বিগত বছর আফগানিস্তানে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সম্মিলিত নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বহুলাংশে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বছর হয়েছে. বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন করার পরে জোটের সেনারা তৈরী হচ্ছে বাক্স গোছানোর জন্য. ২০১১ সালের জুলাই মাসে শুরু হতে চলেছে এই দেশ থেকে ন্যাটো জোটের উদ্যোগে গড়া নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমান্বয়ে প্রত্যাবর্তন.

    অবশ্যই কেউই এখনও সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথা বলছে না, এই প্রক্রিয়া এখনও চলবে আরও অনেক বছর. ধারণা রয়েছে যে, ২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের সরকারের পক্ষে দেশের নিয়ন্ত্রণ এতটাই করা সম্ভব হবে যে, বাইরের সাহায্যের প্রয়োজন হবে খুবই কম. বিগত বছর প্রমাণ করেছে যে, এতটা হতে প্রচুর সময় লাগবে. ২০১০ সালে ন্যাটো জোটের বাহিনী তালিবদের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুদ্ধ করেছে, কিন্তু ঐস্লামিক চরমপন্থীদের সঙ্গে দ্রুত বিজয়ের কথা বলার সময় এখনও আসে নি. তাছাড়া অন্যান্য আভ্যন্তরীণ সমস্যাও রয়েছে তুঙ্গে. যদিও রাষ্ট্রপতি কারজাই ২০০৯ সালের নির্বাচনের পরে আইন সম্মত ভাবেই আছেন ও তাঁকে আর মার্কিন নিয়োজিত রাষ্ট্রপতি বলা যায় না ও দেশে লোকসভা নির্বাচনও হয়েছে, যদিও তা সভ্য দেশের ধারণার থেকে অনেক দূরের বিষয়, তাও সেই নির্বাচনকেও বিশ্ব সমাজের পক্ষ থেকে আইন সঙ্গত বলেই মেনে নেওয়া হয়েছে. এই ভাবে আপাত দৃষ্টিতে কেন্দ্রীয় সরকারের খুঁটি শক্ত করা হয়েছে. কিন্তু কারজাই এর অধীনে রয়েছে যুদ্ধে অক্ষম সেনা বাহিনী ও দুর্বল পুলিশ বাহিনী, সবচেয়ে বড় কথা হল দেশের সরকারি কর্মচারীরা ব্যাপক ভাবে দুর্নীতি গ্রস্থ. তার ওপরে আফগানিস্তানের স্থানীয় ছোট বড় নেতারা সকলেই কাবুলের থেকে তাঁদের সার্বভৌমত্ব দেখানোর জন্য সদা প্রস্তুত.

    ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক সমাজ আফগানিস্তানের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য কম সক্রিয়তা দেখায় নি. প্রথমে জানুয়ারী মাসে লন্ডনে ও পরে গরম কালে কাবুলে দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন করা হয়েছিল কারজাই সরকারকে সমর্থনের জন্য. সেখানে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য কথা হয়েছে, মুখ্য বিষয় ছিল মাদক ব্যবসা থেকে উদ্ধার. আফগানিস্তানের বৈদেশিক ঋণ মকুব করে দেওয়া হয়েছে, শুধু রাশিয়া একাই প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের ঋণ হিসাবে ১২ বিলিয়ন ডলার ঋণ মকুব করে দিয়েছে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতিকে ঠিক করার জন্য কি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে "রেডিও রাশিয়া" কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ইগর সোতনিকোভ বলেছেন:

    "রাশিয়া সক্রিয়ভাবে আফগানিস্তানের জমিতে কাজ করছে, বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা মূলক সম্মেলন ও কারজাই সরকারকে সমর্থন করে চলেছে. অংশতঃ তাঁকে এক দল সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে, যাতে তাঁরা আফগানিস্তানের পুলিশ বাহিনী ও সামরিক বাহিনীকে তৈরী করতে পারে উপযুক্ত ভাবে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়া পশ্চিমের দেশ গুলি, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছা স্বত্ত্বেও, সেখানে কোন রকমের সামরিক শক্তি পাঠায় নি, আফগানিস্তানকে শুধু রাজনৈতিক ভাবেই সহায়তা করে চলেছে".

    আফগানিস্তানের একটি প্রধান সমস্যা হল – মাদক ব্যবসার সঙ্গে লড়াই. আন্তর্জাতিক সমাজের লক্ষ্য রয়েছে এই দেশ থেকে বের হওয়া মাদক পাচারকে ধ্বংস করার, কিন্তু এই বিষয়ে সম্মিলিত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে. রাশিয়া জোর দিয়েছে সেখানে আফিমের চাষ ধ্বংস করার জন্য, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উল্টো বলছে যে, এর ফলে আফগানিস্তানের গরীব চাষীর রুটি বন্ধ হবে, তারা যুদ্ধের সময়ে এই সম্বন্ধে কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না. যদিও আমেরিকা ও রাশিয়ার বিশেষ বাহিনী গত বছরে সম্মিলিত ভাবে মাদক উত্পাদনের কারখানা ধ্বংস করতে সফল হয়েছে, তবুও সমস্যা সমাধানের থেকে এখনও অনেক দুর অস্ত.

    এই পট ভূমিকায় আমেরিকার ঘোষিত সেনা প্রত্যাহার ও আফগান সরকারকে দেশ চালাতে দেওয়া বহু বিলম্বিত হয়ে পড়তে পারে. তালিবান আন্দোলনের জোর কমে নি, তাদের ভাঙ্গা যায় নি, আফিম চাষের মাঠ কমে নি. জোটের ক্ষতি বেড়েই চলেছে, শুধু ২০১০ সালেই এই দেশ থেকে ৭০০ টিরও বেশী কফিন মৃত যোদ্ধা সহ দেশে পাঠানো হয়েছে. সুতরাং আফগানিস্তানের সমস্যা এখনও বহু দিন আন্তর্জাতিক সমাজের মাথাব্যথা হয়েই থাকবে.