ঐতিহ্য মেনে প্রতি বারের মত এবারেও ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক, রুশ মার্কিন সম্পর্ক, রাশিয়ার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের সম্ভাবনা ও জাতীয় মুদ্রা রুবলের আন্তর্জাতিক অবস্থান – এই সমস্ত প্রশ্নই প্রাথমিক ভাবে সরকারি তালিকাভুক্ত সাংবাদিকদের জন্য আগ্রহের বিষয় হয়েছিল.

    এই ধরনের সাক্ষাত্কার সাধারণতঃ চায়ের কাপ বা শ্যাম্পেনের গ্লাস নিয়ে হয়ে থাকে. এবারে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য কামনা করে শ্যাম্পেনের গ্লাস হাতে তুলে নিয়ে সাক্ষাত্কারের শুরু করেছেন. ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ নিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন কবে সিদ্ধান্ত নেবেন এটাই ছিল প্রথম প্রশ্নের একটা. উত্তর প্রথমে সাংবাদিকদের একেবারেই হতাশ করে দিয়েছিল – "এখনও এই সম্বন্ধে বলা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে". কিন্তু পরে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় ভাবে যোগ করেছেন যে, তিনি ও রাষ্ট্রপতি এই বিষয়ে সহমতে এসে তবেই কোন সিদ্ধান্ত প্রকাশ করবেন.

    ভ্লাদিমির পুতিন দেশ নেতার রুশ মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরকে বিনা শর্তে সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন. তাঁর কথামতো, এই দলিল – রাশিয়ার সঙ্গে বাইরের দুনিয়ার সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়.

    "পররাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভাল পরিস্থিতি দেশের আভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও উন্নতির জন্য অবশ্যই একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ".

    রাশিয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসের পরিমান নতুন চুক্তির সঙ্গে বেড়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে, রাশিয়ার সরকার প্রধান বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, তা সমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বৃদ্ধি পাবে আর পাওয়াও উচিত্, কিন্তু এখনও পুরো মাত্রায় হতে পারে নি.

    বিগত বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় সংঘ ও অন্যান্য প্রধান বিশ্ব অর্থনীতির নির্নায়ক দেশেরা শেষ অবধি রাশিয়ার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের বিষয়ে তাদের মত দিয়েছেন. তারই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আগামী বছরে এই পথে নতুন বাধার সৃষ্টি হতেই পারে বলে মনে করেছেন. তিনি বলেছেন:

    "আমরা যথেষ্ট দিন ধরে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি, বাস্তবে সমস্ত কিছুতেই সহমতে এসেছি. এমনকি আমি বর্তমানে খুব একটা বুঝতেই পারছি না যে, এই সংস্থায় যোগদানের পক্ষে আর কি অন্তরায় থাকতে পারে. কিন্তু বোধহয়, ইচ্ছা থাকলে কোন একটা দাঁড়ি কমা- সেমিকোলনের ভুল বার করা যেতেই পারে, যা রাশিয়াকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দিতে দেবে না. যদি এটা কারও দরকার থাকে তাহলে".

    একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ার বেলোরাশিয়া ও কাজাখস্থানের সঙ্গে শুল্ক বিষয়ে জোট গঠনের পরে বিদেশের সহকর্মীদের বাধ্য করেছে এই সংস্থা যোগদানের বিষয়টিকে দ্রুত করার. তারা বুঝতে পেরেছে যে, আমরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে ছাড়াও চলতে পারব, আরও যোগ করে বলেছেন যে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতি অনুযায়ী শুল্ক জোট গঠন করা হয়েছে.

    রাশিয়ার সরকার প্রধান সমর্থন করে বলেছেন যে, ভবিষ্যতের একটি সম্ভাব্য আশা হল বিশ্বের মুদ্রার বাজারে রুবল কে সম্পূর্ণভাবে বিনিময় যোগ্য করতে পারা. রুবলের স্বাধীন মূল্য নির্ণয় নির্ভর করছে রাশিয়ার নিজের অর্থনৈতিক উন্নতির উপরে. তার সঙ্গেই ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তরফ থেকে রুবলের দাম বড় ধরনের ওঠা নামা বন্ধ করার জন্য হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেন নি. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের সবচেয়ে খারাপ সময়ে রাশিয়া নিজের সোনা ও বিদেশী মুদ্রা তহবিলের কিছুটা খরচ করেছে রুবলকে স্থিতিশীল রাখার জন্য. বর্তমানে এই সঞ্চয়কে আবার পূর্ণ করা হচ্ছে. রাশিয়া আগের মতই চীন ও জাপানের পরে সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানে রয়েছে.