ভারতীয়রা ভালবাসে উত্সব, আনন্দ আর খুশীর সঙ্গেই তা পালন করে থাকে, যদিও ভারতীয়দের মধ্যে বেশীর ভাগের ধর্ম হিন্দুত্ব, তবুও বড়দিন আর ইংরাজী ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী নববর্ষে ভারতের সব জায়গায় অন্য দেশ গুলির মতই উত্সব হয়. রাস্তা ঘাট, দোকান বাজার, ছোট বেচা কেনার জায়গা এই দিন গুলিতে লোকারণ্য হয়ে থাকে. কেউ বেড়াতে বেরোয়, কেউ বা আত্মীয় পরিজনদের জন্য নূতন বছরের উপহার কেনায় মত্ত. কি এমন হতে পারে, যা তাদের উত্সবকে নষ্ট করে দিতে পারে? বিষয়টিকে বিশদ করেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    বলা হয়ে তাকে যে, বিপর্যয় যে কোন মূহুর্তে ঘটতে পারে, আর তা সাধারণতঃ হঠাত্ করেই ঘটে থাকে. মুম্বাই শহরে যখন সন্ত্রাসবাদীরা হানা দিয়েছিল, তখনও কেউ তা আশা করতে পারেন নি. আর এবারে খবর হয়েছে যে, লস্কর এ তৈবা দলের চার জঙ্গী ভারতীয় বড় কোন শহরে ঢুকেছে ও সন্ত্রাসের ধান্ধা করছে. ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সারা দেশ জুড়ে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে. বিশেষ করে নজর রাখা হয়েছে বড় শহর গুলিতে যেমন, মুম্বাই, আহমদাবাদ, বাঙ্গালোর ও গোয়া রাজ্যে, যেখানে এই দিন গুলিতে প্রচুর বিদেশী পর্যটক. রেল স্টেশন গুলিতে, বিমান বন্দর গুলিতে, মেট্রোতে, বাজারে, শপিং মল গুলিতে, সিনেমা হলে ও রাস্তা ঘাটে আইন রক্ষক বাহিনীর লোকেরা আলাদা করে টহল দিচ্ছে.

    এই ধরনের ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন এবং তা অনস্বীকার্য. মুম্বাই শহরের ট্র্যাজেডি ও তার অভিজ্ঞতা, যা ২০০৮ সালে নভেম্বর মাসে সন্ত্রাসবাদীদের অতর্কিত আঘাতের পরে ঘটেছিল, তা ভারতীয় দের আরও সতর্ক থাকতে বাধ্য করেছে. তখনও লস্কর এ তৈবা দলের জঙ্গীরাই তিন দিন ধরে সারা শহরকে আতঙ্কিত করে রেখেছিল. তারা রাস্তা ঘাটে মানুষ মেরেছিল নির্বিচারে, কোথাও তাদের মারণ যজ্ঞের শেষ হয় নি. ১৬৬ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছিল. এই দল ভারত বিরোধী কার্যকলাপেই বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছে. পাকিস্তানের জমিতে ঘাঁটি গড়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে এরা চোরা পথে ভারতে ঢুকে পড়ে আবার অঘটন ঘটাতে. তারা ভারত পাকিস্তানের সম্পর্ক স্বাভাবিক হোক তা চায় না, সারা অঞ্চলের পরিস্থিতি খারাপ করাই উদ্দেশ্য. মুম্বাই সন্ত্রাসের পর থেকে বন্ধ হয়ে থাকা ভারত পাকিস্তান আলোচনা আজও শুরু হতে পারে নি.

    লস্কর এ তৈবা একমাত্র সন্ত্রাসবাদী সংগঠন নয়, সেখানে নিজেদের দেশের সংগঠনও কিছু কম নেই. বলা যেতে পারে প্রচুর আগাছার মত বেড়ে ওঠা সন্ত্রাস বাদী রয়েছে.

    এই বিষয়ে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান তাতিয়ানা শাউমিয়ান বলেছেন:

    "দুঃখের কথা হল, বিভিন্ন রকমের চরম পন্থী ও সন্ত্রাসবাদী দল আজ ভারতের সর্বত্র ছেয়ে গিয়েছে, এরা কেউ নিজেদের বলে হিন্দু আবার কেউ বলে মুসলমান, মাওবাদী বা কাশ্মীর আলাদা করার দল. মাওবাদীরা বর্তমানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর মতে সবচেয়ে বিপজ্জনক. বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের লোকেরা আজ একসাথে মিলতে শুরু করেছে".

    যে সমস্ত দেশে সন্ত্রাসের বিপদ সবচেয়ে বেশী তাদের গত তালিকায় ভারতের স্থান বর্তমানে পঞ্চদশ. এটা খুব একটা ভাল কথা নয়, কারণ তালিকাতে রয়েছে বিশ্বের ১৯৬টি দেশ. অবশ্যই পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক বা সোমালির চেয়ে ভারতের পরিস্থিতি ভাল, যারা এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে. কিন্তু গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সম্পন্ন ভারতের মতো দেশের জন্য এই ধরনের সন্ত্রাসবাদী আশঙ্কার মাত্রা খুবই বিশাল.

    রাশিয়া ভারতকে সাহায্য করতে তৈরী, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি দেওয়া হবে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি এই ঘোষণাতে যোগ করেছেন নিয়মিত সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণের কথাও. ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার অব্যবহিত পরেই তাঁর ভারত সফর হয়েছিল, এই কথা মনে করে তিনি বলেছেন – রাশিয়ার অভিজ্ঞতাও খুব ভারী ও দুঃখের, তাই সব মিলিয়ে রাশিয়া ও ভারতের একসাথে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমস্ত রকমের আশ্বাস দিয়েছেন.

    মুম্বাই ট্র্যাজেডি আবার হতে দেওয়া যায় না.