেশের সর্বাধুনিক, ভাল আর সবচেয়ে বেশী কাজ করা বিমান বন্দর. বিস্ফোরণের সময়ে এখানে একসাথে তিরিশটি বিমানের পরিষেবা চলছিল, তার মধ্যে ১৫টি আন্তর্জাতিক. রাষ্ট্রপতির মতে, যা হয়েছে তা নিরাপত্তা বিষয়ে আইন না মানার প্রত্যক্ষ পরিণতি.

    "এত বেশী পরিমানে বিস্ফোরক জিনিস নিয়ে ঢুকে পড়া অথবা পৌঁছে দেওয়া – এর জন্য চেষ্টা করতে হয়. এর জন্য তাদের সকলকে উত্তর দিতে হবে, যারা এই কোম্পানীর সঙ্গে জড়িত, যারা সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, আর বিমানবন্দরের প্রশাসনকেও. এটা সন্ত্রাস বাদী কাণ্ড, এটা শোকের ঘটনা, এটা ট্র্যাজেডি".

    অকুস্থলে এখনও অনুসন্ধান সংক্রান্ত কাজ কর্ম চলছে, আপাততঃ পাওয়া খবর অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদী ছিল দুই জন, দুজনেই বিস্ফোরণে নিহত. বোমা ফেটেছে একটি ব্যাগ খেলার সময় নিজে থেকে. পরীক্ষা করে দেখা গেছে পাঁচ কিলে টি এন টি সমতূল্য এই বিনা আবরণের বোমার ভিতরে প্রচুর লোহার টুকরো ভরে দেওয়া হয়েছিল, যাতে উপস্থিত অধিকাংশ লোকই আহত হয়. আপাততঃ বলা হচ্ছে যে, বিস্ফোরণ ঘটেছে সেই মুহূর্তে যখন সম্ভাব্য মহিলা সন্ত্রাসবাদী একটি ব্যাগের মুখ খোলে, তার সঙ্গে ছিল একজন পুরুষ, যার মাথা বিস্ফোরণে আলাদা হয়ে পড়ে যায়. বর্তমানে দেখা হচ্ছে এরা কারা. সন্ত্রাস বাদীরা যে, বিমান বন্দরের আগমন ভবনে বোমা রেখে পালাবার কথা ভেবে থাকতে পারে, সে কথাও বিচার করে দেখা হচ্ছে. আরও একটা অনুমান রয়েছে – বিস্ফোরণ দূর থেকে ওয়্যারলেস যন্ত্র ব্যবহার করে করা হয়েছে, যদিও তার সম্বন্ধে এখনও কোনও প্রমাণ মেলে নি.

    "আশা করব যে দেশের আইন রক্ষা কারী বাহিনীর কর্মীরা দ্রুত মূল কারণ নির্ণয় করে তার বিষয়ে অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে পারবেন" – বলেছেন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ.

    দেশের স্বরাষ্ট্র ও অন্যান্য দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে বলা হয়েছে যে, সন্ত্রাস ঘটানো হয়েছে একেবারে সেই রকম ভাবে – যা সাধারণত উত্তর ককেশাস নির্গত যোদ্ধারা করে থাকে. এই ভাবেই মস্কো মেট্রোতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল, যখন আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদী মেয়ের সঙ্গে এসেছিল চরমপন্থী যোদ্ধা. অনুসন্ধানে যারা রয়েছেন, তারা আরও একজন লোককে খুঁজছে, যে একটা পার্ক করার জায়গায় এদের জন্য অপেক্ষা করছিল. সমস্ত স্থানীয় টি ভি ক্যামেরার ছবি দেখা হচ্ছে – যার থেকে আশা রয়েছে সূত্র পাওয়া যাবে. দেশের আইন অনুযায়ী চার দফায় ফৌজদারী মামলা জারী করা হয়েছে, তার মধ্যে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত দফা রয়েছে.