এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তার প্রশ্নে আলোচনার জন্য বর্তমানে ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার মতো কোন সর্বজনীন ব্যবস্থা নেই. পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ মস্কো শহরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিগত বছরের পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত কাজের মূল্যায়ণ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া মনে করে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে.

গত বছরে রাশিয়া নিজেদের সহযোগী দেশ গুলির সঙ্গে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ এই বিষয়ে নিয়েছে, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

"এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তার প্রশ্নে আলোচনার জন্য বর্তমানে ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার মতো কোন সর্বজনীন ব্যবস্থা নেই. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর চিন সফরের সময়ে দুই দেশের নেতার সম্মিলিত এক ঘোষণায় উদ্যোগ নিয়েছেন নিরাপত্তার প্রশ্নে সবার মধ্যে সমান ও অবিভক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার, যার ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ ভাবে বিরোধ মীমাংসা সম্ভব হবে, কোন রকমের হুমকি বা শক্তি প্রদর্শন না করেই এবং বিবাদ না করার ইচ্ছার ভিত্তিতে".

সের্গেই লাভরভ যেমন উল্লেখ করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ হল সেই রকমের পথ ভারত ও সমর্থন করেছে, যা ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের এই দেশ সফরের সময়ে বলা হয়েছে.

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বহু মেরু বিশিষ্ট ও বিরোধ বিহীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নতি করার জন্য সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা রয়েছে. লাভরভের কথামতো, ২০১০ সালে এই সংস্থার আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাঠামোর মধ্যেই নিরাপত্তা প্রশ্নে সহযোগিতার বিষয়টি সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছে. এই ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাস মোকাবিলা, মাদক পাচার রোধ ও সীমানা পার হয়ে গোষ্ঠী বদ্ধ ভাবে অপরাধের মোকাবিলার জন্য. এই বছরের জুলাই মাসে সংস্থার দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা শুধু এই কাজের ফল নিয়েই মূল্যায়ণ করবো না, এমনকি আগামীতে আরও ঘনিষ্ঠ ভাবে আমাদের সহযোগিতার বিষয়ে পরিকল্পনা করতে পারবো, এই কথা ঘোষণা করেছেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী.

২০১০ সালের একটি উল্লেখ যোগ্য ঘটনা বলে সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার এশিয়া ইউরোপ ফোরামে যোগদান. মস্কোর জন্য বিভিন্ন ধরনের আঞ্চলিক সংস্থায় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে রাশিয়া এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমাকলন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশ নিতে পারবে ও এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক ভাবে নিজেদের আরও প্রসারিত করতে পারবে. সের্গেই লাভরভ আরও উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া ২০১০ সালে পূর্ব এশিয়া দেশগুলির সংস্থার শীর্ষবৈঠকে অংশ নিয়েছে. এই বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা হল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির সংস্থার সদস্য দেশেরা, আর তার সঙ্গে এই সংস্থার বাণিজ্য সহযোগী দেশ গুলি. এক সময়ে এই শীর্ষ বৈঠকের কথা ভাবা হয়েছিল বড় আট দেশের শীর্ষ বৈঠকের এশিয় বিকল্প হিসাবে. কিন্তু বর্তমানের কাঠামোয়, বিশেষত যখন এই বছরে একই সঙ্গে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সংস্থায় প্রবেশ করেছে, তখন এই পূর্ব এশিয় দেশ গুলির সংস্থার ভূমিকা আরও বড় করে দেখা হয়েছে.

    নতুন বছরের কাছ থেকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান রাশিয়া ও চিনের সম্পর্কের পরবর্তী উন্নতি আশা করেন. তাঁর কথামতো রাশিয়া দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে অর্থনৈতিক দিকে উন্নতির আশা করে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান চিনে উচ্চ প্রযুক্তি সম্বলিত রুশ জিনিস রপ্তানী করে বাড়াতে চায়. ২০১১ সালে কূটনীতিবিদ, যেমন বলেছেন, আগের মতই উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে করা হবে. নতুন বছরে, লাভরভ জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি রুশ – চিন শীর্ষবৈঠক হবে. দেশের প্রশাসনের নেতাদের মধ্যেও যোগাযোগ করা হবে, রুশ ও চিনের পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যে ও অন্যান্য মন্ত্রণালয় গুলির মধ্যেও যোগাযোগ করা হবে.

    ২০১১ সালে দুই দেশের প্রধানেরা পরবর্তী ব্রিক শীর্ষবৈঠকে চিনে দেখা করছেন, যেখানে প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতিও যোগ দেবেন. ব্রিক কাঠামোর জন্য এটি হবে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং সম্ভবতঃ তা নাম বদল করে ব্রিকস হবে. এই কাঠামোর গুণ গুলির মধ্যে সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, তা কোন সরকারি কর্মচারী পর্যায়ের মধ্য দিয়ে তৈরী হয় নি, বরং দেশের নেতা দের মধ্যে সরাসরি আলোচনার ব্যবস্থা হিসাবে তৈরী হয়েছে. এর ফলে বহু বাস্তব প্রশ্ন সমাধান করা সম্ভব হয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

    "আন্তর্জাতিক আর্থ বিনিয়োগ ব্যবস্থার সংশোধনের প্রশ্নে সহযোগিতা - অর্থনৈতিক ভাবে বড় কুড়ি দেশের সংস্থার কাঠামোর মধ্যে ব্রিক দেশ গুলির সংস্থার একটি প্রাথমিক কাজ. ব্রিক দেশ গুলির ও অন্যান্য বেশ কয়েকটি সম মন ভাবাপন্ন দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সংশোধনের বিষয়ে বাস্তব সাফল্য এসেছে. প্রসঙ্গতঃ, ব্রিক দেশ গুলি এই সংশোধনের পরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের দশটি প্রধান দেশের মধ্যে কোটার পরিমান হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে. ব্রিক – একটি নব গঠিত কাঠামো, কিন্তু তা শক্তিশালী হচ্ছে, আর মনে করি যে, বর্তমানের লক্ষণ গুলি এই সংস্থার মাধ্যমে উন্নত করা সম্ভব".

    বিগত ব্রাজিল শীর্ষবৈঠক দেখিয়েছে যে, যে সমস্ত দেশ ব্রিকের মধ্যে রয়েছে, তাদের সকলের বিশ্ব সম্বন্ধে একটি সাধারন ধারণা রয়েছে ও চিন্তা রয়েছে, এই বিশ্বের রূপ কি রকম হওয়া দরকার, তার সম্বন্ধে. এই কথাই সের্গেই লাভরভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন.