রাশিয়া কিওটো প্রটোকল বলবত্ হওয়ার সময় থেকে এই প্রথম বিদেশী কোম্পানিকে বায়ুমন্ডলে ক্ষতিকর বস্তু ও গ্রীনহাউজ গ্যাস ছাড়ার কোটা বিক্রি করেছে. জাপানের “মিত্সুবিশি” ও “নিপন ওয়েল” কর্পোরেশন রাশিয়ার “গাজপ্রোম নেফতি” কোম্পানির কাছ থেকে বায়ুমন্ডলে ২ লক্ষ ৯০ হাজার টন গ্রীনহাউজ গ্যাস ছাড়ার কোটা কিনেছে.

   মনে করিয়ে দিই যে, কিওটো প্রটোকল হল প্রতিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রথম বিশ্বব্যাপী চুক্তি, যাতে বায়ুমন্ডলে গ্রীনহাউজ গ্যাস ছাড়া কমানো অনুমিত. কারণ, এ বিষয় অজানা নয় যে, প্রতিবেশের উপর মানুষের কার্যকলাপের প্রভাব বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া গরম হওয়ার একটি কারণ. এই আবহাওয়া গরম হওয়ার জন্যই পৃথিবীতে নানা প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটছে, যেমন অনাবৃষ্টি, বন্যা, তুফান ইত্যাদি. কিওটো প্রটোকল অনুযায়ী, তাতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলি বায়ুমন্ডলে গ্রীনহাউজ গ্যাস ছাড়ার দুটি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে. প্রথমত, তথাকথিত "সবুজে বিনিয়োগ" ব্যবস্থা, যখন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা অর্থনিয়োগ করবে শক্তির ফলপ্রসূতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ব্যবস্থার জন্য, যাতে বায়ুমন্ডলে বর্জ্য ছাড়া কমে. আর এ হ্রাস হবে সেই দেশ বা কোম্পানির কল্যাণে, যে অর্থ নিয়োগ করছে. আর দ্বিতীয় ব্যবস্থা – প্রত্যক্ষভাবে কোটা বিক্রি. জাপানকে রাশিয়ার কোটা বিক্রির ক্ষেত্রে কথা হচ্ছে প্রথম ব্যবস্থার. জাপানী কোম্পানিগুলি পৃষ্ঠপোষকতা করেছে রাশিয়ার তিনটি বড় খনির কাজে, যার দরুণ তেল নিষ্কাশনের সময় নির্গত গ্যাসের পরিমাণ তীব্রভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে. প্রসঙ্গত বলি, এ সমস্যাটি এক সময়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উথ্থাপন করেছিলেন দেশের অর্থনীতির একটি অতি জরুরী সমস্যা হিসেবে, আমাদের রেডিও কোম্পানিকে প্রদত্ত একটি ইন্টারভিউতে এ সম্পর্কে বলেন অর্থনীতির পূর্বাভাষ দান সংক্রান্ত ইনস্টিটিউটের কর্মী বরিস পর্ফিরিয়েভঃ

   এখন বলা যেতে পারে যে, বরফ গলতে শুরু করেছে. এবং নিঃসন্দেহে, একে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে অভিহিত করা যেতে পারে. তবে, অন্য দিক থেকে, রাশিয়ার এমনিতেই যথেষ্ট পরিমাণ কোটা আছে, এবং তার খুবই প্রয়োজন নিজের অর্থনীতির আধুনিকীকরণের, সর্বপ্রথমে শক্তি ও জ্বালানী ক্ষেত্রে. হিসেব করে দেখা গেছে যে, রাশিয়া এ ধরণের প্রকল্পের দরুণ বছরে ২০০-২৫০ কোটি ডলার পেতে পারে. একই সঙ্গে বলা উচিত যে, অর্থনৈতিক বিকাশ মন্ত্রণালয় এবং এ বিষয়টির তত্ত্বাবধান করা স্ভেরবাঙ্ক ইতিমধ্যে প্রায় একশোটি এ ধরণের প্রকল্প বাস্তবিকপক্ষে অনুমোদন করেছে.

   দুঃখের বিষয়, রাশিয়ার তুলনায় পার্থক্যে, কিওটো প্রটোকলে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশ বায়ুমন্ডলে ক্ষতিকর বর্জ্য ও গ্রীনহাউজ গ্যাস ছাড়া হ্রাসের জন্য নিজেদের বাধ্যবাধকতা পালন করতে তাড়াতাড়ি করছে না. তাদের বিরোধিতার জন্যই বিগত কয়েক বছরে কোপেনহেগেনে ও মেক্সিকোর কানকুনে আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিবর্তন বিরোধী নতুন নতুন চুক্তি সম্পাদন করা সম্ভব হয় নি. আর বিগত বছরের ঘটনাবলি দেখিয়েছে যে, প্রকৃতি তার প্রতি মানুষের এমন ব্যবহার ক্ষমা করবে না.