প্রাকৃতিক দূর্যোগ স্বত্বেও বিশ্ব খাদ্য রপ্তানী বাজারে রাশিয়ার প্রধান দেশ হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে.রাশিয়ার ও বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞরাই এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন. বার্লিনে চলমান ‘সবুজ সপ্তাহ’ কৃষি প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ব্যাপক অংশগ্রহন এই সম্ভাবনারই প্রতিফলন ঘটায়.এই প্রদর্শনীতে রাশিয়ার প্রায় ৩০টি অঞ্চলের কৃষি কোম্পানীসমূহ অংশ নিয়েছে.

বিশেষজ্ঞরা বলেন যে,রাশিয়ার রয়েছে যথেষ্ট সম্ভাবনা.রাশিয়া বিশ্বের ১০ ভাগ কৃষিজ জমি,৫ ভাগ বিশুদ্ধ পানি মযুদকারী ও কৃষিজ সার উত্পাদনকারী একটি দেশ.শুধুমাত্র এই সব কারণে কৃষিজ পণ্য উত্পাদনে রাশিয়া অন্যতম ভূমিকা পালন করতে পারে.এই সম্ভাবনার কথার সত্যতা স্বীকার করেন রাশিয়ার পার্লামেন্ট দুমার কৃষি বিষয়ক কমিটির সহকারি প্রধান নিকোলাই হারিতোনভ.রেডিও রাশিয়াকে তিনি জানান,৫০০ মিলিয়ন জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সরবরাহ করার জন্য যা প্রয়োজন তা রাশিয়ার রয়েছে.অবশ্যই,এর জন্য পরিকল্পনামাফিক আমাদের সম্পদ ব্যবহার করা দরকার এবং সবার শুরুতে চাষযোগ্য জমি.আমরা প্রয়োজনীয় সময় চাহিদা অনুযায়ী কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সার সরবরাহ করব.আমাদের জমির উর্বরতা যাতে বৃদ্ধি পায়,আমরা সেই পদ্ধতি ব্যবহার করব.

কৃষিজ জমি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারা হচ্ছে একটি প্রধান সমস্যা.যদি শুধুমাত্র দেশের আবহাওয়ার ভিন্নতা অঞ্চল সম্পর্কে ধারনা থাকে তাহলে রাশিয়া কৃষিজ ব্যাবসায় সফলতা অর্জন করতে পারবে.তাই,প্রতিটি আলাদা অঞ্চলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শষ্য নির্বাচন প্রক্লপ শুরু করা দরকার এবং শষ্য সরবরাহের পদ্ধতিকে আরও বেশি সহজ করতে হবে.‘ইউনিগ্রেইন’ কোম্পানীর জেনারেল ডিরেক্টর আলেক্সেই দুইউমুলেন রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এ বিষয়ে বলেন,এই ব্যবসায় আমাদের আরও বেশি তত্পর হওয়া দরকার.আবহাওয়া অনুকুল এমন শষ্য যেমন- ভূট্রা ও মটর ডাল উত্পাদনে আমাদের চেষ্টা করতে হবে.শষ্য উত্পাদনে আমাদের যে ঘাটতি রয়েছে তা পূর্ন করা দরকার.আমাদের প্রস্তুতকারক ক্ষেত্রকেও আরও আধুনিকীকরন করতে হবে.

বিশ্বের অনেক খাদ্য রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০১০ সালের গ্রীষ্মকাল সুখকর ছিল না.উপরন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও নিয়মিত আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়ত ভবিষ্যতে রপ্তানী প্রতিষ্ঠানগুলোর উত্সাহ অনেক হারে কমে যাবে.তবে এই ক্ষেত্রে রাশিয়ার রয়েছে বাড়তি সুবিধা,রয়েছে বিশাল ভূখন্ড যা চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে.উল্লেখ করেন নিকোলাই হারিতোনভ.তিনি বলেন-নিঃসন্দেহে,রাশিয়ার বিশাল ভূখন্ড বছরের যে কোন সময়ই বৈরী আবহাওয়াতেও ব্যাপক কৃষিপণ্য চাষাবাদ করার উপযোগী.বলা যেতে পারে যে,যদি খাদ্য সংকট দেখা দেয় তাহলেও রাশিয়ায় শষ্য মজুদ আছে.

রাশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা জানায় যে,২০১০ সালের খড়া সত্তেও কৃষি ব্যবসায় তেমন সংকট পরে নি.উপরন্তু এ ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে,বিনিয়োগকারী পাওয়া যাচ্ছে এবং উত্পাদনের কাজকে আরও আধুনিকীকরন করা শুরু হয়েছে.