চলতি ২০১১ সালে মস্কোর বালশোই থিয়েটার তার বিশেষ অবস্থান বজায় রাখবে. আগামী বসন্তে রাশিয়ার প্রধান এই থিয়েটারের ২৩৫ বছর পূর্ণ হবে.শরতে ব্যাপক সংষ্কারের পর বালশোই থিয়েটার তার ঐতিহাসিক মঞ্চে ফিরে আসবে.

বালশোই থিয়েটার যা রুশ সংস্কৃতির একটি নিদর্শন.বালশোই থিয়েটারের কলাকূশলীরা দীর্ঘসময় যাবত এর গৌরবজ্জল সুনাম দেশ থেকে দেশান্তরে এমনকি অন্য মহাদেশে’ও ধরে রেখেছে.থিয়েটারের ঐতিহাসিক ভবন যা আধুনিক সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে সুপরিচিত এবং তা অন্তত মস্কোর গাইড বই অথবা সূভিনিরে দেখতে পাওয়া যায়.দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশী সময় ধরে থিয়েটারের শিল্প চর্চা বন্ধ থাকে.এই সময় থিয়েটারের ভবনজুড়ে অনেক সংষ্কার কার্য সম্পন্ন হয়.অবশেষে বহিঃঅঙ্গনের কাজ শেষ হয় এবং থিয়েটার ভবন তার পূর্বের জৌলুশে ফিরে আসে.ভবনের মাটির নিচ তলাটি ব্যবহারের ফলে এর আয়তন বর্তমানে দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং থিয়েটারে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বশেষ আধুনিক প্রযুক্তি.ইতিমধ্যে মঞ্চের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং এখন থেকে একটি মঞ্চই অপেরা ও বালেত নৃত্যের জন্য ব্যবহার করা যাবে.শুধুমাত্র সুইচ টেপার মাধ্যমেই প্রয়োজনী মঞ্চ পাওয়া যাবে.বর্তমানে থিয়েটারের অভ্যন্তরীণ অঙ্গসজ্জার কাজ চলছে.

কোন ধরনের অনুষ্ঠান মঞ্চস্থের মাধ্যমে বালশোই থিয়েটার তার ঐতিহাসিক মঞ্চে ফিরে আসবে?.ঐতিহ্যগতভাবে রুশি ক্লাসিক্যাল অপেরা দিয়েই বালশোই থিয়েটারের প্রদর্শনী মৌসুম শুরু হয়.তবে এবারই প্রথম এই নিয়মনীতি ভঙ্গ করা হবে,জানালেন থিয়েটারের প্রধান রক্ষনাবেক্ষক ও সঙ্গিত পরিচালক ভাসেলী সিনাইস্কী.উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য গালা-কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে,যেখানে থিয়েটারের সব নামিদামী শিল্পীরা(অপেরা ও বালেতের) অংশগ্রহন করবেন.নতুন প্রদর্শনী মৌসুমে বালশোই থিয়েটারের প্রথম বিদেশী অতিথী হিসাবে উপস্থিত থাকবে মিলানের ‘লা স্কালা’ থিয়েটার.

ধীরে ধীরে বালশোই থিয়েটারের ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত অতিতের সব প্রদর্শনী এই মঞ্চে ফিরিয়ে আনা হবে,যাদের মধ্যে থাকবে প্রথম দিকের অপেরা ‘রুসলান ও লুদমিলা’,’বোরিস গাদুনোভ’ ইত্যাদি.বিশ্বে বালশোই থিয়েটার রুশি ক্লাসিক্যাল শিল্পের প্রতিনিধি হিসাবে মূলত পরিচিত.যদিও ক্লাসিক্যাল শিল্পাচর্চার পাশাপাশি এখানে আধুনিক অপেরা ও বালেত নৃত্যও পরিবেশন করা হয়.নতুন প্রদর্শনীর এই মৌসুমে অন্যতম একটি প্রিমিয়ার হবে ‘হারানো স্বপ্ন’ বালেত নৃত্যটি যা কম্পোজ করেছেন পিটার্সবুর্গের লেওনিদা দে সেয়াতনিকোভা.

‘আমার কাছে মনে হয় যে,বালশোই থিয়েটারের দুইটি ধারা থাকা উচিত’.দৃষ্টান্ত দিয়ে জানালেন থিয়েটারের সঙ্গিত পরিচালক ভাসেলী সিনাইস্কী.সেই অনুসারে একটি  ধারা হচ্ছে রুশি দর্শনার্থীদের ও অন্যটি বিদেশী দর্শকদের জন্য.বিদেশী বিশেষভবে যে কোন উপায়ে সর্বদা সত্যিকার রুশীদের একটি চাহিদা থাকবে এবং নির্ভরতার সাথে জানানো যায় যে,বালশোই থিয়েটারে এই শিল্প সর্বোচ্চ পেশাদারি মর্যাদায় প্রদর্শন করা হবে.

প্রথম প্রদর্শনীর পরই দর্শকরা বালশোই থিয়েটারের নতুন মঞ্চ ও অঙ্গসজ্জার সাথে পরিচিত হতে পারবে যা মূলত হবহু পূর্বের কাঠামো অনুযায়ী তৈরী করা হয়েছে এবং সর্বপ্রথম যা তৈরী হয় ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়.থিয়েটারের ভবনজুড়ে আঁকা চিত্রমালায় ১৬১২ সালের মস্কোর ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যা রাশিয়া রাষ্ট্রের পূনঃসৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত.ঐতিহাসিক ঐ খোদাই করা ছবি যা পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল.আধুনিক কারুশিল্পীরা থিয়েটার ভবনের অতিতের নকঁশা অনুযায়ী  ছবি ও নিদর্শন ফুটিয়ে তোলেন.