রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অসামরিক পারমানবিক শক্তি বিষয়ে সহযোগিতার বৃদ্ধি করবে. এই জন্য নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে শান্তিপূর্ণ পরমাণু ক্ষেত্রে সদ্য কার্যকর হওয়া দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি. প্রসঙ্গতঃ এই সহযোগিতা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেই থাকা প্রয়োজন, তাতে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার কোন দরকার নেই বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশ্বাস করেন.

২০০৮ সালের মে মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তি এই মঙ্গলবার কার্যকর হয়েছে, এর ফলে সম্মিলিত ভাবে নতুন প্রযুক্তি সৃষ্টি করার বিশাল সম্ভাবনা হল, যা বিশ্বে পারমানবিক অস্ত্র প্রসার সংক্রান্ত বিপদের মোকাবিলায় সাহায্য করবে. এছাড়া রাশিয়া ও আমেরিকার কোম্পানী গুলির জন্য নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও সৃষ্টি হচ্ছে, যা আরও পরিস্কার ও নিরাপদ পারমানবিক শক্তি উত্পাদনে সহায়তা করবে এবং তার মধ্যে নতুন উদ্ভাবনা প্রযুক্তি থেকে উত্পন্ন জ্বালানী থাকবে.

এই চুক্তি গ্রহণের সময়টি খুবই সময়মতো হয়েছে, এ কথা উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান কেন্দ্র কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিষয়ের ডিরেক্টর আন্দ্রেই গাগারিনস্কি, তিনি বলেছেন:

"মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের চুক্তি করেছে প্রায় অর্ধ শত দেশের সঙ্গে. আমাদের – আরও বেশী. কিন্তু দুটি দেশ – যারা পারমানবিক যুগের স্রষ্টা, নিজেদের মধ্যে এই রকমের চুক্তি আগে করে নি. এখন এই অস্বাভাবিক ব্যাপার শেষ হল. এর ফলে বহু দিকে সহযোগিতা সম্ভব হবে. এই চুক্তি রাশিয়া ও আমেরিকা উভয়ের জন্যই খুব লাভজনক. কারণ আমেরিকা বিগত কিছু সময়ে অনেক হারিয়েছে বদ্ধ পারমানবিক চক্র বিষয়ে কাজের ক্ষেত্রে উন্নতি করা বন্ধ রেখে. আর তারা আমাদের পরীক্ষা মূলক ব্যবস্থা কে ভিত্তি করে এখানেই নানা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করার বিষয়ে আগ্রহী".

এই দলিলের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে বলে মনে করেছেন শক্তি উন্নয়ন তহবিলের প্রধান সের্গেই পিকিন, তিনি বলেছেন:

"এই চুক্তির আরও একটি মানে হল, রাশিয়ার দিক থেকে দেশের বাইরে বিশেষত লাতিন আমেরিকা বা এশিয়াতে পারমানবিক শক্তি উত্পাদন বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের তরফ থেকেই বাধা কমবে. কারণ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর রাশিয়ার কর্পোরেশন গুলির এই ক্ষেত্রে উক্ত এলাকা গুলিতে প্রবেশকে যথেষ্ট স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকত, সুতরাং এই চুক্তির ফলে ওই ধরনের সমালোচনার তীব্রতা কম হবে, আর আমরাও এই সব এলাকা গুলিতে আরও শান্তিতে কাজ করতে পারবো".

বর্তমানে রাশিয়া বিশ্বের শতকরা চল্লিশ ভাগ শান্তিপূর্ণ পারমানবিক জ্বালানীর বাজার ধরে রেখেছে, আমেরিকার প্রায় একের পাঁচ অংশ পারমানবিক জ্বালানীর ভান্ডার রয়েছে রসঅ্যাটম কোম্পানীর কাছে. শুধু গত বছরেই রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমানবিক জ্বালানী বিষয়ে পাঁচ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই চুক্তি কার্যকরী হওয়ার ফলে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই রাশিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কারখানা তৈরী করার প্রকল্প প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে.

বিজ্ঞানীদের মতে, পারমানবিক সহযোগিতা বর্তমানে সাহায্য করবে দ্রুত নিউট্রন প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিয়্যাক্টর তৈরী করার ক্ষেত্রে, আর তারই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি পরিমানে শক্তি উত্পাদনে সক্ষম রিয়্যাক্টর তৈরীর কাজও দ্রুত হবে, যা পারমানবিক প্রযুক্তি বিষয়ে নতুন প্রবেশ করা দেশ গুলিতে রপ্তানী করার বিষয়ে ব্যবহার যোগ্য হবে. শেষে সম্মিলিত রুশ – মার্কিন কোম্পানী খোলাও সহজ হবে, যারা পারমানবিক ক্ষেত্রে সমস্ত ধরনের বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবে প্রয়োগ যোগ্য কাজ করবে.