এই নতুন বছরের একটি মনে রাখার মত তারিখ – প্রথম মানুষের মহাকাশ যাত্রা – ইউরি গাগারীনের ১২ এপ্রিল ১৯৬১ সালের প্রথম মহাকাশ ভ্রমণের পঞ্চাশ বছর. পৃথিবীর চারপাশে পাক খেয়ে আসা বীরের তখন বয়স ছিল ২৭ বছর. তাঁকে দেশে ও বিদেশে সবাই মনে রেখেছে এক অল্প বয়সী হাসিখুশী মানুষ হিসাবেই.

    রাশিয়াতে এই বছরে ঘোষিত রুশ মহাকাশ গবেষণার বছরে যুবক যুবতীদের মনে করা হয়েছে প্রধান অংশীদার, এই কথা বলে রাশিয়ার লোকসভার যুব পরিষদের উপপ্রধান ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া দলের সের্গেই বেলোকোনেভ উল্লেখ করেছেন:

    "আমরা গাগারীনের মহাকাশ যাত্রা নামের একটি প্রকল্প শুরু করেছি. এর মূল ধারণা হল – যাতে রাশিয়ার সকলেই, বিশেষ করে অল্প বয়সী লোকেরা, আর রাশিয়ার বাইরের যত বেশী সম্ভব লোক মনে করতে পারেন ও এমনকি জানতেও পারেন যে বিশ্বের প্রথম মহাকাশচারী ছিলেন আমাদের নিজেদের দেশের লোক, আমাদের স্বভূমির লোক. দ্বিতীয় কাজ হল, পঞ্চাশ বছরকে উপলক্ষ করে যথা সম্ভব বেশী লোককে দেশের অর্থনীতির আধুনিকীকরণে ও উদ্ভাবনা প্রযুক্তির কাজে সামিল করা. যাতে যাঁরা উচ্চ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়".

    এই উদ্দেশ্যে রাশিয়াতে শুরু হয়েছে ছাত্র ও অল্প বয়সী বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে উচ্চ প্রযুক্তি বিষয়ে আবিষ্কার নিয়ে প্রতিযোগিতা. তা ছাড়া সের্গেই বেলোকোনেভ বলেছেন যে, মহাকাশ বিষয়টিকে নতুন বছরে এক আধুনিক ব্র্যান্ড হিসাবে প্রচার করতে হবে. সামাজিক বিজ্ঞাপণ যাঁরা তৈরী করেন, তাঁরা এখনই এই বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছেন. তার মধ্যে গাগারীনের জন্মভূমি স্মোলেনস্ক অঞ্চলে একটি বড় সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজন করার কথাও রয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার দেশী ও বিদেশী আধুনিক শিল্পীরা অংশ নেবেন.

    এই মহোত্সব যেন কোন সরকারি ব্যাপারে পরিনত না হয়ে যায়, তার জন্য সাবধান করে দিয়ে রসকসমস সংস্থার  তথ্য বিভাগের প্রধান আলেকসান্দ্রা ভরোবিয়ভা বলেছেন:

    "আমরা খুবই আশা করব যে, আনুষ্ঠানিক ব্যাপার গুলি বাদ দিয়ে যেমন, মেডেল দেওয়া, স্ট্যাম্প উদ্বোধন, যা সাধারণতঃ এই ধরনের উত্সবে ঘটে থাকে, মহাকাশের প্রতি মানুষের সম্পর্কের আবার পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে. আমাদের দেশে এমন হয়েছিল. যখন লোকেরা রাস্তায় বেরিয়ে ছিলেন দলেদলে, আকাশে টুপি ছুঁড়ে চীত্কার করেছিলেন গাগারীন, যুবক যুবতীদের এই ধরনের উচ্ছসিত আবেগময় আগ্রহ সম্বন্ধে বর্তমানের ছেলেমেয়েরা শোনেও নি আর জানেও না. কারণ প্রথম মানুষ মহাকাশে যেতে পেরেছে – এটা সেই সময়ের জন্য একটা বিরাট ঘটনা ছিল".

    ভস্তক মহাকাশ যানের যাত্রা শুরু – এটা শুধু বিংশ শতকেরই একটা প্রধান ঘটনা নয়, বলা যেতে পারে সমগ্র মানব সমাজের সারা ইতিহাসেরই এক অনন্য ঘটনা – এই কথা বলেছেন ইউরি গাগারীনের মহাকাশ যাত্রার পঞ্চাশ বছর অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন, অনুষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের প্রথম সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে. – আকাশ ভেদ করে বের হতে পারা সব সময়েরই জন্য মানুষের বীরত্বের এক প্রমাণ হয়ে থাকবে, যা মানুষকে জ্ঞান আহরণের প্রগতির কথা মনে করিয়ে দেবে. আর আমাদের দেশের জন্য এই ঘটনা সত্যিকারের জাতীয় বিজয়, যা দেশকে ও সমগ্র জাতিকে একত্রিত করেছে.