আজ ২০০৩ সালে শুরু হওয়া ছয় পক্ষ ও ইরানের আলোচনা নামে দীর্ঘসূত্রী দাবা খেলা আবার শুরু হয়েছে. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানীর সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধি দল এবারে দেখা করার জায়গা বেছে নিয়েছে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে.

    জেনেভা শহরে সাক্ষাত্কারের সময়ে যে কাঠামো ছিল, এবারেও সেই কাঠামো বজায় রাখা হয়েছে. এটাকে এক রকম ভাবে ইরানের পক্ষ থেকে যদিও বাধ্য হয়ে, তবুও ছাড় বলে মনে করা যেতে পারে. জেনেভা আলোচনার আগে ইরান দাবী করেছিল অন্যান্য দেশকে ডেকে এনে আলোচনার অংশগ্রহণ কারী দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে, তার মধ্যে ছিল ব্রাজিল ও তুরস্ক. এই ধারণা কিন্তু রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মানতে পারে নি – কাঠামো আগের মতই আছে, যার সঙ্গে ইরানকে ইচ্ছা অনিচ্ছা ভুলে মেনে নিতে হয়েছে.

    ইস্তাম্বুলের বৈঠকের আগে প্রথমবার বিদেশী প্রতিনিধি দলকে ইরানের পারমানবিক কেন্দ্র গুলি পর্যবেক্ষণ করতে ডাকা হয়েছিল, কিন্তু এই ভঙ্গীকে ঠাণ্ডা প্রতিধ্বনি তুলেছিল, কারণ অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে, পারমানবিক কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করার কথা বিশেষজ্ঞদের, কূটনীতিবিদদের ভ্রমণে কারও প্রয়োজন নেই.

    ফলে আপাততঃ ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার শান্তিপূর্ণ চরিত্র সম্বন্ধে বিচার করা চলতে পারে তেহরানের প্রতিনিধিদের কথার উপরেই শুধু নির্ভর করে. মস্কো শহরে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ চরিত্র নিয়ে আবারও ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আলি আসগর সলতানিয়ে, তিনি বলেছেন:

    "ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরান কোন পারমানবিক অস্ত্র বানানোর কাজ করছে না. এটা ঠিক যে, আমাদের দেশে বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রযুক্তি আছে. আমরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজ থেকে বিরত হব না, আর আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গেও সহযোগিতা বন্ধ করব না. আমরা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে সবচেয়ে খুঁটিয়ে আমাদের সমস্ত পারমানবিক কেন্দ্রের প্রতিটি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দিয়েছি. আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য উদাহরণ. আমরা সবসময়েই এবং এখনও এই সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করছি. তাই বিশ্ব সমাজ জানে যে, ইরানের পারমানবিক কাজকর্ম শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ চরিত্র বহন করে. আমি আশা করব যে সমস্ত দেশই বুঝতে পারবে বাস্তবে এটাই হচ্ছে এবং বিরোধের বদলে সহযোগিতার পথকেই বেছে নেবে".

    কিন্তু তাও ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার শান্তিপূর্ণ চরিত্র ইরানকেই প্রমাণ দিতে হবে. তা কি করে হবে? এই প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজা হবে ইস্তাম্বুলের বৈঠকে, আর এই আলোচনা – সহজ কাজের মধ্যে পড়ে না.

    এই সম্বন্ধে রাশিয়ার রাজনৈতিক কাঠামো অনুসন্ধান কেন্দ্রের ডিরেক্টর সের্গেই মিখিয়েভ বলেছেন:

    "এই বৈঠকে যে কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রগতি হতে পারে, তার সম্বন্ধে সন্দেহ রয়েছে. কারণ হল যে, পশ্চিমের দেশ গুলির অবস্থান, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের তথ্য সম্বন্ধে এখনও অবস্থান খুবই কড়া. তা স্বত্ত্বেও, এই পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর পথ বার করা দরকার. এই সূত্রে আশা করতে ইচ্ছা হচ্ছে যে, ইস্তাম্বুল শহরে বৈঠকে আলোচনায় অংশ গ্রহণ কারীরা এই কানা গলি থেকে বেরোনোর একটা উপায় বার করতে সক্ষম হবেন. কারণ নিষেধাজ্ঞার সময় কাল অনির্দিষ্ট হতে পারে না, আর ইরানের সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা ছাড়া অন্য কোন পথও নেই".

    এখন সমস্ত পক্ষ একেবারে আসন্ন ভবিষ্যতে গঠন মূলক কোন আলোচনা শুরু করতে পারবেন কি না, তা শুধু ইস্তাম্বুল বৈঠক শেষ হওয়ার পরেই বুঝতে পারা যাবে. আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ইরান তাদের দিক থেকে বৈঠকের কাঠামো সম্বন্ধে দাবীর বিষয়ে সান্ত হয়েছিল. অথবা যদি দাবা খেলার ভাষায় বলতে হয়, তবে বাল ঠিক হবে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরান ইস্তাম্বুলের বৈঠকের আগে ঠিক করেছে একটা ফাঁদ পাতার চাল দেবে. ছোট ঘুঁটি হারাতে তৈরী হয়েছে বড় কিছু পাওয়ার আশায় – পশ্চিমের দেশ গুলির দিক থেকে ইরানের প্রতি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দাবীর শক্ত ভাব কমাতে. এই কৌশল কি কাজে লাগবে? শীঘ্রই জানা যাবে.