আজ ৭ই জানুয়ারী, রাশিয়ার অর্থোডক্স গির্জার খ্রীস্টানরা তাঁদের একটি অন্যতম বড় উত্সব বড়দিন পালন করছেন – যীশু খ্রীষ্টের জন্মদিন. পবিত্র আথোস পর্বতের গির্জা, সের্বিয়া, জর্জ্জিয়া, জেরুজালেমের বেথলেহেম শহরে এই উপলক্ষে প্রার্থনা হয়েছে. রাশিয়ার অর্থোডক্স ধর্ম বিশ্বাসীদের ঐতিহ্য অনুযায়ী এই পবিত্র দিনে সমগ্র রুশ বিশ্বকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মস্কো ও রুশের প্রধান ধর্মীয় নেতা কিরিল. তিনি বলেছেন:

    "প্রিয় ভাই ও বোনেরা! পবিত্র বড়দিনের উত্সবে আমাদের উচিত্ হবে মনে করা যে, এই দিন সারা মানব সমাজ ও আমাদের প্রত্যেকের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ. বহু যুগ ধরেই মানুষ তার প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজে চলেছে – জীবনের অর্থ, ত্রাণ কি করে হবে, কি করে আশার সঞ্চার করা সম্ভব. আর বড়দিনের এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের কাছে ঈশ্বরের সত্য উন্মোচিত হয়. খ্রীষ্ট – এই আমাদের জীবনের অর্থ, ত্রাণের পথ, সমস্ত মানব জাতির জন্য আশা ও প্রত্যেক আলাদা মানুষের জন্যও".

    প্যাট্রিয়ার্ক কিরিলের মতে আজ আগের চেয়েও বেশী প্রয়োজন মানুষের সকলের সাথে মিলেমিশে কাজ করার. একমাত্র সেই ভাবেই বর্তমানের বিশ্বের সমস্ত বিপদ ও আশঙ্কার বিরুদ্ধে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সমাজের মোকাবিলা করা সম্ভব. এই প্রসঙ্গে রুশ বিশ্বের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক বিশ্বাস করেন যে, গির্জা সব সময়েই মানুষের ঐক্য চেয়েছে. তিনি আরও বলেছেন:

    "গ্রীক শব্দ লিতুর্গিয়া – অর্থ হল সকলের কাজ, যা গির্জার প্রার্থনা গুলির মধ্যে প্রধান. আমাদের সারা জীবন যেন লিতুর্গিয়া হয়, একত্রে প্রার্থনা ও সকলের কাজকে এক করে বিশ্বে শান্তি ও মানুষের ব্যক্তিগত শান্তির কাজই যেন জীবনের অন্যতম কাজ হয়. এটা আমাদের কাছ থেকে সমস্ত একই ধর্মের ভাই বোন দের মধ্যে ঐক্যের আশা করে, এমনকি যারা এখনও নিজেদের হৃদয়ে ঈশ্বরকে ধারণ করেন নি, তাঁদের জন্যও দরকার, যেমন ইভাঙ্গেলের মধ্যে বলা হয়েছে সেই সমস্ত লোকেদের কথা, যাঁরা এই পথের দিকেই চলেছেন".

    বহু প্রজাতির সমাজে ঐক্যের অর্থ হল অন্য জাতি ও অন্য সংস্কৃতির লোকেদের সঙ্গে একসাথে বাঁচা ও কাজ করতে পারা. ২০১০ সাল দেখিয়েছে যে, রাশিয়ার সমাজে এখনও ঐক্য ও সহযোগিতা যথেষ্ট নয়, আর যে কোন বোঝার অভাব ও একে অপরের সঙ্গে কথা বলার অনুপস্থিতি শুধু বিভিন্ন ধর্মের মধ্যেই নয় এমনকি ঐতিহ্যবাহী ধর্মের ভিতকেও নাড়িয়ে দিতে পারে. এই কারণেই আজ গির্জা পূর্ব সূরীদের ধর্ম, পবিত্র ঐতিহ্য ও শিক্ষার স্মরণে বড়দিন পালন করে খ্রীষ্টের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে. প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল তাঁর বার্তার শেষে বলেছেন, "আমরা খ্রীস্টানরা বিশ্বাস করি ও জানি যে, খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর মানব ইতিহাসে ও জীবনে প্রবেশ করেছেন, মানুষকে তাঁর নীতি অনুযায়ী বাঁচতে বলেছেন, শান্তিকে সমর্থন করে, প্রেম ও সততা কে জীবনের পাথেয় করে চলতে বলেছেন".