রাশিয়ার খেলাধূলার প্রথম বড় বিজয় হল ২০১১ সালে. আইস হকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো শহরে যুব বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে রাশিয়া চ্যাম্পিয়ন.

    ফাইনাল খেলায় কানাডাকে ৫ : ৩ গোলে হারিয়ে দিয়েছে রুশ খেলোয়াড়েরা. প্রথম দুটি অঙ্কে তারা তিনটি গোল খেয়েছিল. শেষ অঙ্কে কানাডার খেলোয়াড়েরা ধরেই নিয়েছিল যে, বিজয় তাদের হাতের মুঠোয়, তাই প্রথম গোল যখন রুশ খেলোয়াড়েরা শোধ করেছিল, তখন তারা সেটা খেয়ালই করে নি. তার পরের পাঁচ মিনিটের মধ্যে যখন খেলার ফল সমান সমান, তখন খেলা জমে ওঠে. শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে রাশিয়া প্রথমে চতুর্থ ও পরে পঞ্চম সোনার গোলটি করে. রাশিয়ার দলের প্রধান প্রশিক্ষক ভালেরি ব্রাগিন খেলা শেষে বলেছেন:

    "এরা সত্যিকারের পুরুষ মানুষ, যারা এই জয় চেয়েছিল, আর তা তারা করতে পেরেছে. সবচেয়ে বড় কথা হল – কানাডার বিরুদ্ধে খেলতে হবে রাশিয়ার হকি, সম্পূর্ণ নিজেকে উজাড় করে দিয়ে, দলগত খেলা, আর এটাই ফল নিয়ে এসেছে".

    এই জয় সুন্দর ও বহু প্রতীক্ষিত. যুব চ্যাম্পিয়নশীপে শেষ বার সোনার পদক রুশ আইস হকি খেলোয়াড়েরা আনতে পেরেছিল ২০০৩ সালে. এই নিয়ে মোট চারবার চ্যাম্পিয়ন রুশ দল. গত দশ বছরে রুশ ও কানাডার দল পাঁচবার নিজেদের মধ্যে খেলেছে, এই বিজয়ের আগে পর্যন্ত ফল ছিল কানাডার অনুকূলে ৩ : ২. এবারে ফল হল সমান. বরং বলা যেতে পারে রুশ খেলোয়াড়েরা একটা প্রতিশোধ নিতে পেরেছে, এবারের চ্যাম্পিয়নশীপের শুরুর খেলাতেই গ্রুপের খেলায় হেরে যাওয়ার. মজার ব্যাপার হল কানাডার খেলোয়াড়েরা পরপর দুবার সোনা জিততে পারল না, তারা গত বারে হেরেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দলের কাছে. এই হারের পর তাদের আর পরপর পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া ঘটে নি. এবারে আমেরিকার খেলোয়াড়েরা সুইডেনকে হারিয়ে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জই শুধু জিততে পেরেছে.

    রুশ খেলোয়াড়েরা সোনার মেডেল পাওয়ার দৌড়ে এগিয়েছে খুবই কষ্ট করে, প্রথম দুটি খেলায় তারা কানাডা ও সুইডেনের কাছে হেরেছিল, তারপরে পরের দুটি খেলায় না জিততে পারলে আর গ্রুপ থেকে বেরোনোই সম্ভব ছিল না. চেখ ও নরওয়ে কে দারুণ খেলে হারিয়ে দিয়ে, কোয়ার্টার ফাইনালে ফিনল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ও সেমি ফাইনালে সুইডেনকে খেলার পরে পেনাল্টিতে জিতে, শুধু মানসিক জোর দিয়েই তারা ফাইনালে পৌঁছায়.

    রাশিয়ার সকলেই ফাইনালে আশা করেছিল যে, রাশিয়ার যুব দল ফাইনালে উঠতে যখন পেরেছে, তখন কানাডাকে হারাতে পারবে, যারা বিগত কয়েক বছরে বড় খেলা গুলিতে রুশ ফ্যান দের খুবই দুঃখ দিয়েছিল বারবার জিতে. ২০০৮ সালে ও ২০০৯ সালে রাশিয়ার বড়দের দলের ফাইনালে কানাডার বিরুদ্ধে বিজয় এখনও অনেকের কানে বাজছে. ভ্যাঙ্কুভার অলিম্পিকে কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডার কাছে হেরে রাশিয়ার পদকের সম্ভাবনা নষ্ট হয়েছিল, তার দুঃখ ভোলা সম্ভব হচ্ছিল না. তাই আজকের এই যুব দলের জয় – এটা সেই হারের প্রতিশোধ. কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হল – ভবিষ্যতের জন্য এর অপরিসীম গুরুত্ব. কারণ যুব হকিতে সোনা প্রতি হকি খেলোয়াড়ের জন্যই প্রধান দলে ডাক পাওয়ার জন্য এক বড় ধরনের আবেদনের সমান. আর বড়দের দলকে এই বছরেই প্রমাণ করে দেখাতে হবে যে, তারাও বিশ্বের একটা সেরা দল, তার সঙ্গে রয়েছে ২০১৪ সালের সোচী শীত অলিম্পিকে জেতার অঙ্গীকার রক্ষার জন্য একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ.