রাশিয়া আফগানিস্তানে ফিরে আসছে. কিন্তু সামরিক শক্তি নিয়ে নয়, অর্থনীতি নিয়ে. আফগান নেতা হামিদ কারজাই ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের মস্কো বৈঠকের এটাই প্রধান ফল.

    মস্কোতে সরকারি সফর কারজাই এই প্রথমবার এসেছেন. উচ্চ পর্যায়ের এই সাক্ষাত্কার রুশ – আফগান সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল. সাধারন ভাবে সামান্য কিছু সময় আগের ইতিহাস মনে করলে সোভিয়েত দেশের এই দেশে সামরিক অনুপ্রবেশের কথাই মনে পড়ে. কিন্তু ইতিহাস কখনোই শুধু সাদা বা কালো হয় না. সোভিয়েত উপস্থিতির সময়ে আফগানিস্তানে তৈরী হয়েছিল বিদ্যুত শক্তি উত্পাদন, পরিকাঠামো প্রকল্প, সামাজিক প্রকল্প, আফগানিস্তানের বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ এই সব কিছুই. এই ধরনের সহযোগিতাই আবার শুরু করা হতে চলেছে সম্পূর্ণ ভাবে, এই কথাই বিশেষ ভাবে উল্লেখ করে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "উদাহরণ হতে পারে বিদ্যুত শক্তি উত্পাদন প্রকল্প গুলি রাশিয়ার কোম্পানী গুলি এর মধ্যেই নাগলু জল বিদ্যুত কেন্দ্রের আধুনিকীকরণের কাজ করছে, আফগানিস্তানের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় তৈরী করা হচ্ছে ছোট বিদ্যুত উত্পাদন কেন্দ্র. আমরা এই দেশের অন্যান্য রাজ্যেও নতুন জল বিদ্যুত প্রকল্প তৈরী করার কথা ভাবছি. তাছাড়া একসাথে অনেক গুলি প্রকল্পের পুনর্গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে, যা আফগানিস্তানের জন্য তাত্পর্য পূর্ণ: সালাঙ্গ উপত্যকার সুড়ঙ্গ পথ ও সড়ক, নাইট্রোজেন সারের কারখানা, মাজারি শরীফের তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র, গৃহ নির্মাণের জন্য কারখানা. আমরা চাইব কোন না কোন ভাবে রাশিয়া যেন আফগানিস্তানে নিজেদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে পারে".

    আসন্ন সময়ে অন্যান্য কিছু প্রকল্পের বিষয়ে চুক্তি হবে, যেমন, রেল পথ নির্মাণ ও পরিবহন এবং প্রাথমিক পর্বে শক্তি উত্পাদন ও জ্বালানী পরিশোধন কেন্দ্র. এখানে তাজিকিস্থান থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান অবধি বিদ্যুত সরবরাহের জন্য প্রকল্পে রাশিয়ার অংশ গ্রহণ ও তুর্কমেনিয়া – আফগানিস্তান – পাকিস্তান – ভারত গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পেও রাশিয়ার অংশ নেওয়া.

    হামিদ কারজাই উল্লেখ করেছেন রুশ আফগান সম্পর্কের মৈত্রী অনুভবের কথা ও রাশিয়া যে আফগানিস্তানকে স্থিতিশীল ও সার্বভৌম দেশ হিসাবে দেখতে চায় তার কথা. তিনি বলেছেন:

    "আমরা দেখতেই পাচ্ছি আমাদের সম্পর্কের আত্ম বিশ্বাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া ও উন্নতি. কারণ রাশিয়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতই মনে করে যে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি বর্তমানে যা হয়েছে ও এই অঞ্চলে যা হচ্ছে তা বিপজ্জনক. আর অবশ্যই আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতার প্রয়োজন রাশিয়া বুঝতে পারে, প্রগতি চায়. যাতে আফগানিস্তান একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামোর ভরসা করার উপযুক্ত দেশ হতে পারে, যার উপরে নির্ভর করা সম্ভব".

    একই সঙ্গে রাশিয়া আফগানিস্তান ও অন্যান্য দেশকে এক সঙ্গে লড়তে হবে বর্তমানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সঙ্গে – মাদক পাচারের সঙ্গে. আফগানিস্তানের এই মরণ বাহী ব্যবসা আজ বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির স্বাস্থ্য নষ্ট হওয়ার কারণ হয়েছে, এই ব্যবসা বিগত কিছু বছরে দ্রুত বেড়ে গিয়েছে. মস্কো ও কাবুল মনে করে এই সমস্যার মোকাবিলা করা দরকার সার্বিক ভাবে: মাদক উত্পাদন, পরিশোধন, পাচার ও তা ব্যবহার করা সর্বত্র. আফগানিস্তানের মাদক বিরোধী পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণের ভার এর মধ্যেই রাশিয়া করছে. রাশিয়া ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহারের পরেও এই দেশকে সহায়তা না করে থাকবে না.

    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি আহ্বান করেছেন আফগানিস্তানকে আঞ্চলিক সংস্থা গুলিতে সক্রিয় ভাবে যোগ দেওয়ার জন্য, যেমন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি এই দেশে প্রত্যুত্তরে সফরে যাবেন. এই আলোচনার ফলশ্রুতি হিসাবে দুই রাষ্ট্রপতির সম্মিলিত ঘোষণা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আর্থ বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে.