বিশ্ব অর্থনৈতিক অধিবেশনের আগে রাশিয়ার শেয়ার বাজার তার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী বিদেশী বিনিয়োগ আনতে পেরেছে. আন্তর্জাতিক সংস্থা এমারজিং পোর্টফোলিয়ো ফান্ড রিসার্চ দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত সপ্তাহে প্রায় ৭২ কোটি চল্লিশ লক্ষ ডলার  - যা বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট শুরু হওয়ার পরে সবচেয়ে বেশী, তা রাশিয়ার শেয়ার বাজারে বিদেশ থেকে বিনিয়োগ করা হয়েছে.

    রাশিয়ার প্রতি পশ্চিমের বিনিয়োগ কারীদের আগ্রহ গত বছরের হেমন্ত থেকে লক্ষ্য করা সম্ভব হয়েছে. বছরের শুরু থেকে বাজার পেয়েছে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশী. আর রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ – বিদেশী বিনিয়োগ কারীদের সঙ্গে দাভোস অধিবেশনে "কাজ" করার বিষয়ে একটা বাড়তি কারণ. ২৬শে জানুয়ারী তিনি তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য বিশ্বের একশ টিরও বেশী কোম্পানীর উচ্চ পদস্থ ম্যানেজারদের নিজের কাছে ডেকেছেন, যাতে আবার করে বলা সম্ভব হয় যে – রাশিয়া বিনিয়োগের জন্য খোলা, যাতে ব্যবসা এক সাথে করা সম্ভব হয়, আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত পরিকল্পনার কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতা সম্ভব হয়.

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য যাদের ডাকা হয়েছে, তারা কেউই শুধু সরকারি কারণে দেখা করছেন না, প্রত্যেকেরই রাশিয়ার জন্য নির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে. বিদেশী বিনিয়োগ কারীরা রাশিয়ার সরকারের ঘোষিত ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিনত করার পরিকল্পনার উপরে আগ্রহ রয়েছে, এই কথা বলেছেন রাশিয়ার পার্লামেন্টের শেয়ার বাজার সংক্রান্ত পরিষদের সদস্য পাভেল মেদভেদেভ:

    "রাশিয়াতে শেয়ার কেনার বিষয়ে আগ্রহ এই কারণে যে, রাশিয়া ঘোষণা করেছে এবারে বিক্রী করা হবে সেই সমস্ত শেয়ার, যা আগে কখনও বিক্রী করে নি. যেমন, রাশিয়ার সফল বৃহত্ ব্যাঙ্ক গুলির শেয়ার. যদিও রাশিয়াতে বিনিয়োগ বিষয়কে দেখা হয়ে থাকে ঝুঁকি আছে বলে, তবুও ঝুঁকির সঙ্গে লাভের তুলনামূলক বিচারে অনেক বিদেশী বিনিয়োগ কারীর কাছেই লাভ যথেষ্ট বেশী মনে হয়েছে. আর এটাই তাদের আগ্রহের মূল কারণ".

    বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে আগ্রহের আরো বিষয় হল রাশিয়ার শক্তি কোম্পানী গুলির শেয়ার, সংযুক্ত দানাশষ্য কোম্পানী, রাশিয়ার রেল পথ কোম্পানীর শেয়ার. এই সব কোম্পানীর শেয়ার বাজারে আনা হবে বিনিয়োগ কারীদের আগ্রহের উপরে নির্ভর করে. এখান থেকেই বর্তমানে বিদেশী বিনিয়োগ কারীদের রাশিয়ার শেয়ার বাজারে অর্থ বিনিয়োগ বিষয়ে আগ্রহের শুরু. পরবর্তী কালে ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিনত করা কোম্পানী গুলির শেয়ার কেনার জন্য এটা সবচেয়ে সহজ মঞ্চ.

    বিদেশ থেকে রাশিয়ার বাজারে অর্থ আসার একটা ভরসা যোগ্য পরিমান – এটাই সমস্ত রাজনৈতিক ভাবে সংযুক্ত বিশ্লেষক দের মতের উত্তর হতে পারে, যারা বিশ্বে প্রতিধ্বনি তোলা ইউকস কোম্পানীর প্রাক্তন মালিক মিখাইল খদরকোভস্কির বিচারের রায় বেরোনোর পরে বলেছিলেন যে, এর পরে বিদেশের লোকেরা আর রাশিয়াতে ব্যবসা করতে আসবেন না. মনে করা হয়েছে যে, এই বিষয় দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়েও তোলা হতে পারে দাভোস অধিবেশনে. এই বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারী আর্কাদি দ্ভরকোভিচ বলেছেন যে, দিমিত্রি মেদভেদেভ বিতর্কের জন্য তৈরী. একই সঙ্গে আর্কাদি দ্ভরকোভিচ বলেছেন যে কিছু বিদেশী বিনিয়োগ কারীর খদরকোভস্কির রায়ে নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও তা সামগ্রিক ভাবে রাশিয়ার বিনিয়োগের বাজারে কোন প্রভাব ফেলে নি – রায় বেরোনোর পরের সপ্তাহেই রাশিয়ার বিনিয়োগ বাজার পেয়েছে গত চার বছরের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যায় বিনিয়োগ.