"ঠাণ্ডা যুদ্ধের" যন্ত্র খুলে ফেলা রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০১১ সালের প্রধান সম্মিলিত কাজ. রেডিও রাশিয়া কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রুশ স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের প্রধান সের্গেই অজ্নোবিশ্যেভ এ কথা বলেছেন. ২০১০ সালে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই লক্ষ্যে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিয়েছে.

    সহযোগিতা  - এটা যেন মাছ ধরার ছিপের ফাতনা, যা ভার গুলিকে রুশ – মার্কিন সম্পর্ক ডুবিয়ে দিতে বাধা দেয়, এই কথা রাজনীতিবিদ উল্লেখ করে ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

    "রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আগের মতই ঠাণ্ডা যুদ্ধের বাঁধা ধরা ধারণা আজও বেঁচে রয়েছে. আমরা সেই ভাবেই ভাবি. যেই কোন না কোন পরিস্থিতিতে এ সম্বন্ধে কথা হয়, সঙ্গে সঙ্গেই অন্য পক্ষের ছবি মনে ফুটে ওঠে যেন সম্ভাব্য বিপক্ষ, অন্ততঃ প্রতিযোগী তো বটেই. এই বিরোধ ও তার থেকে তৈরী অবিশ্বাস আমাদের সকলকে খালি নীচের দিকেই টানে. যদি আমরা এর থেকে উদ্ধার হতে না পারি, তবে কোন দিনই আমরা আজকের বিশ্বের সম্ভাব্য বিপদের বিরুদ্ধে একসাথে কাজ করতে, সহযোগিতা করতে পারবো না".

    ২০১০ সালের বিশ্ব রাজনীতিতে উল্লেখ যোগ্য ঘটনা – রুশ মার্কিন নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি স্বাক্ষর. বিগত কালের মধ্যে প্রথম দুই পারমানবিক ভাবে বৃহত্ শক্তিধর দেশ একে অপরের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটা সহমতে আসতে পেরেছে ও বিশ্বের অন্যান্য পারমানবিক শক্তিধর দেশের কাছে নিজেদের অস্ত্র কমানোর বিষয়ে একটি উদাহরণ উপস্থিত করতে পেরেছে. বিশেষজ্ঞ বলেছেন:

    "স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জার বিষয়ে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে. সাধারন প্রশ্ন গুলির মধ্যে, যা শুরু করা ও একসাথে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে, - তা হল পারমানবিক অস্ত্র সম্বন্ধে প্রসার রোধ চুক্তি নিয়ে একটি দৃষ্টিকোণ নির্ণয়ের সম্মেলন আয়োজন করা গিয়েছে. সিদ্ধান্ত মূলক দলিল এক সাথে তৈরী করা সম্ভব হয়েছে, যা এই স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্র সজ্জা সংক্রান্ত চুক্তির অনুপস্থিতিতে সম্ভব হত না. এর পরে ওয়াশিংটনে পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে শীর্ষ বৈঠক হয়েছে. এটাও অগ্রগতির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ.আর সব মিলিয়ে আমরা একসাথে কাজ করার জন্য মন স্থির করতে পেরেছি, আমরা বুঝতে পেরেছি যে, বিশ্বের সমস্যা সমাধান করতে হলে এমনকি রাশিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত শক্তিশালী দেশও একা কিছু করতে পারবে না".

    সের্গেই অজ্নোবিশ্যেভ মনে করেন যে, বিশ্বের বিপদ ও সমস্যা নিয়ে গত বছরে মস্কো ও ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গী কাছাকাছি হয়েছে বলে দেখা গিয়েছে. তিনি বলেছেন:

     "আমরা আরও সাফল্যের সঙ্গে ইরানের রকেট পারমানবিক পরিকল্পনাকে বাধা দিতে পেরেছি, শেষ এখনও হয় নি, কিন্তু এই বিষয়ে বড় ধরনের ফল এখনই চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে. আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আরও সাফল্যের সাতে মোকাবিলা করতে পারছি, মোকাবিলার কাঠামো তৈরী হয়েছে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে করার রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্বন্ধে প্রস্তাবও বিচারের মত বিষয়, কারণ এই ক্ষেত্রে আমরা সহমতে আসতে না পারলে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা অবশ্যম্ভাবী".

    ২০১১ সালে বিশেষজ্ঞের মতে রাশিয়ার উচিত্ হবে আরও সক্রিয় ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনা নিয়ে কাজ করার. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপান ও ইউরোপীয় সংঘের দেশ গুলির মতই এই ক্ষেত্রে নেতা. তাই রাশিয়ার সমস্ত পররাষ্ট্র নীতির ক্ষমতা ব্যবহার করা দরকার দেশের আভ্যন্তরীণ উন্নতির জন্য এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য. তার উপরে এই পথ দ্বিপাক্ষিক ভাবেই লাভজনক. এছাড়া কোন রকমের সহকর্মী মূলক সম্পর্ক তৈরী করা কঠিন হবে, এই কথা বিগত কিছু সময় ধরে দুই দেশের রাষ্ট্রপতিই বারবার উল্লেখ করেছেন.