২০১৬ সালের মধ্যে নাসা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পাইলট নিয়ন্ত্রিত মহাকাশ যান বানাতে পারে না. আমেরিকার কংগ্রেসের কাছে পেশ করা রিপোর্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা নাসা এই রকমের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে. এর অর্থ হল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মালপত্র ও মহাকাশচারী পাঠানোর সমস্ত ভার পড়বে রাশিয়ার সইউজ মহাকাশ যানের উপরে.

    নাসাতে নিজেদের ধীরগতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে পরিকল্পনা খাতে যথেষ্ট অর্থাভাব দিয়ে. কিন্তু আমেরিকার স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা অন্য কারণ মনে করেছেন. তাঁরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, যে কোন রকমের, এমনকি খুব ভাল অবস্থাতেও নতুন মহাকাশযান ২০১৮ সালের আগে বানানো সম্ভব নয়, এমনকি ২০২০ সালও হয়ে যেতে পারে. তার মধ্যে শাটল পাঠানোর যুগ শেষ হতে চলেছে. ২৪শে ফেব্রুয়ারী ডিসকভারি মহাকাশ যানের উড়ান ও ১৯শে এপ্রিল এন্ডেভর মহাকাশ যানের শেষ বারের মতো উড়ান হওয়ার কথা. এই যাত্রা হবে শেষ বারের মতো, যদি না অবশ্য আতলান্তিস মহাকাশ যানের আরও একটি উড়ানের আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়. আপাততঃ তা নিয়ে চিন্তা করা চলছে, আর তা শুধু মাত্র বাজেটের জন্যই নয়. ডিসকভারি মহাকাশ যানকে যে আতলান্তিস মহাকাশ যানের জ্বালানী ট্যাঙ্ক জুড়ে পাঠাতে হতে পারে, তার সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যাচ্ছে না. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, ডিসকভারি মহাকাশ যানের জ্বালানী ট্যাঙ্কের চিড় বর্তমানে সকলের কন্ঠস্থ হয়ে গেছে, তাই বর্তমানে এই পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে.

    এখানে একটা প্রতীকী বিষয় হল, রাশিয়ার সইউজ মহাকাশ যান মানুষের প্রথম মহাকাশ ভ্রমণের পঞ্চাশ বছর পূর্তির বছরে অন্যতম মহাকাশ পরিবাহক হতে চলেছে. যাতে মহাকাশ স্টেশনে যান পাঠানোর বিষয়ে আরো বেশী নমনীয় সময় সূচী করা যায়, তাই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই ধরনের মহাকাশ যান বছরে চারটির জায়গায় পাঁচটি বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. আর এটা, সন্দেহ নেই যে, আমাদের সম্ভাবনাকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে প্রসারিত করবে, এই কথা মনে করে মহাকাশ গবেষণা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ইগর লিসভ বলেছেন:

    "২০০৯ সাল থেকে যখন মহাকাশ স্টেশনে এক সঙ্গে থাকতে পারে এমন মহাকাশচারীর সংখ্যা ছয় অবধি করা হয়েছে, আমাদের বদলের সময়ে পর্যটক নেওয়ার সম্ভাবনা বন্ধ হয়ে গেছে. তার জন্য দরকার ছিল মহাকাশ স্টেশনে পাঁচ জন মহাকাশ চারী রাখার ও ছয় নম্বর ব্যক্তি শুধু বেড়িয়ে ফিরে আসবে. পঞ্চম মহাকাশ যান সইউজ এই ফাঁক বাড়াতে সাহায্য করবে ও ছয় জন মহাকাশ চারী সমেত স্থায়ী দলের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আরও লোক সঙ্গে নিতে পারবে. যদি বাড়তি মহাকাশ যান থাকে, তবে বাড়তি লোকও নেওয়া যাবে. তাকে মহাকাশ স্টেশনে না পাঠিয়ে আমাদের একজন ক্যাপ্টেন সমেত দুজন মহাকাশ পর্যটক দিয়ে যে কোন কক্ষ পথেই ঘুরিয়ে আনা সম্ভব হবে".

    সুতরাং, মহাকাশ পর্যটনও ফিরে আসছে. ২০১৩ সাল থেকে মহাকাশ স্টেশনে প্রতি বছরে তিনজন লোককে ঘুরতে পাঠানো যাবে, এই খবর স্পেস অ্যাডভেঞ্চার কোম্পানী থেকে দেওয়া হয়েছে. যারা ইচ্ছুক তাদের সংখ্যা কমে নি, বরং খরচ বেড়েছে. কিন্তু সইউজ মহাকাশ যানের প্রধান কাজ হল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বদলী মহাকাশ চারী পাঠানো. ২০১২ -১৩ সালে নাসা রসকসমস সংস্থার সঙ্গে নিজেদের অ্যাস্ট্রোনট দের জন্য বারোটি জায়গা বায়না করেছে, সইউজ মহাকাশ যান দিয়ে পাঠানোর জন্য. আগামী সময়ে আরও বারোটি জায়গা কেনার কথা হচ্ছে. হঠাত্ করে লোকজন কে মহাকাশ স্টেশন থেকে ফিরিয়ে আনার জন্যও রাশিয়ার মহাকাশ যানই ভরসা.

    আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কাজ করার ক্ষমতা বজায় রাখাই শুধু রাশিয়ার মহাকাশ পরিকল্পনার একমাত্র কাজ নয়, একই সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করেছে চন্দ্র অভিযান মুলতুবি রাখার, রাশিয়া স্বয়ংক্রিয় মহাকাশ যান ব্যবহার করে তিরিশ বছর বাদে আবার খুব বেশী করে দূর মহাকাশ গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. বর্তমানে জোর কদমে চলছে, লুনা - রিসোর্স ও লুনা – গ্লোব মহাকাশ যান তৈরী করার কাজ, যা পৃথিবীর এই উপগ্রহে স্থায়ী ভাবে কাজ করার জন্য রাশিয়ার ঘাঁটি হিসাবে পাঠানো হবে. প্রথম উড়ানের সময় ঠিক করা হয়েছে ২০১২ – ১৩ সালে.

    এই বছরের শেষে মঙ্গল গ্রহে রাশিয়ার স্টেশন ফোবোস – গ্রুন্ত (মাটি) মহাকাশ যান পাঠানো হবে. অনতিপূর্ব এই যাত্রার ফলে মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ ফোবোস থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে আনা হবে ও সেখানে ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদের বীজ ও ফাঙ্গাস সমেত ক্যাপসুল পাঠানো হবে. বৈজ্ঞানিক দের কাছে উপস্থিত মহাকাশ রশ্মি বিকীরণের পরে জীবন্ত দেহে কি প্রভাব পড়ে তার এক বিরল উদাহরণ. এর উপরে নির্ভর করেই পরবর্তী কালে বহু সময় সাপেক্ষ মহাকাশ যাত্রা, যেমন সেই মঙ্গল গ্রহেই মানুষের যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরী করা সম্ভব হবে.

    অন্যান্য রাশিয়ার মহাকাশ যানও পাঠানো হবে, যাতে তারা সূর্যের সম্বন্ধেও গবেষণা করতে পারে ও বহু দূরের অন্য গ্যালাক্সির গ্রহ দের উপরেও নজর রাখতে পারে. রাশিয়ার ভস্তোচনি মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে, যেখান থেকে বেশীর ভাগ উড়ান পরবর্তী কালে করা হবে, আর মহাকাশ পর্যটন কারীদের জন্য প্রথম কক্ষ পথের হোটেল খোলাও হবে.