পশ্চিমের দেশ গুলি ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনাকে খুবই বড় করে দেখাচ্ছে. এই ঘোষণা শুনতে পাওয়া গেল খুবই প্রভাবশালী বিশেষজ্ঞ – প্রাক্তন আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার জেনেরাল ডিরেক্টর মুহামেদ আল – বরাদেই এর কন্ঠ থেকে. ইস্তাম্বুল শহরে ছয় মধ্যস্থতা কারী দেশের আসন্ন তেহরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার আগে এই মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে. আর তা উইকিলিক্স সাইটে প্রকাশিত নতুন পর্বের স্ক্যাণ্ডাল তৈরী করা খবরের একটা উত্তর ও হয়েছে.

ইরানের পারমানবিক বোমা তৈরী করার জন্য তিরিশটি দেশ সরাসরি বা অন্যের মাধ্যমে অংশ নিয়েছে. এই রকমের একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে নরওয়ে দেশের সংবাদপত্র "আফটেনপোস্টেন", যারা উইকিলিক্স সাইটে প্রকাশিত বেশ কয়েক শ আমেরিকার কূটনৈতিক চিঠি পত্রের উপরে গবেষণা করেছে. সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী বিগত চার বছরে ৩৫০ এরও বেশী ইরানী কোম্পানী রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিশ্বের বৃহত্তম বেশ কিছু প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি তৈরী করার কোম্পানীর সঙ্গে চুক্তি করেছে. আর এখন নাকি পারমানবিক বোমা তৈরী হওয়ার কাজ শেষ হওয়ার মুখে.

রাশিয়া ও ফ্রান্স শুধু এই সমস্ত দেশের তালিকায় উল্লিখিত, যারা তেহরানের সঙ্গে সম্ভবতঃ পারমানবিক বোমা তৈরী করার কাজে সহযোগিতা করেছে. বেশীর ভাগ প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার কাজ তেহরান করেছে চিনে, আর এই কাজে সক্রিয় ভাবে সাহায্য করেছে ইউক্রেনের বৈজ্ঞানিকেরা. আমেরিকা ও জার্মানীর কোম্পানী গুলির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে শুধু সেই সমস্ত ক্ষেত্রে, যে সব চুক্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল.

উইকিলিক্স যে সমস্ত তথ্য প্রকাশ করেছে, তা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা দরকার. তার উপরে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত যে কোন ধরনের তথ্যই শতকরা নিরানব্বই ভাগ ফাটকা বাজী. এই কথা মনে করে স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

"এসব তথ্য তেমন ইরানের দিক থেকে, তেমনই সেই সমস্ত দেশের দিক থেকে, যারা ইরানকে সমস্ত ধরনের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের বিষয়ে অপরাধী সাব্যস্ত করতে চায়, একটা ফাটকা বাজীর মতো ব্যাপার. প্রথমতঃ, একেবারেই বোধগম্য নয় যে, ইরানের পারমানবিক বোমা বানানোর মত ক্ষমতা বাস্তবে রয়েছে কিনা. জানা আছে যে, সেই দেশের ইউরেনিয়াম খনি থেকে পাওয়া যায়, খুবই অসমৃদ্ধ অবস্থায়, আর পারমানবিক বোমা বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিমানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তাদের পক্ষে বাস্তবে তৈরী করাই সম্ভব নয়. দ্বিতীয়তঃ, ইরানের পক্ষে পারমানবিক বোমা বানাতে পারে এমন দেশের মত নিজেদের ইমেজ খুবই লাভজনক, এটা আহমাদিনিজাদের প্রশাসনের নিজের জন্যই খুব দরকার. তার কয়েকটা কারণও রয়েছে, প্রধান কারণ – নিজেকে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতা হিসাবে দেখানো খুব দরকার. আর পশ্চিমের সম্বন্ধে বলতে হলে বলা দরকার যে, তাদের ইরানকে সমস্ত রকমের ভয়ঙ্কর অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত করতে পারা খুব দরকার. কারণ আমেরিকার জন্য নিকট প্রাচ্যে যথেষ্ট পরিমান সামরিক উপস্থিতি দিয়ে পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসার জন্য এই রকমের একটা কাকতাড়ুয়া রাখা খুবই দরকার".

এই ধরনের দৃষ্টিকোণ আরও যুক্তিসঙ্গত মনে হয় বিগত কিছু বছরে নিকট প্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির দিকে দেখলে. সাদ্দাম হুসেইনের সময়ে বলা হয়েছিল যে, তাঁর দেশ ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র বানাচ্ছে. ইরাক ধ্বংস করে দেওয়া হল, অস্ত্র খুঁজে পাওয়া গেল না. এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ফাঁকা জায়গা ভরাট করার জন্য আহমাদিনিজাদের প্রয়োজন.

তাই আল – বরাদেই মনে করেছেন যে, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সমস্যা সংক্রান্ত প্রশ্নে অনেক বাড়িয়ে বলা কথা রয়েছে. আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার জেনেরাল ডিরেক্টর নিজের কথার সমর্থনে এক রিপোর্টের উল্লেখ করেছেন, যা আমেরিকার সংবাদ মাধ্যম ২০০৭ সালে বানিয়েছিল. তাতে বলা হয়েছিল যে, ২০০৩ সালেই ইরান পারমানবিক বোমা বানানোর কাজ স্থগিত করেছে. আর এই ব্যাখ্যা ইজিপ্টের কূটনীতিবিদের মতে এখনও অবধি নিজের বাস্তব চরিত্র হারায় নি.