বিশ্বের অর্থনীতি ধীরে হলেও স্থিতিশীল ভাবেই উন্নতি করছে. আর যদিও এর সূচক গুলি এখনও যথেষ্ট স্থিতিশীল নয়, তবুও বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার চিহ্ন স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. "২০১১ সালের বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা" সংক্রান্ত বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্টে এই কথাই সিদ্ধান্ত হিসাবে বলা হয়েছে.

    বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে চালিকা শক্তির কাজ এই বছরে করবে চিন ও ভারত, আর তার সঙ্গে রয়েছে ব্রিক দেশ হিসাবে সহযোগী রাশিয়া ও ব্রাজিল. বিশ্ব ব্যাঙ্কের সেরা বিশেষজ্ঞরা আশা করেছেন যে, এই সমস্ত দেশের সার্বিক জাতীয় উত্পাদনের উন্নতি অনেক বেশী হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা ইউরোপীয় এলাকার চেয়ে. চিন ও ভারতে তা শতকরা আট শতাংশ অতিক্রম করবে, আর রাশিয়া ও ব্রাজিলে  - চার শতাংশ. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক উন্নতির হার হবে শতকরা তিন শতাংশের কম এবং জাপান ও ইউরোপীয় এলাকায় তা শতকরা দুই শতাংশ অবধি হবে.

    এই রিপোর্টের লেখকেরা মনে করেছেন যে, অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশ ও পরিবর্তনের পথে চলা উন্নতিশীল দেশ গুলির অর্থনৈতিক বিষয়ে তফাত এতটাই যে, তাকে দুটি আলাদা বিশ্ব বলে উল্লেখ করা যেতেই পারে. একটিতে অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলা ও পুরনো বাড়তি লাভের সঙ্গে সংগ্রাম চলছে, আর অন্যটিতে এই সঙ্কট পার হওয়া সম্ভব হয়েছে. বিশ্ব ব্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, উন্নতিশীল পরিবর্তিত অর্থনীতির দেশ গুলি এই বছরে বিশ্বের অর্থনীতির উন্নয়নের প্রায় অর্ধেকের বেশীই করবে.

    রাশিয়ার জাতীয় ব্যাঙ্কের ভবিষ্যদ্বাণী বলছে ইতিবাচক লক্ষণের কথা, বিশেষত নিজেদের এলাকায় সম্মিলিত চিত্রের দিকে তাকালে, যাকে বিশেষজ্ঞরা নাম দিয়েছেন "ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া" বলে. দেশে বেকারত্ব কমছে, আয় ব্যয়ের হিসাবে আয়ের ভাগ বাড়ছে, ঋণের পরিমান বাড়ছে. এই রিপোর্ট যারা তৈরী করেছেন, তারা মনে করেন যে, রাশিয়ার অর্থনীতির স্বাস্থ্য ফেরার কারণ দেশের প্রশাসনের নেওয়া বিনিয়োগ ও বাজেট বিষয়ক ব্যবস্থা. রাশিয়ার জন্য মূল সমস্যা হল অর্থনীতির যথেষ্ট রকমের বহুমুখীত্ব না থাকা ও কাঁচা মালের ব্যবসার উপরে বেশী রকমের নির্ভরতা. এর থেকেই উদ্ভূত হয়েছে পরামর্শ – কাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্প নিয়ে কাজের প্রয়োজন, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানো যা কাজের ফল বা উত্পাদনের হার বৃদ্ধি করতে ও অর্থনৈতিক উন্নতির হার বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে. এখানে শুধু প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি বা প্রযুক্তি নির্ভর উত্পাদনের দিকেই দৃষ্টি দেওয়া হয় নি, বরং বলা হয়েছে পরিবহন যোগ্য রাস্তা ও সড়ক নির্মাণ, পরিস্কার পরিবেশ দূষণ মুক্ত জ্বালানী শক্তি উত্পাদনের উপযুক্ত প্রকল্প ইত্যাদির কথা, যা খরচ কমাবে ও আরও বেশী জ্বালানী সাশ্রয় করতে সাহায্য করবে. সব মিলিয়ে বিশ্ব ব্যাঙ্কের পরামর্শ রাশিয়ার আধুনিকীকরণের পরিকল্পনার সঙ্গে একই রকমের, যা রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রস্তাব করেছেন. ফলে রাশিয়া বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য আগ্রহ জনক হবেই, এই কথা মনে করে রাশিয়ার দ্যুমার সদস্য ও বিনিয়োগ বাজার সংক্রান্ত পরিষদের সদস্য আনাতোলি আকসাকোভ বলেছেন:

    "ব্রিক দেশ গুলির মধ্যে রাশিয়া এমন একটি দেশ, যা সমস্ত বিশ্বের বিশেষজ্ঞরাই মনে করেন বিশ্ব অর্থনীতিতে চালিকা শক্তি সম্পন্ন দেশ বলে. এর ফলে আমাদের দেশের প্রতি মনোযোগ বেড়েছে. কিন্তু তাও শান্ত হওয়ার সময় আসে নি, খুবই সক্রিয় ভাবে অর্থনৈতিক নীতি প্রয়োগ করতে হবে, যাতে শুধু কাঁচামাল সংক্রান্ত ব্যবসাই রাশিয়ার অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শন না করে. তখন রাশিয়া বিশ্বে ও আমাদের সহকর্মী স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের দেশ গুলির মধ্যে আগ্রহ জনক জায়গায় পরিনত হবে".

    রাশিয়ার জন্য প্রধান হল সঙ্কটের থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করা ও এমন ব্যবস্থা করা যাতে নিজেদের ভবিষ্যতের উন্নতির জন্য ক্ষমতার সৃষ্টি হয়, এই কথাই বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্টের লেখকেরা মনে করেছেন.