২০১০ সালে রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের মধ্যে ২০০৮ সালের সঙ্কটের পরে সম্পর্ক স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে, যা খারাপ হয়েছিল জর্জ্জিয়ার দক্ষিণ অসেতিয়া আক্রমণের পরে, এই বিষয়ে বিশ্বাস করেন রাশিয়ার ন্যাটো জোটে স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি রগোজিন.

২০০৯ সালের শেষে বর্তমানে নূতন সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল. পরবর্তী বছরে এই ভিত্তি আরও শক্ত হতে পেরেছে. রাশিয়া ন্যাটো জোটের সঙ্গে স্থিতিশীল, পূর্ব অনুমেয় সম্পর্ক তৈরী করতে আগ্রহী. দিমিত্রি রগোজিন বলেছেন রাশিয়া জানতে চায়, কার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে, পশ্চিমের দিক থেকে নিজেদের জন্য নিরাপত্তার অভাব হতে পারে কি না. ২০১০ সালে উত্তর অতলান্তিক জোট, নূতন প্রধান সচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেনের নেতৃত্বে রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বিশ্বাস যোগ্য সম্পর্ক স্থাপনের পথ নিয়েছে. ন্যাটো জোটের প্রধান সচিবের মস্কো সফর ও তাঁর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা দেখিয়েছে যে, বর্তমানে যথেষ্ট মত বিরোধ রয়েছে.

কিন্তু ন্যাটো বর্তমানে নূতন স্ট্র্যাটেজিক নীতি গঠন করার কাজে ব্যস্ত রয়েছে. এটা জোটের এক রকমের সংবিধান বলা চলতে পারে, যা কম করে হলেও আগামী দশ বছর জারী থাকবে. আর ন্যাটো বর্তমানের নূতন নীতি গ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে চেষ্টা করছে রাশিয়া সম্বন্ধে জোটের ভিতরে একক দৃষ্টিকোণ তৈরী করতে. এটা সহজ নয়, বাল্টিক সমুদ্র তীরের দেশগুলি ও কিছু পূর্ব ইউরোপের দেশের রাশিয়ার প্রতি বিরাগ বা নেতিবাচক অবস্থানের কথা আলোচ্য হলে. উইকিলিক্স সাইটে কিছু দিন আগে ফাঁস হয়ে যাওয়া দলিল থেকে উত্পন্ন স্ক্যাণ্ডাল প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বাল্টিক সমুদ্র তীরের দেশ গুলি ও পোল্যান্ডের রাশিয়ার থেকে প্রতিরক্ষা সম্বন্ধে ন্যাটো জোটের পরিকল্পনা খুবই সক্রিয় ও তা রাশিয়ার সঙ্গে গঠন মূলক কোন আলোচনার বিপক্ষে.

তা স্বত্ত্বেও ন্যাটো জোটের কিছু দিন আগের লিসাবন শহরের শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ. আর এটাকে রাশিয়া ও পশ্চিমের জোটের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করা হয়ে থাকে. এই কথা উল্লেখ করে দিমিত্রি রগোজিন বলেছেন:

"শীর্ষ বৈঠক ইতিবাচক ফল দিয়েছে. এক বিরল ঘোষণা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে এমনকি খুবই জটিল ও বহু রকমের অর্থ করা যায় এমন ইউরোপের নূতন রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্বন্ধে. এর থেকে কি পাওয়া যেতে পারে, তা আগামী বছরেই দেখতে পাওয়া যাবে".

  একই সঙ্গে কূটনীতিবিদ মনে করেন যে, রাশিয়া অন্যদের রাজনৈতিক জোট সম্বন্ধে কোন রকমের কাল্পনিক ধারণা পোষণ করে না. যে কোন রকমেরই সামরিক জোট – এটা রাশিয়ার জন্য সম্ভাব্য বিপদ, তার কারণ তাদের সামরিক শক্তি রয়েছে, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার স্বার্থের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হতে পারে. এই কারণেই রাশিয়া সক্রিয়ভাবে বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করছে: যাতে নিজেদের বিপদ ও অজানা আশঙ্কার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়. ইতিবাচক ফল হিসাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আজ দুই পক্ষই নিজেদের সম্পর্ক সম্বন্ধে পরিকল্পনা করতে পারছে, তাই দিমিত্রি রগোজিন শেষে উল্লেখ করেছেন:

"যত বেশী করে এই ধরনের সম্পর্ক তৈরী হবে, ন্যাটো জোটের সঙ্গে ও সমস্ত পশ্চিমের দেশ গুলির সঙ্গে, ততই তা রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের জন্য ভাল হবে. কারণ যারা রাশিয়া আতঙ্কে ভীত তাদের মতের বিরুদ্ধে সত্যিকারের বাধা হল সহযোগিতার মূলধন. আমাদের কাজ হল, যাতে ন্যাটো জোটের আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক হারালে ক্ষতির বোধ হয়. এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিগত বছর ছিল সাফল্যের বছর. আর যদি লিসাবন সম্বন্ধে বলতে হয় – তবে বলা উচিত্ হবে বছর ছিল প্রচলিত বাধা ভেঙে ফেলার".

রাশিয়া আশা করেছে যে, রাশিয়ার প্রতি অবস্থানের ক্ষেত্রে জোটের অবস্থান হবে, আরও ভারসাম্য মূলক, একত্রিত ও সুপ্রতিবেশী সুলভ. দিমিত্রি রগোজিন আরও যোগ করেছেন যে, এই ধরনের পরিবর্তনের প্রমাণের জন্য সঙ্কেত হতে পারে ইউরোপের নূতন রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থায় রাশিয়ার নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে অংশগ্রহণ সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত.