গত দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের বাজারে খনিজ তেলের দাম হয়েছে সবচেয়ে বেশী. ব্যারেল তেল বিক্রী হচ্ছে ৯৫ ডলার করে. মার্কিন অর্থনীতির ইতিবাচক উন্নতির ইঙ্গিত পেয়ে বিনিয়োগ কারীরা আশাবাদী হয়েছেন. তাঁরা আশা করছেন উত্পাদনের উন্নতি হবে অন্যান্য দেশেও, যার ফলে "কালো সোনা"র চাহিদা বৃদ্ধি পাবে.

    নববর্ষের সময়ে সাধারণতঃ তেলের দাম বাড়ে – এটা সবার জানা ঘটনা. কিন্তু এই রকমের দাম বাড়ার বিশেষ কারণ বিশ্লেষকেরা প্রতি বারেই নতুন করে বার করেন, বোধহয় ওঁদের মাথা খুবই বিশ্লেষণে পটু বলে.

এবারে খনিজ তেলের বা "কালো সোনা"র দাম বাড়ার কারণ হিসাবে বলেছেন প্রাকৃতিক বিপর্যয়: ইউরোপে খুব ঠাণ্ডা পড়েছে আর তুষার পাতও হচ্ছে প্রচুর. কিন্তু শুধু প্রকৃতিই বিনিয়োগ কারীদের আগামী দিনের বিষয়ে উত্সাহী করে তোলে নি. তেলের হঠাত্ দাম বাড়ার কারণ হিসাবে মনে করা হয়েছে অল্প স্বল্প হলেও আমেরিকার অর্থনীতিতে উন্নতির ছোঁয়া. তাছাড়া আরও বেশী করে খনিজ তেল ব্যবহার করছে চিন. বেইজিং এ প্রশাসন ইতিমধ্যেই চিন্তিত হয়ে পড়েছে খনিজ তেলের আমদানীর উপরে এত বেশী পরিমানে নির্ভরশীল হয়ে পড়াতে. দেশে বর্তমানে নিজেদের অর্থনীতির প্রয়োজনের মাত্র অর্ধেকের কিছু বেশী মেটাতে সক্ষম হচ্ছে. চাহিদা যখন বেড়েই চলেছে – উত্পাদন থেকে গিয়েছে আগের মতই.

 এই সমস্ত কারণ বিশ্লেষকদের অবশেষে বলতে বাধ্য করেছে যে, বিশ্বের অর্থনীতি অবশেষে সঙ্কট মুক্ত হচ্ছে. রাশিয়ার জ্বালানী শক্তি নিরাপত্তা তহবিলে এই ধারণার সঙ্গে সহমত হতে দেখা গিয়েছে – সেই রকমের একটা ঝোঁক দেখা যাচ্ছে. কিন্তু অন্য একটি দিকও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে: খনিজ তেল বাস্তব কারণেই সস্তা হতে পারে না বলে মনে করেন এই তহবিলের জেনেরাল ডিরেক্টর কনস্তানতিন সিমোনভ, তিনি বলেছেন:

"এর মনে নয় যে, কোন একটা সময়ের জন্য তেলের দাম কম হতে পারে না. এমনকি যারা ফাটকা খেলে তাদের জন্যও কিছু সময়ের জন্য তেলের দাম কমতে পারে, ফলে একটা সময় আসে, যখন রূপকথা বা যাদুর মতো অনুভূতি তৈরী হয়, যে দাম কমার একটা ঝোঁক দেখা দিয়েছে অথবা সস্তা দরের জ্বালানী পাওয়ার সময় এসেছে. কিন্তু এটা বেশ কিছু কারণের জন্য আর ঘটবে না. আমরা বর্তমানে মানব সমাজের অভূতপূর্ব উন্নতির সামনে পড়েছি – মানুষের সংখ্যা খালি বাড়ছে, তাদের বাস্তবেই প্রয়োজন আরও জ্বালানীর. দ্বিতীয় বিষয় হল সব মিলিয়ে আগের থেকে মানুষ ভাল করে বাঁচছে – এর মানেও হল তারা বেশী করে জ্বালানী ব্যবহার করছে. নতুন সমস্ত সক্রিয় ভাবে জ্বালানীর চাহিদা বাড়ছে, এমন সব জায়গা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে - প্রথমে চিন তারপরে ভারত".

আরও একটি কারণ, বর্তমানে জ্বালানী শক্তির দাম নির্ণয়ের কাঠামো তা উত্তোলন করতে হচ্ছে আরও বেশী শক্তি প্রয়োগ করে. যে সমস্ত জায়গা থেকে তেল উত্তোলন করা হচ্ছে, তার ভাণ্ডার ফুরিয়ে আসছে. নূতন জায়গা খুঁজে বের করতে কোম্পানীদের আরও বেশী করে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে. সুতরাং শীঘ্রই প্রচুর সস্তায় তেল পাওয়া যাবে, এমন ভাবাই ভুল. বিশেষজ্ঞ যেমন বলতে চেয়েছেন যে, খনিজ তেল এখনও আরও ৪০- ৫০ বছর দামী জিনিসই থাকবে. আর তার দাম পড়তে পারে শুধু একটি কারণেই: সম্পূর্ণ নতুন কোন পদ্ধতিতে বিদ্যুত উত্পাদন শুরু করতে পারলে তবেই. এটা সত্য যে, বর্তমানের ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলার দাম – এটা বাড়াবাড়ি. আজকের দিনে খনিজ তেলের স্বাভাবিক দাম থাকা উচিত্ ৭০ থেকে ৮০ ডলারের মধ্যে, এই কথাই মনে করেন বিশ্লেষকেরা.