আমেরিকার প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ জিম ও নিল, যিনি ব্রিক (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন) সংক্ষিপ্ত শব্দ টির এক স্রষ্টা, তিনি এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন. তিনি এই দ্রুত উন্নতিশীল বিশ্ব অর্থনীতির দেশ গুলির সঙ্গে যোগ করতে চেয়েছেন মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া দেশ কে.

ব্রিক কে প্রসারিত করার ধারণা অনেক দিন হল রয়েছে. গত বছরের শেষে এই দলে নতুন যোগ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা দেশ, আর এখন ঠিক হবে ব্রিকস দল বললে. যে সমস্ত দেশকে সম্ভাব্য নতুন যোগ দেওয়ার উপযুক্ত বলে ও নিল মনে করেছেন, অর্থাত্ তথাকথিত উন্নত করার মতো বাজার গুলিকেই যোগ করেছেন ও বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, এদের শুধু উন্নতিশীল অর্থাত্ ছোট ও বিক্রয়ের অযোগ্য জায়গা মনে করা হাস্যস্কর হবে. অর্থনীতিবিদের কথামতো এই দলের মধ্যে সেই সমস্ত দেশকে ঢোকানো ঠিক হবে, যাদের সার্বিক জাতীয় উত্পাদন বিশ্বের সার্বিক আভ্যন্তরীণ উত্পাদনের শতকরা এক শতাংশের বেশী. সম্মিলিত জাতীয় উত্পাদন এই সব নতুন দেশের বর্তমানে বিশ্বের সার্বিক আভ্যন্তরীণ উত্পাদনের শতকরা সাড়ে পাঁচ ভাগ. একই সময়ে এই সব দেশ গুলি বিগত সময়ে বিশ্বের রাজনৈতিক মঞ্চেও আরও বেশী করে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, এই কথা উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়া কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার কূটনৈতিক অ্যাকাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন বলেছেন:

"এই দেশ গুলি বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা আনার জন্যই শুধুমাত্র কাজ করতে পারে না. তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম. অংশতঃ, আঞ্চলিক বিবাদ গুলির সমাধানের বিষয়ে, পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলাতে ও বিশ্বে আবহাওয়া ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য".

বর্তমানে ব্রিক প্রতীক শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেই সমস্ত দেশের জন্য, যারা সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিতে চালিকা শক্তির ভূমিকা পালন করতে সক্ষম. জিম ও নিল সেই দৃষ্টিকোণ কেই সমর্থন করেন, যে আজ থেকে চল্লিশ বছর পরে এই চারটি দেশের অর্থনীতির সম্মিলিত পরিমান বড় সাতটি দেশের সম্মিলিত অর্থনীতির থেকে বেশী হবে. বিগত বছর গুলিতে এই ধারণা আরও বেশী করে সমর্থক খুঁজে পাচ্ছে, এই কথা সমর্থন করে আন্দ্রেই ভলোদিন বলেছেন:

"বিশ্ব অর্থনীতির সম্পূর্ণ রকমের পুনর্গঠন শুধু সে ক্ষেত্রেই হতে পারে, যদি এই চারটি দেশে সক্রিয় ভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি শুরু হয় - ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিন, আর তার সঙ্গে যোগ হয় অন্যান্য বড় দেশ গুলি যেমন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ কোরিয়া. এখানে কথা হচ্ছে যে, এই নতুন প্রভাবশালী দেশ গুলি মধ্য বিত্ত শ্রেনীর লোকসংখ্যা বৃদ্ধি করছে, দেশের জনসাধারনের দিক থেকে ক্রয় ক্ষমতা অনুযায়ী চাহিদাও বাড়াচ্ছে. আর এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আসছে এক প্রত্যাবর্তন অযোগ্য শক্তিশালী অর্থনৈতিক উন্নয়নের সময়, সক্রিয় পুনর্গঠনের সময়".

এই সবই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধীরে হলেও অন্য আকার নিচ্ছে. যে সমস্ত দেশ গুলি এই শতাব্দীর শুরুতে অগ্রণীর ভূমিকা নিয়েছিল, তারা নিজেদের নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্থান হারাচ্ছে. সেই সময়ে যে সমস্ত দেশ গুলিকে এই দশ বছর আগেও উন্নতিশীল দেশ বলে তৃতীয় বিশ্বের অংশ বলে মনে করা হতো, তারা আরও বেশী করে বিশ্বের অর্থনীতিতে প্রভাব সৃষ্টি করছে.