২০১০ সালে রাশিয়াতে শিল্পোত্পাদনের পরিমানে উন্নতি হতে চলেছে গত ২০০৯ সালের তুলনায় শতকরা সাড়ে আট ভাগ. কিছুটা কম হতে চলেছে জাতীয় সার্বিক উত্পাদন – প্রায় চার শতাংশ. এই ধরনের তথ্য থেকে বোঝা সম্ভব হয়েছে যে, দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি এসেছে ও বিনিয়োগ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা রয়েছে.

    এই বছরে ব্যাঙ্ক গুলি দেশের উত্পাদনের ক্ষেত্রে বড় ও ছোট কোম্পানী গুলিকে সক্রিয় ভাবে ঋণ দিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার সবের ব্যাঙ্কের বিশ্লেষক নিকোলাই কাশ্যেভ, তিনি বলেছেন:

    "অর্থনীতিকে বিরাট পরিমানে চাঙ্গা করার কাজ করা হয়েছে, বছরের বেশী সময়েই স্টক মার্কেট তেজী ছিল, এর ফলে ব্যাঙ্ক গুলি ২০০৯ সালের নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা কিছুটা হলেও ফেরাতে পেরেছে, সরকারি সহায়তা পাওয়া বড় ব্যাঙ্ক গুলি ঋণ দেওয়ার জন্য আরও নানা রকমের কাজ করছে, এটা বড় ব্যাপার. এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয় ও দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ. সব মিলিয়ে জনগনের ভরসা বেড়েছে ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার উপরে, দেশের মুদ্রার উপরেও তা বেড়েছে. দেশীয় মুদ্রায় লোকে জমা রাখতে চাইছে, যদিও জমার উপরে সুদের হার কম হয়েছে তাও".

    একটি বড় সমস্যা থেকে গিয়েছে কোম্পানী গুলির জন্য ঋণের ক্ষেত্রে সুদের অত্যন্ত চড়া হার, যা বড় ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে অন্তরায়. তাই বড় ব্যবসা প্রায়ই ঋণ পাওয়ার জন্য বিদেশী ব্যাঙ্ক গুলির কাছে হাত পাতছে, এই কথা উল্লেখ করে কাশ্যেভ বলেছেন:

    "যদি দেশের ভিতরে মূল্য বৃদ্ধির হার বেশী হয়, তা হলে বোঝা সম্ভব যে, যে সমস্ত জায়গায় মূল্য বৃদ্ধির হার কম সেখানের চেয়ে সুদের হারও হবে বেশী. এছাড়া বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বিনিয়োগ কারী সংস্থা গুলির পক্ষে নিজেদের উপরে বড় ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার উপরেও. যদি তাঁদের সেই রকমের ক্ষমতা না থাকে, তবে তাঁরা ঋণের উপরে সুদ চাইবেন ও বেশী. রাশিয়ার বড় কর্পোরেশন গুলির আয়তন বিশ্বের বড় কোম্পানী গুলির চেয়ে কম নয়, আর রাশিয়ার ব্যাঙ্কের মাত্র কয়েকটি এই সংস্থা গুলির প্রয়োজনীয় ঋণের কিছুটা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে. আপাততঃ পশ্চিমের দেশের বিনিয়োগের বাজার খুবই উন্নত, তাই অনেক কিছু করতে হবে, যার মধ্যে রাশিয়ার ব্যাঙ্ক গুলির মুল ধনের পরিমান বাড়ানোও রয়েছে. এর ফলে বেশী ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব হবে. রাশিয়া বর্তমানে এই পথেই চলেছে".

    খুব শীঘ্রই বিশেষজ্ঞ মনে করেছেন যে, রাশিয়ার ব্যাঙ্ক ব্যবস্থায় এই ধরনের পরিবর্তন হতে পারে. এর ফলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভরসা যোগ্য ধাক্কা সামলানোর ব্যবস্থা তৈরী হবে ও ঋণের ক্ষেত্রে নিজের উপরেই ভার নেওয়া সম্ভব হবে.