মেধাবী প্রজন্মের সময় এসেছে. বিগত বিশ বছরে বাচ্চাদের মেধা এক বৈপ্লবিক উন্নতি করেছে, বিজ্ঞানীরা তাই বলছেন. যেমন, দুই হাজার সাল থেকে জন্ম নেওয়া বাচ্চাদের মধ্যে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন – বিশেষ রকমের প্রতিভাবান.

সেই কারণেই রাশিয়াতে অল্প বয়সী প্রতিভা দের জন্য তথ্য সংগ্রহ করে বিশেষ ভাণ্ডার তৈরী করা হচ্ছে. মেধাবী দের এক বিশেষ দল এর মধ্যেই গঠন হতে শুরু করেছে, এই খবর দিয়েছেন রাশিয়ার সামাজিক পর্ষদের উন্নয়ন ও শিক্ষা কমিশনের সহ সভাপতি ল্যুবোভ দুখানিনা.

"এই ধরনের ভাণ্ডার তৈরী করার দরকার রয়েছে কারণ বাচ্চাদের ব্যক্তিগত উন্নতির পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার জন্য, যাদের সত্যই বহু মুখী প্রতিভা রয়েছে. এই ভাণ্ডারের সৃষ্টি হলে তাদের উন্নতির জন্য বিশেষ ভাবে তৈরী পরিকল্পনাকে রূপায়িত করা সম্ভব হবে. বোঝা যাবে, কাকে বাড়তি শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যেমন, মনে করা যাক কোন শেয়ার বাজারের কাজ বোঝার জন্য বা তা নিয়ে ব্যবসা করার জন্য. কার প্রয়োজন ন্যানোটেকনলজি বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ অথবা ন্যানো পদার্থ নিয়ে অনুশীলন. আর তখন সেই ধরনের বাচ্চাদের উন্নতির জন্য প্রয়াস সফল হবে".

বিজ্ঞানীদের মতে, ক্ষমতার স্তর নির্ভর করছে মাথার ভিতরে মগজ কতটা পুরু তার উপরে. প্রাগৈতিহাসিক লোকেদের এই স্তরের প্রস্থ ছিল এক মিলিমিটার, বর্তমানে এটা তিন থেকে চার মিলিমিটার. খুবই সম্ভব যে, প্রতিভাবান বাচ্চাদের মগজ আরও বেশী প্রস্থের. কারণ তারা খুবই তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যাচ্ছে. মনস্তত্ব বিদ ও শিক্ষকদের যৌথভাবে তৈরী করা শিক্ষণ প্রক্রিয়া খুবই সহজে নিরুপণ করতে সাহায্য করে, শিশু প্রতিভাবান কি না. কিন্তু প্রতিভাবান শিশু ও বিস্ময় বালক এটা আলাদা ধারণা. "ইন্টেলেকচুয়াল" নামের এক বিশেষ আবাসিক স্কুলের ডিরেক্টর ইউরি তিখোরস্কি বলেছেন – "এটা মনস্তত্ব বিদ ও শিক্ষকদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী এর ব্যাপার নয়. বিস্ময় বালক তার সমসাময়িক দের চেয়ে মানসিক শক্তিতে অনেক সময়ই মাত্র একটি দিকে বেশ কয়েক বছর এগিয়ে থাকে. আর প্রতিভাবান শিশু মানসিক ও পঠন বিজ্ঞান অনুযায়ী উন্নতি করে তার বয়স উপযোগী – শুধু সে বেশী প্রতিভা দেখাতে পারে ও তার লক্ষ্য নির্দিষ্ট".

এই ধরনের বাচ্চাদের জন্যই, যাদের মন কোন রকমের বাধাহীণ, অনেক সময়ই বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে ও এমনকি বহু বিভিন্ন বিষয়ে নতুনের উদ্ভাবনা ও নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারা সম্ভব হয়. তাই তাদের সাহায্যের জন্য যে সমস্ত ব্যবস্থা রাশিয়ার প্রশাসন মনে করেছে আগামী বছর গুলিতে নতুন বৈজ্ঞানিক ও অন্যান্য আবিষ্কার গুলির জন্য প্রাথমিক ভাবে প্রয়োজন. জাতীয় নির্দিষ্ট কৃত পরিকল্পনা "রাশিয়ার শিশু" বলে যে পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছেন, তার মধ্যে "প্রতিভাবান শিশু" বলে একটি আলাদা পরিকল্পনাও রয়েছে, যা বিশেষ স্কুল, জিমন্যাসিয়াম ও ইনস্টিটিউট ও অনুসন্ধান কেন্দ্র গুলিকে খুব ভাল রকমের অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে.

প্রসঙ্গতঃ দেখাই যাচ্ছে যে, প্রতি শিশুই তারা বা মায়ের কাছে সবচেয়ে প্রতিভাবান, কারণ প্রতিভা সকলের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে.