আজ – রাশিয়াতে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই এর দুই দিন ব্যাপী সরকারি সফরের প্রথম দিন. তাঁর সঙ্গে এসেছেন মন্ত্রী সভার এক প্রতিনিধি দল ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা. সবচেয়ে আলোচিত বিষয় গুলির মধ্যে রয়েছে – আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা আনার প্রচেষ্টার ভবিষ্যত, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি দিয়ে আফগানিস্তানের সেনা বাহিনীকে সমৃদ্ধ করার প্রস্তাব. ২১ শে জানুয়ারী রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই দেখা করবেন.

    এই সফরকে রাশিয়ার আফগানিস্তানে প্রত্যাবর্তনের মত বলে সম্মিলিত পরিস্থিতিতে দেখা সম্ভব. বিগত বছর গুলিতে আফগানিস্তানের সঙ্কট বাড়ার সময়ে রাশিয়ার সেখানে উপস্থিতির বিষয়ে নির্দিষ্ট শূণ্য স্থান তৈরী হয়েছিল. বর্তমানে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে. কাবুলে আবার নতুন করে দূতাবাস খোলা হয়েছে. রাশিয়ার কোম্পানীরা এই দেশের বিদ্যুত শক্তি সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্স্থাপনা করছে. গত হেমন্তে নাগলু জল বিদ্যুত কেন্দ্রের নতুন করে তৈরী করা জেনারেটর চালু করা হয়েছে. আশা করা হয়েছে যে, এখন আফগান পক্ষ থেকে এই দেশের অর্থনীতির অন্যান্য বড় পরিকাঠামোর অঙ্গ গুলিকে পুনর্স্থাপনা করার প্রস্তাব করা হবে. তার মধ্যে রয়েছে – সালাঙ্গ উপত্যকার গিরি কন্দরের সুড়ঙ্গ এবং সড়ক পথ, কাবুলের পলি টেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়. আরও একটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে – জ্বালানী. বর্তমানের শীতে এই দেশে ইরানের থেকে সরবরাহ বন্ধ হওয়াতে খনিজ তেল উদ্ভূত জ্বালানীর বিষয়ে সঙ্কট দেখা দিয়েছে. কাবুল এর মধ্যেই মস্কোর কাছে নিয়মিত সরবরাহের জন্য সাহায্য চেয়েছে, আর সম্ভাবনা রয়েছে এই দেশের নিজেদের খনিজ তেল পরিশোধন করা কারখানা তৈরী করা. এই প্রশ্ন গুলিকে বর্তমানে আলোচনা করা হচ্ছে.

    একই সময়ে আফগানিস্তানের সামরিক পরিস্থিতি আগের মতই যথেষ্ট সঙ্গীণ. কিন্তু রাশিয়া পশ্চিমের দেশ গুলির জোটে নিজেদের বাহিনী পাঠিয়ে সাহায্য করতে তৈরী নয়, এই কথা দেশের নেতৃত্ব বহুবারই বলেছেন. এই ব্যবস্থা ছাড়াও কাবুলের সঙ্গে সামরিক বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য বিরাট ক্ষেত্র রয়েছে, বলে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মী ভ্লাদিমির সোতনিকোভ, তিনি বলেছেন:

    "রাশিয়া আফগানিস্তানকে রাষ্ট্রীয় সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে পরামর্শ দাতা পাঠিয়ে সাহায্য করতে প্রস্তুত. সামরিক রসদ ও মানবিক সাহায্য পাঠাতে তৈরী, যা এখনই করা হচ্ছে. পুরনো যুদ্ধাস্ত্র বদলে দেওয়া হচ্ছে. কিন্তু আফগানিস্তানের সমস্যার সমাধানে সামরিক ভাবে অনুপ্রবেশ করতে রাশিয়া যাবে না".

    গত কিছু মাস ধরে মস্কো আফগানিস্তানের সেনা বাহিনীর জন্য মি – ১৭ হেলিকপ্টার সরবরাহ করা নিয়ে ভেবেছে.পাহাড়ী জায়গায় খুব ভাল কাজ করতে সক্ষম এই রাশিয়ার যন্ত্র গুলি কেনার জন্য ন্যাটো জোটের দেশ গুলি এক বিশেষ তহবিল গঠন করেছে, তাই মনে হয় কারজাই এর বর্তমান সফরের সময়ে হেলিকপ্টার সংক্রান্ত প্রশ্নে সিদ্ধান্ত হয়ত শেষ অবধি হয়েই যাবে. যোগ করা উচিত্ যে, রাশিয়ার মধ্য দিয়ে ন্যাটো জোটের রসদ পাঠানো হচ্ছে আফগানিস্তানে, সুতরাং মস্কো ও ন্যাটো জোটের পারস্পরিক আলোচনার জন্য আফগানিস্তান এক অনুঘটকের কাজ করছে.

    গত বছরের গরমে মস্কোতে আফগানিস্তানের মাদক উত্পাদন সমস্যা নিয়ে এক সম্মেলন হয়েছিল. সেখানে বক্তৃতা করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন যে, আফগানিস্তানের আফিম জাত দ্রব্য শুধু রাশিয়ার জন্যই নয়, এমন কি ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার জন্যও বিপজ্জনক. তাই মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে যুদ্ধ – মস্কো ও কাবুলের সহযোগিতার এক অতি গুরুত্বপূর্ণ দিক. মস্কো আফগানিস্তানের মাদক মোকাবিলা পুলিশ বাহিনী প্রশিক্ষণের কাজ করছে, প্রস্তাব করেছে মাদকের চালান ও ল্যাবরেটরী সম্বন্ধে তথ্য বিনিময় করার.

    মাদক পাচারের সঙ্গে মোকাবিলা সম্বন্ধে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে যে নির্দিষ্ট তফাত রয়েছে তা সত্য. মস্কো থেকে আফগানিস্তানের আফিম চাষকে যে একেবারে সমূলে ধ্বংস করার প্রস্তাব করা হয়েছে, তা আফগানিস্তানের নেতৃত্ব এখনও মেনে নিতে পারে নি.

    এই সমস্ত প্রশ্ন অবশ্যই আলোচনার বিষয়, এই কথা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কিন্তু মস্কোতে আলোচনার সময়ে সমস্ত বাধা দূর হতেই পারে.