বিগত বছরে বিশ্বে অস্ত্র রপ্তানী ঐতিহাসিক ভাবে সবচেয়ে বেশী পরিমানে প্রায় ৭১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে. ঠাণ্ডা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে এটা রেকর্ড. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরই রাশিয়া এই ক্ষেত্রে পরিমানের দিক থেকে রয়েছে – গত বছরে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের. এই তথ্য দিয়েছে বিশ্বের অস্ত্র বাণিজ্য পরিসংখ্যান কেন্দ্র থেকে.

    এই প্রসঙ্গে বেশ কয়েকটি ধরনের অস্ত্রে রাশিয়া বর্তমানে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে, এই কথা রেডিও রাশিয়া কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এই কেন্দ্রের ডিরেক্টর ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

    "প্রথমতঃ এটা যুদ্ধোপযোগী বিমান বহর, অংশতঃ এস ইউ – ৩০ যুদ্ধ বিমান. এই জিনিসের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে. বহু দেশ, বিশেষত এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় বলয়ে আসন্ন বছর গুলিতে নতুন এস ইউ – ৩০ যুদ্ধ বিমান কিনতে চায়. আমি উল্লেখ করতে চাইব আরও নৌবাহিনীর সামরিক প্রযুক্তির কথা, এখানে কিলো শ্রেনীর ডিজেল চালিত ডুবো জাহাজ, নানা রকমের সামরিক জাহাজ ও ফ্রিগেট রয়েছে, যা খুব ভাল রকমের রপ্তানীর বায়না পেয়েছে. তাছাড়া খুব বেশী চাহিদা সামুদ্রিক গান বোটের, যা খুব ছোট হলেও অস্ত্র প্রয়োগ ক্ষমতায় অনেক বেশী এগিয়ে আছে. বায়ু নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামরিক যন্ত্রপাতির চাহিদাও প্রচুর, যার মধ্যে স্বল্প পাল্লার রকেট টর, মাঝারি পাল্লার বুক ও দূর পাল্লার রকেট এস – ৩০০ পে এম ইউ – ১, এস – ৩০০ পে এম ইউ – ২ রয়েছে. এই ধরনের প্রযুক্তি কেনার মত ক্রেতার চেয়ে আমাদের শিল্পের উত্পাদন ক্ষমতা বরং এই সব বিষয়ে কম".

    এই কারণেই আলমাজ – আন্তেই কনসার্ন দুটি নতুন কারখানা খুলতে চলেছে,, যা হলে দেশের ভিতরের ও বাইরের চাহিদার বেশীটাই পূরণ করা সম্ভব হবে. রাশিয়ার বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের জন্য সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশ – চিন ও অন্যান্য এশিয়ার দেশ, যারা নিজেদের দেশের বায়ু সীমা প্রতিরক্ষার বিষয়ে সম্পূর্ণ ভাবে নিশ্চিত হতে চায়:

    "আমাদের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা প্রচুর, যেমন, সেই ভিয়েতনামেই যারা এস – ৩০০ কিনেছে. আর তার সঙ্গে বোঝাই যাচ্ছে নিকট প্রাচ্যের দেশ গুলিও পেছিয়ে নেই. সেখানে আপাততঃ এস – ৩০০ ব্যবস্থা আপাততঃ পাঠানো হয় নি. কিন্তু বেশ কিছু বায়না এসে পড়ে আছে. আমি আশা করবো, আমেরিকা এই প্রক্রিয়া গুলিতে তত বেশী বাধা দেবে না, যতটা ইরানের ক্ষেত্রে দিয়েছে. মনে করি এস – ৩০০ সেই সিরিয়া ও অন্যান্য আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যের দেশ গুলিতে শীঘ্রই পৌঁছতে পারে".

    ২০১০ সালে সবচেয়ে বেশী অস্ত্রের ক্রেতা দেশ অস্ট্রেলিয়া, যারা প্রায় সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনেছে. এর মধ্যে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই বলে ইগর করোতচেঙ্কো মনে করেছেন:

    "অস্ট্রেলিয়া নিজেদের দেশের সামুদ্রিক ও বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে. এই দেশ নিজেদের অ্যাংলো স্যাক্স সহকর্মী দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করছে, তার মধ্যে নিউজিল্যান্ড রয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন সকলেই আছে. এখানে তারা এক সাথে কাজ করছে. তাছাড়া সামরিক প্রযুক্তি কেনার বিষয়ে বাজেট বাড়ানোর কারণ চিনের সক্রিয় ভাবে সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বৃদ্ধি. বহু দেশই এই প্রক্রিয়া লক্ষ্য করে, নিজেদের দেশের সামরিক প্রযুক্তি পাল্টানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে. আমরা অস্ট্রেলিয়াকে বোঝাই যাচ্ছে কিছুই সরবরাহ করছি না, এটা হলে অবাক হওয়ার মতো ঘটনা হতো. কিন্তু এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিশাল, আর সেই সমস্ত দেশ যেমন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, চিন, ভারত, বর্মা ও অন্যান্য বহু দেশই আমাদের হয় ক্রেতা হিসাবে পরিনত হয়েছে বা হচ্ছে".

    বিশেষজ্ঞের মতে, অর্থনৈতিক সঙ্কট সরাসরি বিশ্বের অস্ত্র ব্যবসায়ে কোন প্রভাব ফেলে নি. যদিও প্রতিটি এলাকায় আলাদা করে এটা দেখা দরকার. যেমন, গ্রীস বেশ কিছু চুক্তি বাতিল করেছে, আর সেই সমস্ত দেশ, যেখানে সঙ্কটের ছাপ পড়েছে কম, তারা কিনেই চলেছে. যেমন, সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব রাজ তন্ত্র গুলি একই রকম ভাবে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স থেকে অস্ত্র সম্ভার কিনেই চলেছে.