বাঘের বছর শেষ হতে চলল. পৃথিবীতে এই বছর মানব সমাজ ডোরাকাটা হিংস্র জন্তু টির জন্য কম কিছু করে নি. ইতিহাসে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র সম্মেলন হয়েছে. এই সম্মেলন যে সমস্ত দেশে বাঘ এখনও স্বাভাবিক বন্য পরিবেশে রয়েছে, তাদের প্রশাসনের সমবেত কাজকর্মের সুরের একটা ঐক্যতান হয়েছে.

সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা, যাঁরা এই বছরের শেষে নভেম্বর মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গে জমায়েত হয়েছিলেন, তাঁরা সম্মিলিত ভাবে সারা বিশ্ব জুড়ে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য এক সর্ব ব্যাপী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন. ১৩ টি দেশের প্রতিনিধি দল, যেখানে বনে এখনও বাঘ ডাকে, তাঁরা নিজেদের সামনে কাজের তালিকার মধ্যে রেখেছেন আগামী বারো বছর পরে আবার বাঘের বছর শুরু হওয়ার আগে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার. প্রত্যেক দেশ তাদের জাতীয় বাজেট থেকে আলাদা করে অর্থ দেবে. কিন্তু এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন. বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিল সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৫০ মিলিয়ন ডলার আলাদা করে বাঘের জন্য বরাদ্দ করার. এই আশ্বাস পূরণ করার জন্য সংস্থাকে সাহায্য করবে আলাদা করে ব্যক্তিগত দান, যারা বন্য প্রাণী তহবিলের কাজকে সমর্থন করেন. তাঁদের মধ্যে – বিখ্যাত হলিউডের নায়ক লিওনার্ডো দে কাপ্রিও আছেন. তিনি ঘোষণা করেছেন, বন্য প্রাণী তহবিলকে ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার.

দে কাপ্রিও সেন্ট পিটার্সবার্গের সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার পরিবেশ বিজ্ঞানীদের বাঘ বাঁচানোর জন্য সক্রিয় শক্তি প্রয়োগকে সমর্থন করেছেন, তিনি বলেছেন:

"রাশিয়া – একটি প্রধান প্রমাণ – কি করে বাঘকে সংরক্ষণ করা যেতে পারে – গত শতকের চল্লিশের দশকে আমি শুনেছি যে, এই দেশে ৪০টির বেশী বাঘ ছিল না, এখন এখানে প্রায় ৫০০ বাঘ. এর মানে হল, পরিকল্পনা কাজ করেছে, বাঘের সংখ্যা বাড়তে পারে আর তা করা আমাদের সাধ্যের মধ্যে".

রাশিয়াতে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তব করার জন্য প্রায় ১৫০০০ লোক নিজেরাই অর্থ দিয়েছেন. তাঁরা বিশ্ব বন্য প্রাণী সংরক্ষণ তহবিলের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন, তহবিল এক অনন্য আহ্বান জানিয়েছিল – চলুন বাঘকে দত্তক নেওয়া যাক. বন্য বিড়ালের দত্তক নেওয়ার প্রমাণ হিসাবে সরকারি ভাবে নিজের পকেট থেকে প্রায় হাজার ডলারের সমান অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন. বছরের শেষে এই রকমের অভিভাবক পেয়েছে প্রায় ২০০টি বাঘ, যা রাশিয়ার প্রিমোরস্ক অঞ্চলে থাকে. এই বছরে শেষ অভিভাবক হতে পেরেছে ভ্লাদিভস্তক শহরের এক ছাত্রী, যার পক্ষে প্রয়োজনীয় অর্থ যোগাড় করা একেবারেই সহজ কাজ ছিল না.

কিন্তু শুধু অর্থ দিয়েই বাঘের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়, বিশ্ব বন্য প্রাণী সংরক্ষণ তহবিলের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছরেই চোরা শিকারীদের হাতে বিশ্বে প্রতিদিন একটা বুনো বাঘ মারা পড়ছে.যদি পরিস্থিতি না পাল্টায় তবে আগামী দশ বছরের মধ্যেই শেষ বাঘ মারা পড়বে. তাই এই সব জঘন্য লোকেদের শাস্তি হওয়া দরকার, সেন্ট পিটার্সবার্গ সম্মেলনের চুক্তিতে একটি অন্যতম অনুচ্ছেদ ছিল এই শাস্তির প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে. আরও একটি বাধ্যতা মূলক বিষয়, যা এখানে আসা দেশ গুলি নিয়েছে, তা হল, বাঘের বসবাসের জায়গায় মানুষের কাজকর্মের সম্বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া. যেখানে বাঘ থাকে, সেখানে ইকোলজির পিরামিডের চুড়াতেই থাকে বাঘ. তাকে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর অর্থ হল, বন্য প্রকৃতিকেই রক্ষা করা, যা শুধু বাঘের জন্যই দরকার নয়.