ভারত শিল্প কলার প্রতি আগ্রহ জাগায়. এ সম্বন্ধে অনেক শিল্পীই বলেছেন, সঙ্গীতকার, অভিনেতা সকলেই. রাশিয়ার জাতীয় শিল্পী ও মস্কোর রোয়েরিখ নামাঙ্কিত শিল্প ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির আনিসিমভ এখন প্রচুর রঙ ও ছবি আঁকার কাগজ কিনছেন. জানুয়ারী মাসে তিনি তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন. এই দেশে তাঁর কত বারের এটা সফর হতে চলেছে, তা বলা দুষ্কর.

১৫ বছর আগে কুলু উপত্যকার নগর শহরে এই প্রতিভাশালী, শক্তিধর শিল্পীকে ডাকা হয়েছিল প্রথমবার বিশ্ব বিখ্যাত শিল্পী নিকোলাই রোয়েরিখের স্মৃতিতে নিবেদিত বাড়ী ও এলাকা পুনরুদ্ধার করার জন্য. গত শতকের তিরিশের দশকে ভারতে বাস করার সময়ে এই পরিবারের গৃহ ও তাঁদের সৃষ্ট ঊরুস্বতী অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বাড়ীটির মেরামতের দরকার পড়েছিল. ভ্লাদিমির আনিসিমভ যাঁরা নিকোলাই রোয়েরিখ ও তাঁর পরিবারের লোকেদের শিল্প ও দর্শণের সঙ্গে সহমত হতে পেরেছেন, সেই রকমের শিল্পী ও সংস্কার সাধকের একটি দলকে নিয়ে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন. প্রতি বছরে বেশ কয়েক মাস ধরে তাঁরা সেখানে গিয়ে খুবই মনোযোগের সাথে পুনরুদ্ধারের কাজ করেছিলেন, আর যে টুকু ফাঁকা সময় পেয়েছেন, তখন ছবি এঁকেছেন.

"ভারত আমার সারা জীবনের মধ্যেই প্রবেশ করেছে, এ দেশ আমার বেশীর ভাগ ছবিতেই রয়েছে. আমি হিমালয়ে বসে ছবি এঁকেছি, যা সবার থেকে বেশী সুন্দর করে ধরা রয়েছে নিকোলাই রোয়েরিখের ছবিতে. আমার সৌভাগ্য হয়েছে ভারতের প্রায় সমস্ত রাজ্যেই যাওয়ার. ভারতীয়দের সঙ্গে আলাপ করে আমি খুবই খুশী, তাদের অনেককে আমি এঁকেছি, তাদের আমার আঁকা ছবি উপহার দিয়েছি. আমি খুশী যে, আমার ছবি ভারতে বহু প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে, সে দেশের যাদুঘর ও চিত্র শালাতেও আমার আঁকা ছবি রয়েছে".

নতুন শতকের শুরুতে তাঁদের ক্লাব কাজ শুরু করছিল, এখন ভারতের উপরে তাঁর বন্ধু শিল্পীদের আঁকা ছবির প্রদর্শনী চলছে মস্কোর ভারতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রে. নাম, "নমস্কার ভারত!"

তাজমহল দিনে ও রাতের বিভিন্ন সময়ে, মহাবলিপুরমের মন্দির, দিল্লী, বেনারস, বাঙ্গালোরের বাসিন্দাদের ছবি, তামিলনাডু ও কেরালার মেছো দের গ্রাম, ভারতীয় লোকেদের পবিত্র গঙ্গা নদীতে অবগাহন – এই সবই চিত্রের বিষয়.

    শিল্পী ভিতালি পাপোভ – ভ্লাদিমির আনিসিমভ আয়োজিত প্রায় সমস্ত ভারত সফরের সহকারী, সঙ্গী, তিনি বলেছেন:

"ভারতে না এঁকে থাকা সম্ভব নয়, শিল্পীর জন্য এই দেশে প্রচুর বিষয়, সেখানে হাত থেকে পেন্সিল নামিয়ে রাখাই সম্ভব নয়, আমি তো সমস্ত সময় ধরেই খালি স্কেচ আঁকি এখানে যে সমস্ত বিষয়ে ছবি দেখছেন, সেই সব কিছুকে নিয়েই. ভারতে বারবার যাওয়া, ফিরে আসা, আবার যেতে চাওয়া আমার জীবনের জন্য একটা প্রাথমিক প্রয়োজন আর আনন্দের কারণ".

এই বছরও এঁরা সবাই চলেছেন ভারতে, তার অর্থ হল আগামী বছর আবারও দেখতে পাওয়া যাবে ওঁদের আঁকা বহু নতুন ছবির প্রদর্শনী – দূরের দেশ আজ এঁদের কাজের মধ্যে দিয়েই আপন হয়ে উঠেছে, রাশিয়াতে.