২০১১ সাল রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে অরণ্য সংরক্ষণ বর্ষ বলে অভিহিত হয়েছে. বিশ্ব সমাজের মনোযোগ এই বছর থাকবে বনাঞ্চলের সমস্যা ও তার হিসেবী ব্যবহার সম্বন্ধে.

    রাশিয়ার জন্য বনাঞ্চল সংরক্ষণের সমস্যা সবসময়েই ছুল খুবই বাস্তব. বিগত বছরের গরম কালে দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে অনতিপূর্ব এলাকা জুড়ে দাবানল প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এই ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নির্ণয় ও তার পরবর্তী অবস্থা থেকে উদ্ধার সম্পূর্ণ অন্য আরও উচ্চ পর্যায়ে হওয়া দরকার. এই অর্থে রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ.

    দাবানল থেকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দেশের ইউরোপীয় অংশের বনাঞ্চল. দেশের অরণ্য সম্পদের অতুলনীয় ক্ষতি করা ছাড়াও (রাশিয়াতে বিশ্বের একের পঞ্চমাংশ কাষ্ঠ সম্পদের ভান্ডার রয়েছে, এর চেয়ে বেশী রয়েছে শুধু ব্রাজিলে) দাবানলে শুধু দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয় নি. এর ফলে পাখি ও তৃণভোজী প্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান ধ্বংস হয়েছে, রাশিয়ার বহু অঞ্চলই দেশের মানচিত্রে বর্তমানে ব্যবহার ও মনুষ্য বসতির অযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছে. বিশ্বের মাপে আবহাওয়াতে ছড়িয়ে পড়া বিশাল পরিমানে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস ও অন্যান্য অগ্নিকাণ্ড থেকে তৈরী হওয়া পদার্থ নেতিবাচক ভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে.

    বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা বেশী মনোযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ বনাঞ্চলের জায়গা গুলি পুনরুদ্ধারের. আর বিজ্ঞানীদের মতে, এই সমস্যা যেমন আঞ্চলিক ভাবে, তেমনই রাষ্ট্রীয় ভাবে সমাধান করা দরকার. ২০১০ সালের গরমে যে ক্ষতি হয়েছে, তা আশাবাদী মূল্যায়ণ করলেও রাশিয়ার অরণ্য সম্পদের জন্য সব মিলিয়ে যথেষ্ট রকমের সংবেদন শীল. রাশিয়ার জাতীয় সভার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের প্রধান ভিক্তর অরলোভ এই দৃষ্টিকোণ কেই সমর্থন করে বলেছেন:

    "আমাদের প্রত্যেক বছরে প্রায় দুই হাজার হেক্টর বন নষ্ট হয়ে থাকে. একটা সাধারন হিসাব হল – ২০০ থেকে ৬০০ টি গাছ এক হেক্টরে থাকে, অর্থাত্ গড়ে হচ্ছে – পঞ্চাশ লক্ষ গাছের কাণ্ড, যা গত বছরে দাবানলে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে. কিন্তু রাশিয়াতে প্রতি বছরেই এত খানি করে নতুন বন রোপন করা হয়ে থাকে. এটা কম, কিন্তু তাও... নতুন বন রোপন করে প্রাকৃতিক ও মানুষের সৃষ্টি প্রযুক্তিগত বিপর্যয় থেকে ক্ষতিপূরণ করা এখনও সম্ভব হচ্ছে না".

    রাশিয়াতে শুধু দাবানল হয় না, গত বছরে বেশ কিছু ইউরোপের দেশে দাবানল হয়েছে – বেশী করে হয়েছে গ্রীস ও পর্তুগালে. বন – এটা একটা ভৌগলিক ধারণা, তার কোন সীমান্ত নেই. আর যদি রাশিয়াতে দাবানল হয়, তবে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে প্রতিবেশী দেশ গুলিতেও, যেমন, ফিনল্যান্ডে. তাই প্রয়োজন সক্রিয় ভাবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার. রাশিয়া এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বহু দেশের সঙ্গেই চুক্তি অনুযায়ী সহযোগিতা করে চলেছে. "মেগাফরেস্টাস" প্রকল্পে অংশ গ্রহণ করাতে সমস্যা সম্বন্ধে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করার ভাল সুযোগ হয়েছে. এই প্রকল্পে অংশ নিয়েছে দশটি দেশ, যাদের সীমানার মধ্যে বিশ্বের সমগ্র বনাঞ্চলের শতকরা ৭৫ ভাগ রয়েছে. এরা হল – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, রাশিয়া, ব্রাজিল, চিন, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কঙ্গো ও ক্যামেরুন.

    বন – এটা সমগ্র বিশ্বের জীব জগতের কাঠামো, বিজ্ঞানীরা এই কথাই বলেন. রাশিয়া- এখানে বিশ্বের একের পঞ্চমাংশ বনাঞ্চল রয়েছে, তার কাঁচা মাল যোগানের ক্ষমতা প্রভূত রকমের. আর এই অরণ্যের সম্পদের কি ধরনের অবস্থা ও তা কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপরে শুধু রাশিয়ার আবহাওয়াই নির্ভর করে না, বরং সারা বিশ্বেরই করে থাকে. তাই এখনকার ২০১১ সালে, যা রাষ্ট্রসংঘ বনাঞ্চল সংরক্ষণ বর্ষ বলে ঘোষণা করেছে, ক্ষতিগ্রস্থ বনাঞ্চলের পুনরুজ্জীবন ও সেই ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা একটি অন্যতম প্রধান বিষয় হতে বাধ্য.