মার্কিন রাষ্ট্রপতি আফগানিস্তানের পুনর্গঠনের জন্য নিযুক্ত বিশেষ পরিদর্শক দপ্তরের মুখ্য সচিব জেনেরাল আর্নল্ড ফিল্ডস এর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেছেন. কারণ – জেনারেলের দপ্তর মধ্য প্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু সহস্র কোটি ডলারের খরচের হিসাব দিতে অক্ষম হয়েছে বলে.

গত বছরের শেষের থেকেই জেনারেলের উপরে মেঘ ঘন হতে শুরু করেছিল, পর্যবেক্ষক দপ্তরের মুখ্য সচিবের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই. সেখানে স্বীকার করা হয়েছিল যে, আমেরিকার প্রশাসন জানে না কিসের জন্য আফগানিস্তানে নানা রকমের পুনর্গঠনের প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল.

সব মিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই কাজের জন্য ব্যয় করেছে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার. এই অর্থের বেশীটাই কোথায় গেল তা এখনও পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে না. মুখ্য পরিদর্শকের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, পেন্টাগন, প্রশাসন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা তৈরী নয় সঠিক কত অর্থ, বাস্তবে পুনর্গঠনের জন্য এবং আফগানিস্তানে কর্মী জোগাড় করার জন্য ব্যয় করা হয়েছে, তা জানাতে. এই সমস্যার বিষয়ে নিজের মত আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

"আমি মনে করি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি খুব ভাল করেই জানতেন বিপুল অর্থ, যা আফগানিস্তানের পরিকাঠামো ও অর্থনীতির পুনরুদ্ধার পুনর্গঠনের নাম করে বরাদ্দ করা হয়েছিল, তা মোটেও সবটা জায়গা মত পৌঁছায় নি. তা ভাগ হয়েছে, সবার আগে, আমেরিকার সামরিক ও অসামরিক লোকেদের মাধ্যমে. আফগানিস্তানে ভাগাভাগি নিয়ে যে সমস্ত আমেরিকার লোক কাজ করেছিল, তাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের সরকারি কর্মচারীদের গোপন আঁতাত হয়েছিল বলে ধারণাকেও বাতিল করা যায় না. আর এই অর্থের কিছুটা এই দুই পক্ষের পকেটস্থ হয়ে থাকতেই পারে".

যুদ্ধ – এক্ষেত্রে আফগানিস্তান কোন ব্যতিক্রম নয়, শুধু বহু লক্ষ লোকের জীবনে দুর্দশার কারণই হয় না, বরং কিছু নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের লোকেদের জন্য ধনের উত্স হয়ে থাকে. প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ক্রুপনভ এই যোগসূত্র উদ্ধৃত করে বলেছেন:

"আমাদের উচিত হিসেবের মধ্যে রাখা যে, গত দশ বছরের মধ্যে ইরাক ও আফগানিস্তানে প্রায় ট্রিলিয়ন ডলারের বেশী খরচ হয়েছে. বোঝাই যাচ্ছে যে, এই ব্যয় হয়েছে বেশীর ভাগটা যন্ত্রপাতি, যুদ্ধাস্ত্র ও সামরিক বাহিনীর যোগানের জন্যই শুধু নয়, বরং তথাকথিত ব্যক্তিগত সামরিক বিষয়ের সাথে যুক্ত কোম্পানীর জন্যও. আর আমরা এর থেকে অনুমান করতেই পারি যে, যদি সরাসরি দুর্নীতির পরিমান জানা নাও যায়, তবুও এই ধরনের খরচের প্রতি স্বার্থের উপস্থিতি স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যারা চায় যে, এমন খরচ চলতেই থাকুক".

খোদ আমেরিকাতেই বিশাল সংখ্যক লোক সামরিক বাজেটের পয়সায় বাঁচে, আর সব দিক মিলিয়ে দেখলে, তার মধ্যে আফগানিস্তানের পুনর্গঠন খাতের বহু সহস্র কোটি ডলারের পয়সাও আছে. আফগানিস্তানের সাধারন মানুষ অবধি এই অর্থ বাস্তবে কখনোই পৌঁছায় না. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, তা না হলে, বর্তমানে সেখানের অবস্থা এখনকার থেকে অনেকটাই আলাদা রকমের হতে দেখা যেত. আর ওয়াশিংটনের সরকারি প্রশাসনকে হারিয়ে যাওয়া আফগানিস্তানের বিলিয়ন ডলার খুঁজতে যেতে হত না.