রাশিয়ার ত্রাণ কর্মীদের জন্য ২০১০ সাল ছিল বিশেষ বছর. ২৭ শে ডিসেম্বর সবচেয়ে পুরুষত্ব প্রমাণ যোগ্য ও ঝুঁকি জড়িত পেশার লোকেরা বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয় গঠনের ২০ বছর পালন করছেন.

কুড়ি বছরের ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে এই মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা মনে করেন দশ লক্ষেরও বেশী প্রাণ, যা তাঁরা বাঁচাতে পেরেছেন, সেটাই প্রধান সাফল্য. বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের প্রধান সের্গেই শইগু জোর গলায় বলেছেন, "প্রধান হল আগামী দিনের পথে এগিয়ে গিয়ে আমাদের সম্মিলিত মানসিক শক্তিকে সুরক্ষা করা. সেই অনুভূতি, যা আমাদের মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি কর্মীকে গর্বের সঙ্গে বলতে দেয় – আমরা রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ে কাজ করি".

বিপদ সঙ্কেত পাওয়ার পরে তাঁদের তৈরী হওয়ার জন্য থাকে হাতে গোনা কয়েক মিনিট. ত্রাণ কর্মীরা সবসময়েই সেখানে পৌঁছে যান, যেখানে মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন: ভেঙে পড়া ইমারতের ধ্বংস স্তূপের নীচে, অগ্নিকাণ্ডের ভিতরের আগুনে ও ধোঁয়ার মধ্যে, মুচড়ে যাওয়া পরিবহনের ভিতরে, ডুবে যাওয়া এলাকার গভীরে. আজকের বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয় – এটা তিন লক্ষের ও বেশী কর্মী, এটা – কয়েক শ বিমান ও হেলিকপ্টার, এটা – সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি.

বিগত কয়েক বছরে রাশিয়ার ত্রাণ কর্মীদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে বিশ্বের ৬০টি দেশে মানুষের বিপদে সাড়া দিয়ে গিয়ে সাহায্য করার. কাজ উত্সবের দিনগুলিতেও থাকে, বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক কাজকর্মের বিষয়ে ভার প্রাপ্ত ডিরেক্টর ইউরি ব্রাঝনিকভ বলেছেন:

 "লাতিন আমেরিকা মহাদেশের উত্তরে বন্যার কবলে পড়া ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার মানুষদের সাহায্যের জন্য ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে আমাদের বিমান গুলি পাঠানো হয়েছে. চেরনোগোরিয়া থেকে বন্যা ত্রাণে জিনিস পৌঁছে দিয়ে সদ্য ফিরেছে বিমান.আর এই তো কিছু দিন আগেই ইজরায়েলের হাইফা এলাকাতে দাবানল নেভানোর কাজে গিয়েছিল আমাদের বিমান. এই বছরে এই ধরনের উদাহরণ ছিল প্রচুর. ৩৫ টিরও বেশী বিভিন্ন ধরনের কাজে সাহায্য করতে যাওয়া হয়েছে, উন্নতির জন্য সহযোগিতা করা হয়েছে, বিপর্যয় সঙ্কুল জায়গা থেকে রুশী ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও উদ্ধার করতে হয়েছে".

আজ দুই বছর হল, রাশিয়ার মানবিক বিপর্যয়ে প্রতিক্রিয়া করার জাতীয় দল বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে ইউরোপের সম্মিলিত দলের সঙ্গে কাজ করছে. পর্তুগাল ও গ্রীসে ভয়ঙ্কর দাবানলের পর এই বিমান বাহিনী তৈরী করা হয়েছিল বিভিন্ন দেশের বিমান বাহিনীকে এক জোট করে. রাশিয়া ইউরোপের এই দলে পাঠিয়েছে ইল – ৭৬ ও বে – ২০০ বিমান, আর তার সঙ্গে আয়তনের বিষয়ে বিরল হেলিকপ্টার মি – ২৬.

এই বছরের গরমে দাবানলের সঙ্গে যুদ্ধ করার সময়ে রাশিয়াতে, আর বন্যার সময়ে ইউরোপে বিভিন্ন দেশের ত্রাণ ও উদ্ধার কারীরা একসাথে কাজ করেছেন. কিন্তু এই কাজ আরও ভাল করে করা যেত, যদি তা একত্রিত ইউরোপের কোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে চালানো হত. রাশিয়া বিপর্যয় নিরসনের জন্য ইউরোপে কেন্দ্র খোলার কথা আজ প্রথম বছর বলছে না. আর এই প্রকল্পকে এর মধ্যেই সমর্থন জানিয়েছে ফ্রান্স, জার্মানী, সুইজারল্যান্ড, ইতালি এবং ইউক্রেন.