একবিংশ শতাব্দীর বাস্তব নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রুশ রাষ্ট্রের কাজকর্মের দিককেই পরিবর্তিত করে দিয়েছে. এটাই নতুন আইনে খেয়াল করা হয়েছে, যা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ স্বাক্ষর করেছেন.

    ১৯৯২ সাল থেকে চলে আসা আইন বর্তমানের পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাচ্ছিল না. রেডিও রাশিয়া কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এই নতুন দলিল কি জন্য উদ্ভব হয়েছে তার ব্যাখ্যা করেছেন রাশিয়ার দ্যুমার সদস্য আলেকজান্ডার গুরভ, তিনি বলেছেন:

    "এই সময়ের মধ্যে বিপদের চরিত্র পাল্টেছে – সে আভ্যন্তরীন বিষয়ে যেমন, তেমনই পররাষ্ট্র বিষয়ে. তাছাড়া সমস্ত ব্যবস্থাই পাল্টে গিয়েছে – রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সবই, আর আমরা পুরনো আইন অনুযায়ী বেঁচে রয়েছি. সেই কারণেই নতুন নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন, যেখানে বর্তমান অবস্থার সব কিছুই খেয়াল করা সম্ভব হয়েছে ও বর্তমানের বিপদ ও আশঙ্কার কথাও যুক্ত হয়েছে".

    নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের প্রতি লক্ষ্য করে দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন যে, এই দলিলে দেশের জন্য সমস্ত রকমের বিপদের কথা বলা হয়েছে, আর সেই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া করার মাধ্যমের কথাও বলা হয়েছে. এই আইন এক ব্যবস্থা সম্পর্কিত আইন, যা নিরাপত্তা পরিষদের কাজের জন্য করা হয়েছে, দেশের সমস্ত আইন ও নিরাপত্তা রক্ষার দপ্তর গুলির জন্য তৈরী করা হয়েছে. বিগত কিছু বছরে প্রাকৃতিক ও যান্ত্রিক বিপর্যয়ের ঘটনা বারে বারেই ঘটেছে, সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সমস্যা উদয় হয়েছে বিদেশের রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে, বিভিন্ন জোটের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে. রাষ্ট্রপতি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়ে স্ট্র্যাটেজি পাল্টে গিয়েছে.

    আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রধান কাজ হিসাবে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব এবং দেশের অখন্ডতা বজায় রাখা, আর তার সঙ্গে রুশ জনগনের বিদেশে আইন সঙ্গত স্বার্থের রক্ষা করা. রাশিয়া তার স্ট্র্যাটেজিক ভাবে সহকর্মী দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্ককে মজবুত করবে, আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলির সাথে কাজ করবে, আর একই সঙ্গে বিরোধ নিরসনের বিষয়ে সক্রিয় ভাবে কাজ করবে. এই দলিলের নীরস পংক্তি গুলির পিছনে লুকোনো রয়েছে সেই সমস্ত সমস্যার কথা, যেমন জলদস্যূ মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, মাদক দ্রব্য উত্পাদন বন্ধ করা ও মাদক পাচারের পথ রোধ করা.

    নতুন আইনে সেই সমস্ত বিষয়ের কথাও রয়েছে, যেমন, সমাজে জাতি বিদ্বেষ ও নাত্সীবাদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি ও সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া গ্রহণের কথা. দলিলে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়ে প্রধান নীতি. এখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে প্রতিষেধক ব্যবস্থার দিকে বেশী করে ও বিভিন্ন সরকারি বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা করা এবং সাধারন নাগরিক ও সামাজিক সংস্থা গুলির সঙ্গেও সহযোগিতা করার ব্যবস্থা সম্বন্ধে বলা হয়েছে.

    বিশেষজ্ঞরা একটি বিষয়ে সকলেই একমত হয়েছেন যে, সরকারি দপ্তর গুলির কাজ নির্দিষ্ট করে পরিকল্পনা করতে নতুন আইন সাহায্য করবে এবং অর্থনীতি, সামাজিক জীবন ও সমস্ত দিকেই আইন রক্ষা করা সহজ হবে.