দ্রুত পরিবর্তন শীল বিশ্ব জ্বালানী শক্তি বাজার রাশিয়ার পক্ষ থেকে এতদিন ধরে চলে আসা লক্ষ্য পাল্টানোর দাবী করেছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের দাবী অনুযায়ী, দেশের সরকার এই বছরের শেষের মধ্যেই শক্তি নিরাপত্তা নীতি সংশোধন করে প্রস্তাব করবে. এই দলিলের প্রধান বিভাগ গুলি এর মধ্যেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে.

শক্তি নিরাপত্তা – বর্তমানে বিশ্বের সর্বত্রই খুবই গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হচ্ছে. রাশিয়া এই ধরনের আলোচনাতে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করছে. এই দেশের কাছে সবচেয়ে বেশী প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার ও অনেক পরিমানে খনিজ তেল রয়েছে. তাই নিজেদের প্রয়োজনে তেল ও গ্যাস ও জ্বালানী যে কোন অবস্থাতেই আগামী বেশ কিছু দশকের জন্য যথেষ্ট পরিমানে রয়েছে. কিন্তু পরিবেশ নিয়েও ভাবা দরকার. বিশ্বের শতকরা বারো শতাংশ কয়লা ও খনিজ তেল এবং একের চতুর্থাংশ গ্যাস রাশিয়া থেকে আসছে.

কিন্তু সেই সময় বর্তমানে অতিক্রান্ত, যখন প্রকৃতির দান ব্যবহার করা যেত অনায়াসে এবং বহু দিনের জন্য সরবরাহ চুক্তি করে বেঁচে থাকা সম্ভব হতো. এই কথা উল্লেখ করে খনিজ তেল ও গ্যাসের সমস্যা অনুসন্ধান কেন্দ্রের ডিরেক্টর আনাতোলি দিমিত্রিয়েভস্কি বলেছেন:

 "দ্রুত পরিবর্তন শীল বিশ্বের পরিস্থিতিকে বর্তমানে খেয়াল করার দরকার পড়েছে. যেমন, শুধু ২০০৯ সালে, বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট ছাড়াও আমাদের কাছে নতুন করে মাটির বহু গভীরে পাওয়া যায় এমন প্রাকৃতিক খনিজ গ্যাসের বিষয়ে বিপ্লব ঘটেছে, প্রাকৃতিক গ্যাসকে তরল অবস্থায় ব্যবহার করার বিষয়ে পরিবর্তন হয়েছে ও রাশিয়ার জন্য স্বাভাবিক ঐতিহ্য অনুযায়ী ইউরোপের বাজারে নতুন বিক্রেতাদের আবির্ভাব ঘটেছে, শুধু কাতার থেকেই গ্যাস সরবরাহের পরিমান বেড়েছে শতকরা ৬৬ ভাগ".

প্রসঙ্গতঃ এটা কিছু নতুন কথা নয় যে, সবচেয়ে ধনী ভান্ডারও সময়ের সঙ্গে কমে আসে. দেশের বাজেটে নিয়মিত অর্থ যোগান দেওয়ার জন্য আগামী দিনের জন্য উত্পাদনের ব্যবস্থাও করতে হয়. এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার নতুন জ্বালানী শক্তি সংক্রান্ত দলিলে মূল জায়গা হিসাবে দেখা হচ্ছে মহাদেশীয় ভূভাগের সামুদ্রিক তীরবর্তী অঞ্চলের ভান্ডার গুলিকে. এই অঞ্চলের ব্যবহার বিশাল স্ট্র্যাটেজিক ও অর্থনৈতিক অর্থ বহন করে থাকে, এই কথা উল্লেখ করে আনাতোলি দিমিত্রিয়েভস্কি বলেছেন:

"আর্কটিক সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল – এক বিরাট ভান্ডার. উত্তর হিম সাগরের কার্বন যৌগের ভান্ডার, তার ভূভাগের আয়তনের হিসাবে কম হলেও প্রশান্ত মহাসাগরের অঞ্চলের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশী. রাশিয়ার জ্বালানী নিরাপত্তা অনেকটাই এই আর্কটিক ভান্ডার অঞ্চলের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত. এখানে সীমান্ত রেখা নির্ণয়ের বিষয়ে সম্পর্ক এখনও ঠিক করা হয়ে ওঠে নি. রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার সীমানা নির্ণয় করার কথা মহাদেশীয় ভূভাগের সীমানা অনুযায়ী. যেহেতু আসন্ন ভবিষ্যতে এই আর্কটিক সমুদ্র অঞ্চলের খনিজ তেল ও গ্যাস উত্পাদন সক্রিয় ভাবে শুরু হতে চলেছে, এখানে প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করারও দরকার হয়ে পড়েছে, যা করা হয়েছে নরওয়ে দেশের সঙ্গে".

সুতরাং অনেক কাজ রয়েছে শুধু ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানী বা জ্বালানী শক্তি উত্পাদকদের জন্যই নয়, এমন কি কূটনীতিবিদদের জন্যও.

তাছাড়া, আর্কটিক সম্পদের সক্রিয় ভাবে উত্পাদনের জন্য প্রয়োজন হবে আধুনিক খনন যন্ত্র ও বিশেষ ধরনের জাহাজের, আর তার সঙ্গে বিশেষ ধরনের পরিকাঠামো তৈরী করার, যা এই উত্পন্ন কার্বন যৌগ কে পরিবহন ও পরিশোধনের জন্য প্রয়োজন হবে. এই কাজ খুবই খরচ সাপেক্ষ.

বর্তমানে রাশিয়ায় যে খনিজ জ্বালানী ও শক্তি ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানেও প্রচুর বিনিয়োগ করার প্রয়োজন. তা আধুনিক স্তরে আনার প্রয়োজন আছে, বিনিয়োগ আকর্ষণের দরকার রয়েছে, ব্যতিক্রমী শক্তির উত্স বিষয়ে উন্নতি করারও দরকার – এগুলি সম্বন্ধে কাজ ও তা বাস্তবায়ন করা নিয়ে পরিকল্পনা থাকবে রাশিয়ার নতুন জ্বালানী শক্তি সংক্রান্ত দলিলে. যাঁরা এই দলিল তৈরী করছেন, তাঁদের ধারণা অনুযায়ী, এই দলিলে "২০২০ সাল পর্যন্ত গৃহীত দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজি" ও "২০৩০ সাল পর্যন্ত জ্বালানী শক্তি সংক্রান্ত গৃহীত স্ট্র্যাটেজির" মূল বিষয় গুলি থাকবে ও রাশিয়ার জ্বালানী শক্তি ব্যবস্থাকে আধুনিক ও উন্নত করার বিষয়ে ব্যবস্থার একটি সার্বিক দিক নির্দেশ করবে.