আমেরিকার কংগ্রেস সদস্য এডোয়ার্ড মার্কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অবিলম্বে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও রাশিয়ার রসনেফত্ কোম্পানীর মধ্যে শেয়ার বিনিময় নিয়ে তদন্ত শুরু করতে বলেছেন.

    তাঁর দাবীতে বলা হয়েছে যে, এই চুক্তি, যার ফলে ব্রিটেনের কর্পোরেশন রসনেফত্ কোম্পানীর শেয়ারের ৯, ৫ শতাংশ পেয়েছে নিজেদের পাঁচ শতাংশ শেয়ারের বিনিময়ে. তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক. কারণ ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় খনিজ তেল ও গ্যাস নিষ্কাশন কোম্পানীই নয়, আর খনিজ তেল পরিশোধনের বিষয়ে চতুর্থ বৃহত্ কর্পোরেশন নয়, বরং মূল কথা হল – এই কোম্পানী মার্কিন সেনা বাহিনীর সবচেয়ে বড় জ্বালানী সরবরাহ করার কোম্পানী.

    ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম অনেক দিনই হল রাশিয়ার কোম্পানী গুলির সঙ্গে সহযোগিতা করছে, এর মধ্যে তে এন কা – বি পি যৌথ কোম্পানী রয়েছে, রয়েছে রসনেফত্ কোম্পানীর সঙ্গে সাখালিনে তৈল ক্ষেত্রে সহযোগিতা. এত দিন আমেরিকার লোকেরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিল না, কিন্তু এখন হঠাত্ করে সব পাল্টে গেল. ধারণা হচ্ছে যে, অনেকেই আমেরিকাতে নতুন রাজনৈতিক বাস্তব লক্ষ্য করতে পারেন নি, এই বিষয়ে জাতীয় জ্বালানী নিরাপত্তা তহবিলের জেনেরাল ডিরেক্টর কনস্তানতিন সিমোনভ বলেছেন:

    "এই রাজনৈতিক নেতারা এখনও সত্তরের দশকে বেঁচে রয়েছেন, আর তারা স্বপ্ন দেখছেন যে, রাশিয়ার লোকেরা ওই বুঝি আসছে. আমার হাসি পেয়েছে বেশ কিছু সরকারি কর্মচারীর ঘোষণা দেখে যে, রসনেফত্ ও বি পি র মধ্যে শেয়ার বিনিময় হতে দেওয়া যায় না, কারণ তাহলে রসনেফত্ জেনে যাবে আমেরিকার সেনা বাহিনীকে বি পি কত ডিজেল সরবরাহ করেছে. এটা যেন কোন একটা হাস্য কৌতুক. রাশিয়া ও আমেরিকা পারমানবিক অস্ত্র সম্বন্ধে তথ্য বিনিময় করছে, তারই সঙ্গে অস্ত্র সজ্জা কমাচ্ছে, আমেরিকার পর্যবেক্ষকেরা রাশিয়ার পারমানবিক অস্ত্র সংক্রান্ত জায়গা পরিদর্শন করছেন. কেউ কিছুই ভয় পাচ্ছে না. প্রসঙ্গতঃ যখন চিন এক সময়ে বি পি কোম্পানীর শেয়ার কিনেছিল, তখন কেউ কিন্তু ডুকরে ওঠে নি যে, বেইজিং আমেরিকার ডিজেল নিয়ে কিছু জেনে যাবে".

    মেক্সিকো উপসাগরে দূর্ঘটনার পরে গত বছরে এপ্রিল মাসে বি পি কোম্পানীর আমেরিকাতে অবস্থা হয়েছিল খুবই খারাপ. হতাশা বাদীরা বলেছিলেন যে, এই দূর্ঘটনার ফলশ্রুতি দূর করতে ৭০ বিলিয়ন ডলার খরচা হবে. গরম কালে এমন কি এই রকম কথাও শোনা গিয়েছিল যে, এই কোম্পানীকে সস্তা দরে কিনে নেবে আমেরিকার জ্বালানী বিষয়ক অতি বৃহত্ কোম্পানী এক্সোন মোবিল অথবা চেভরন. কিন্তু যদি দেখা হয় যে, বি পি শুধু নামের ক্ষেত্রেই "ব্রিটেনের কোম্পানী", আর তার শেয়ার হোল্ডার দের মধ্যে রয়েছে আমেরিকার বড় বিনিয়োগ বাজারের খেলোয়াড়েরা, তবে ধারণা করা যেতেই পারে যে, কোম্পানী নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে পারবে, তাই কনস্তানতিন সিমোনভ বলেছেন:

    "কিছু লোক আছেন, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বি পি র বিরুদ্ধে খেলেন, আবার আরও কিছু লোক আছেন, যারা তার মালিক. তাদের এই কোম্পানী ডুবিয়ে দেওয়া কোন কারণেই দরকার নেই. আর এঁরাও খুবই প্রভাবশালী বিনিয়োগ সংস্থা. সমস্ত শোনা কথা পার হয়ে কোম্পানী দিব্যি বেঁচে রয়েছে. তাদের অর্থনৈতিক জমার খাতায় খুব কম জমা, তাও কোন রকমের দেউলিয়া হতে হয় নি. এটা সত্য যে, তাদের আমেরিকাতে সমস্যা রয়েছে. নিয়ন্ত্রক দের নিয়েও সমস্যা রয়েছে, তাদের নামে বড় অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হয়েছে. আলাস্কা অঞ্চলে সমস্যা রয়েছে, কিছু জমা বিক্রী করতে হয়েছে. তাও কোম্পানী নিজের ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছে".

    আর এখন রসনেফত্ কোম্পানীর পক্ষ থেকে বি পি র জন্য সহায়তা খুবই সময় মতো হয়েছে. সব মিলিয়ে এই চুক্তি আর আগামী পাঁচ দশ বছরের মধ্যে আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ ভাবে তেল ও গ্যাস নিষ্কাশনের বিষয়ে সহযোগিতার পরিকল্পনার বিষয়ে ঘোষণা, বি পি কর্পোরেশনের অবস্থানকে শক্ত করেছে. রসনেফত্ নিজেদের পক্ষ থেকে বি পি কোম্পানীর প্রযুক্তি ও তাদের অভিজ্ঞতার ভাগ পাচ্ছে, তার মধ্যে নেতিবাচক অভিজ্ঞতাও রয়েছে, সমুদ্র তল থেকে খনিজ তেল নিষ্কাশনের বিষয়ে. রাশিয়া একটা প্রচলিত কথা আছে: "একটা পাকা ঘুঁটির বদলে দুটো কাঁচা ঘুঁটি দান দেওয়া". বি পি কর্পোরেশনের মতো এত বড় মাপের দূর্ঘটনা সামলানোর অভিজ্ঞতা এই মূহুর্তে বিশ্বে আর কারও নেই.