২০১০ সালে বিশ্বের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু নতুন রাজনৈতিক চরিত্রের উদ্ভব হয়েছে. তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রথমেই দেশের ভিতরে ও বাইরে সমালোচনার ঝড়ে পড়েছেন, অন্যরা আগে থেকেই সমর্থনের ব্যবস্থা করে ফেলেছেন, আর তৃতীয় দলের লোকেরা কিছুই করেন নি, কিন্তু তাঁদের উদ্ভবই একটা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে.

    হাঙ্গেরী ১লা জানুয়ারী থেকে ইউরোপীয় সংঘের নেতৃত্ব দেবে. হাঙ্গেরীর সরকার প্রধান ভিক্তর অরবান মনে করেন যে, এটা ইউরোপের পক্ষে ভাল হবে. কিন্তু অন্য প্রশ্ন হল যে, ইউরোপ হাঙ্গেরীর নতুন প্রধানমন্ত্রী, যিনি গত বছরের এপ্রিলে ক্ষমতায় এসেছেন, তাঁর সিদ্ধান্তে খুশী নয়. সমালোচনার মুখে পড়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত (যেমন, দেশের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পেনশন ফান্ড গুলির জাতীয় করণ), সংবাদ মাধ্যমের সংস্কার, যা ইউরোপের সম্মিলিত লোকসভা পরিষদে এমনকি স্বৈর তন্ত্রে প্রত্যাবর্তন বলে উল্লেখ করা হয়েছে.

    নেদারল্যান্ড দেশের পরিস্থিতিকেও বিশ্লেষকেরা খুবই সাবধান হয়ে দেখছেন, যেখানে অতি দক্ষিণ পন্থী স্বাধীনতার দল শক্তিশালী হচ্ছে, যারা গত বছরের জুন মাসে লোকসভা নির্বাচনে তৃতীয় স্থান দখল করতে পেরেছে. এই দলের উদ্যোক্তা নেতা গার্ট উইলডার্স তাঁর মুসলমান বিরোধী বক্তৃতার জন্য পরিচিত. এই ধরনের মানসিকতা আরও বেশী করে ইউরোপে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়া কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন মস্কোর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডেপুটি জেনেরাল ডিরেক্টর আলেকজান্ডার কারাভায়েভ, তিনি বলেছেন:

    "বিগত কিছু কাল ধরেই অতি দক্ষিণ পন্থী কট্টর দল গুলি শক্তিশালী হতে দেখা গিয়েছে. এর কারণ যে, ইউরোপীয় সংঘ বর্তমানে সহজ বোধ্য ভাবে সেই সমস্ত আশঙ্কার কোন জবাব দিতে পারছে না, যা পূর্ব ইউরোপ ও ইউরোপীয় সংঘের বাইরের দেশ গুলির থেকে আগত লোকেদের সঙ্গে জড়িত. দক্ষিণ পন্থী দলগুলি তাদের স্লোগানে জোর দিয়ে বলছে যে, তারা ক্ষমতায় এলে অভিবাসন সংক্রান্ত নীতির সংশোধন করবে ও তা আরও কঠোর করবে".

    আরও একটি বিশ্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখ যোগ্য ঘটনা হল উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য পরবর্তী নেতা হিসাবে কিম চেন ইর এর ছোট ছেলে কিম চেন ঈন এর উদয়. উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে বাধ্যতামূলক ভাবে যে ব্যাচ পরতে দেওয়া হয়েছে, তাতে দেশের প্রতিষ্ঠাতা ঠাকুর্দা কিম ইর সেন ও বাবা কিম চেন ইর এর সঙ্গে ছেলের মুখের ছবি খোদাই করা. বিশেষজ্ঞরা অন্যান্য নতুন পন্থা গুলিও খেয়াল করেছেন. তাঁকে সম্বোধন করার জন্য বলা হয়েছে "শ্রদ্ধেয় কমরেড কিম চেন ঈন" অথবা "কেন্দ্রীয় সামরিক পরিষদের শ্রদ্ধেয় সহসভাপতি" বলতে. কিন্তু আপাততঃ কিম চেন ঈন শুধু তাঁর পথের শুরুতে রয়েছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন, তাঁর এখনও দেশ চালানোর জন্য অনেক কাজ শেখা বাকী, রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের কোরিয়া অনুসন্ধান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কনস্তানতিন আসমোলভ বলেছেন:

    "সে ধীরে ক্ষমতায় আসছে, কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, তাঁর এখনও অনেক শেখা বাকী. তার বয়স এখনও তিরিশ হয় নি, প্রশাসনের উপযুক্ত অভিজ্ঞতা তাঁকে অর্জন করতে হবে".

    আর ব্রাজিলের নূতন রাষ্ট্রপতি ডিলমা রুস্সেফ্ফ এই অভিজ্ঞতা এর মধ্যেই অর্জন করতে পেরেছেন. তিনি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লুইস ইনাসিও লুলী ডা সিলভা যে পথে দেশ চালনা করেছেন, সেই পথেই থাকতে চান বলে, তাঁর অভিজ্ঞতা আগের থেকেই রয়েছে. তিনি দেশের জনগনের সংখ্যা গরিষ্ঠের সমর্থনও পেয়েছেন. আলেকজান্ডার কারাভায়েভ বলেছেন:

    "নতুন প্রজন্মের নেতারা যারা বর্তমানে ক্ষমতায় আসছেন, তাঁরা তাঁদের স্লোগানে বলছেন যে, বড় ব্যবসায়কে সাহায্য না করে জনগনের বড় একটি অংশকে সাহায্য করার কথা, এটাই পরিবর্তনের মূল লক্ষণ".

    বুলগারিয়া থেকে চলে আসা এক রাজনৈতিক অভিবাসন প্রাপ্ত লোকের মেয়ের জীবনের ঝুলিতে প্রচুর অভিজ্ঞতা, তিনি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, ব্যাঙ্ক লুঠ করেছেন, বোমা বিস্ফোরণের আয়োজন করেছেন, তিন বছর জেলেও ছিলেন. বহুকাল তিনি ছায়াতেই ছিলেন. কিন্তু ধীরে হলেও পরিস্থিতির বদল হয়েছে, আর রুস্সেফ্ফ লুলী ডা সিলভার প্রশাসনের প্রধান অবধি হয়েছেন, এর অর্থ হল তাঁর পদ দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদের সমান. প্রশাসনিক সাফল্য ও সঠিক চিত্রণ তাঁকে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশের প্রধান হওয়ার পথে সাহায্য করেছে. আর পরিস্থিতি তাঁর পক্ষে অনুকূল হলে বিশেষজ্ঞরা তাঁকে "ব্রাজিলের জনগনের মা" বলে নতুন নাম দিয়ে রেখেছেন আগে থেকেই.