মস্কো ও মস্কোর উপকণ্ঠে প্রায় একশ জনেরও বেশী বর্তমানে নানা হাসপাতালে এই মূহুর্তে ভর্তি রয়েছেন. তাঁদের মধ্যে চল্লিশ জনের অবস্থা আশঙ্কা জনক. তাঁদের জীবনের জন্য চিকিত্সকেরা লড়াই করছেন, কিন্তু সব সময়ে চিকিত্সকদের আহত দের পরবর্তী অবস্থা সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী আশা ব্যঞ্জক হয় না. কিছু লোক হাসপাতালে যাওয়ার পথেই মারা পড়েছেন. মঙ্গলবার সকালের আগে এই বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ দিলেন ৩৫ জন লোক.

    কয়েক মিনিটের মধ্যেই দোমোদিয়েদোভা বিমান বন্দরে কর্তব্য রত চিকিত্সকেরা ট্র্যাজেডি ঘটার জায়গায় উপস্থিত হতে পেরেছিলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেছিলেন আরও চল্লিশেরও বেশী অ্যা্ম্বুলেন্সের চিকিত্সক দল. তার মধ্যে ছিল প্রাণ ফিরিয়ে আনার জন্য যন্ত্রপাতি সমেত গাড়ীও.

    যারা এই ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন, তাদের বর্ণনায় জানা গেছে যে, কোন রকমের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে দেওয়া হয় নি. চিকিত্সকেরা আহতদের প্রাথমিক শুশ্রূষা করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন. বিদেশীরা, যাঁরা রুশী ভাষা জানেন না, তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন বিমান বন্দরের দোভাষী কর্মীরা, বিপর্যয় নিরসন দপ্তরের কর্মীরা, চিকিত্সকেরা, মনস্তাত্বিক বিশেষজ্ঞরা. প্রত্যেককেই, তাঁদের আঘাতের গুরুত্বের কথা চিন্তা না করে সম্পূর্ণ ভাবে দেখা শোনা করা হয়েছিল – এই কথা জানিয়েছেন মস্কোর দোমোদিয়েদোভা বিমান বন্দরের তথ্য জন সংযোগ দপ্তরের প্রধান এলেনা গালানোভা.

    "বিদেশী নাগরিক দের জন্য দোভাষীর বন্দোবস্ত করা হয়েছিল, বিমান বন্দরের বেশীর ভাগ কর্মীই ইংরাজী ভাষা জানেন, ফলে সহজ হয়েছিল বিদেশী দের আবেদন বোঝা. পরে যখন আহত দের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন আমরা হট লাইনের আয়োজন করেছি, সেখানে ইংরাজী ভাষা জানা কর্মীরাও কাজ করছেন, বিদেশ থেকে আসা ফোনের উত্তর দেওয়ার জন্য. যাঁরা নিহত, তাঁদের আত্মীয় পরিজনদের মধ্যে যাঁরা মস্কো আসছেন, তাঁদের সকলকে আমরা বিনামূল্যে আমাদের বিমান বন্দর সংলগ্ন হোটেলে থাকার প্রস্তাব দিচ্ছি ও শহরে নানা হাসপাতালে যাতায়াতের ব্যাপারে গাড়ীর বন্দোবস্ত করে দিচ্ছি. যদি তাঁদের এখানে কোন সহকর্মী, পরিচিত বা বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে দেখা করার দরকার থাকে, তাঁরা সেই বিষয়েও বিমান বন্দরের পরিষেবা দপ্তরে সহায়তা চাইতে পারেন".

    এছাড়া মস্কো প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজধানীর "অরেখোভো" নামের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে নিহত ও আহতদের পরিজনদের. থাকা ছাড়াও তাঁদের খাওয়া দাওয়া ও যাতায়াতের জন্য কোন খরচ করতে হবে না. মনস্তাত্বিক রোগের চিকিত্সক, পুলিশের লোকেরা এঁদের সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁদের জন্য ভিসা ও অন্যান্য দলিল পত্রের বিষয়ে সহায়তা করা হচ্ছে.

    বর্তমানে কত জন বিদেশী এই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন, তা পরিস্কার ভাবে জানা যায় নি – বেশ কিছু লোকের পরিচয় এখনও জানা যায় নি. আগে দুই জন ব্রিটেনের নাগরিকের মৃত্যুর খবর জানানো হলেও মস্কোর ব্রিটিশ দূতাবাস থেকে "রেডিও রাশিয়া"কে বলা হয়েছে একজনের বিষয়ে খবর সঠিক. জার্মান দূতাবাস থেকেও জানানো হয়েছে যে, একজন নিহত ও অন্য আরেকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন.

    এছাড়া রাশিয়ার স্বাস্থ্য সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে বুলগারিয়া, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান, উজবেকিস্থান, ইউক্রেন দেশের নাগরিকদের মৃত্যুর খবর. আহতদের মধ্যে রয়েছেন – ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানী, গ্রেট ব্রিটেন, স্লোভাকিয়া, সের্বিয়া, উজবেকিস্থান, তাজিকিস্থান, মলদাভিয়া থেকে মস্কো আগত লোকেরা. ক্ষতিগ্রস্থদের অবস্থা সম্বন্ধে মন্ত্রণালয়, বিপর্যয় নিরসন দপ্তর ও বিমান বন্দরের হট লাইনের মাধ্যমে খবর দেওয়া হচ্ছে. এই সব টেলিফোনের নম্বর ও সমস্ত বর্তমান খবর "রেডিও রাশিয়া"র সাইটে পাওয়া যাচ্ছে.