২০১০ সাল সেই সব ঘটনাবলিতে সমৃদ্ধ ছিল, যাকে ন্যাসঙ্গতভবে বলা যেতে পারে “কালো রাজহংস”. এ পরিভাষা একসময় প্রবর্তন করেছিলেন বিখ্যাত আমেরিকান ট্রেডার নাসিম তালেব. অভ্যস্ত জীববযাত্রার মাঝে হঠাত্ এমন কিছু ঘটে, যাকে একদিক থেকে মনে হয়  অসম্ভব ঘটনা, আবার অন্য দিক থেকে, এতে অসম্ভব কিছু নেই, যা সবকিছু বদলে দিতে পারে. এই “কালো রাজহংসের” আবির্বাবের পূর্বাভাষ দেওয়া যায় না, কিন্তু তা নিয়ে আসে মৌলিক পরিণতি. প্রধান ব্যাপার হল এই যে, লোকে পরে তার ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত, সকলকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করে যে, এটা ছিল আশান্বিত.

   ২০১০ সালে প্রথম এমন ঘটনা বলে মনে করা যেতে পারে আযারল্যান্ডের এইয়াফিয়াতলাইয়েকুড্ল আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ. এপ্রিল মাসের দ্বিতায়ার্ধে ইউরোপের আকাশ ঢেকে গিয়েছিল ধোঁয়ায়, বিমান কোম্পানিগুলি বাতিল করেছিল প্রায় এক লক্ষ বিমানযাত্রা, তাদের ক্ষতি হয়েছিল ২০০ কোটি ইউরো. আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ দেখিয়েছে যে, একক ইউরোপ একক পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হয় নি, রেডিও রাশিয়া বেতার কেন্দ্রকে প্রদত্ত এক ইন্টারভিউতে বলেছেন এর.বে.কা টেলি-চ্যানেলের তথ্য বিশ্লেষণ বিভাগের ডিরেক্টর আলেক্সান্দর ইয়াকোভলেভঃ

   এ ঘটনা দেখিয়েছে যে, লজিস্টিক্সের দিক থেকে ইউরোপীয় অর্থনীতি পূর্বাভাষাতীত আবহাওয়ার পরিবেশের উপর অতি ভাষণভাবে নির্ভরশীল. প্রসঙ্গত, আমরা এখন একেবারে এ রকম ঘটনাই দেখতে পাচ্ছি. ইউরোপ ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে, বরফে ঢেকে গেছে. ওয়ারশ থেকে লন্ডন পর্যন্ত সবকিছু নিশ্চল হয়ে রয়েছে. এ ক্ষেত্রে সত্যি সত্যিই বলা যেতে পারে যে এ অপ্রত্যাশিত ঘটনা ইউরোপীয় সভ্যতা ও অর্থনীতির অবস্থাকে মোটেই প্রীতিকর আলোকে তুলে ধরে না.

   অন্য ঘটনা, যা এ বছরে বিশ্ব প্রথার উপর গুরুতর প্রভাব বিস্তার করেছে, তা হল উইকিলক্সের সাইটে সমরসেবীদের রিপোর্ট এবং কূটনীতিজ্ঞদের গোপন পত্রালাপের প্রকাশ. সকলে আবার বিশ্বস্ত হয়েছে যে, রাজনীতি – নোংরা বিষয়. তবে এ সবের প্রকাশ তথ্য রক্ষা সম্পর্কে বিতর্কে প্রেরণা দিয়েছে, বলেন আলেক্সান্দর ইয়াকভলেভঃ

   এ সব কিছু এক স্বকীয় ধরণের পূর্ণপরিসরের তথ্য যুদ্ধে পরিণত হয়েছে. আমি এ সম্ভাবনা বাদ দিই না যে, ভবিষ্যতে, আগামী দশকে আমরা এ ধরণের যুদ্ধ বাধার সাক্ষী হব. তার অর্থ, শীতল ও গরম যুদ্ধ সরে আসবে তথ্যের ক্ষেত্রে, আর আমরা তথ্য ক্ষেত্রে ইন্টারনেটে লড়াইয়ের সাক্ষী হব.

   মুদ্রা ক্ষেত্রেও লড়াইও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়. সারা পৃথিবী ইউয়ানের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিরোধিতা লক্ষ্য করেছে, ার ইউরোপ এদিকে পৃথক পৃথক দেশের বাজেটের ফুটো সেলাই করার চেষ্টা করেছে. বছরের গোড়ায় যাদের PIGS নামে ( পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড, গ্রীস ও স্পেনের আদ্যাক্ষর) ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছিল, বছরের মাঝামাঝি সকলের জন্য গুরুতর মাথাব্যথায় পরিণত হয়. ফলে, গ্রীস ও আযারল্যান্ড বিশেষ ইউরোপীয় সাহায্য তহবিলের আর্থিক সাহায্য ব্যবহার করেছে. আর এটি ইউরোপকে বাঁচানোর গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সূচনাস্বরূপ হয়ে উঠতে পারে, মনে করেন আলেক্সান্দর ইয়াকোভলেভঃ

   আগামী বছরে আমরা একসারি ইউরোপীয় দেশের সার্বভৌম ঋণের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হব. সহজেই বোধগম্য যে,রা,্ট্রগুলি বিপুল প্রচে,্টা চালাচ্ছে যাতে বাজেটের ঘাটতি কমানো যায়, যাতে ব্যয় হ্রাস শুরু করা যায়, এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কোনোভাবে স্থিতিশীল করা যায়.কিন্তু কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ সমাজ জীবনে প্রতিফলিত না হয়ে পারে না. আর আমরা ইউরো-অঞ্চলে স্ক্রু-টাইট করার পটভূমিতে গুরুতর প্রতিবাদ অভিযানের প্রত্যক্ষদর্শী হব.

   আজ বছরের ফলাফলের খতিয়ান টেনে বহু বিশেষজ্ঞ বলছেন যে, এ সব ঘটনা পূর্বাভাষযোগ্য ছিল. কিন্তু যে উদ্যমের সাথে তাঁরা আজ তা সারা পৃথিবীকে প্রমাণ করছেন, তা শুধু এ কথাই সমর্থন করে যে, এটি ছিল “কালো রাজহংস”. আর আপাতত বোঝা সম্ভব হচ্ছে না, বিশ্ব সভ্যতার জন্য এ ঘটনা কিভাবে শেষ হবে.