রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ রুশ ও আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত চুক্তিকে ২০১০ সালের একটি প্রধান ফলাফল হিসাবে নাম দিয়েছেন. রাশিয়ার তিনটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের মুখ্য পরিচালকদের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে দেশের অন্যান্য বড় ঘটনার মধ্যে নাম করেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের পঁয়ষট্টি বছর উদযাপন, বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে উদ্ধার পাওয়া, দেশের মানুষের সংখ্যার উন্নতির বিষয়ে নূতন দৃষ্টিকোণ গ্রহণ ও আরও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা গুলিকে.

    "বিশ্বের একটি অন্যতম ঘটনা হিসাবে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নূতন চুক্তি স্বাক্ষর হওয়াকে.

    এই দলিল বোধহয় আগামী দশকে বিশ্বে এবং ইউরোপে নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য একটি প্রধান ভিত্তি প্রস্তর. আমি খুবই খুশী যে, এই দলিল গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে".

    দিমিত্রি মেদভেদেভ বারাক ওবামার ভূমিকাকে খুবই উচ্চ মূল্য দিয়েছেন, জটিল সময়ে আমেরিকার সেনেটের কাছ থেকে এই দলিল গ্রহণ করানোর ব্যবস্থা করার জন্য. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি যোগ করেছেন যে, তাঁর বারাক ওবামার সঙ্গে কাজ করা সহজ হয়, কারণ তিনি এমন একজন লোক, যিনি শুনতে ও বুঝতে সক্ষম, কোন রকমের ধরা বাঁধা মতের মধ্যে বন্দী হয়ে নেই. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি সেখানে ডেমোক্র্যাট দলের সেনেট নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য সম্ভাব্য পরিমানের চেয়ে সব থেকে কম করার প্রচেষ্টা করা হবে. দিমিত্রি মেদভেদেভ একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেছেন যে, উইকিলিক্স সাইটে প্রকাশিত তথ্যে আমেরিকার কূটনীতিবিদদের মধ্যে গোপন চিঠি পত্রের প্রভাব রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে কোন রকমের প্রভাব ফেলতে পারবে না. একই সঙ্গে তিনি বলেছেন যে, এই ধরনের ফাঁস হয়ে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সম্পর্কের ক্ষতি করতেই পারে.

    সাক্ষাত্কারের সময়ে কুনাশির দ্বীপে দিমিত্রি মেদভেদেভের সফর নিয়ে জাপানের পক্ষ থেকে খুবই বেদনা দায়ক প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হয়েছিল, দিমিত্রি মেদভেদেভ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, দক্ষিণ কুরিল অঞ্চলের সমস্ত দ্বীপই রাশিয়ার দেশের অংশ. তিনি বলেছেন:

    "আর আমার আগে যে অন্য কোন দেশ নেতা এই দ্বীপে যান নি, তার কারণ সেটা ঘটেছে বলে. কিন্তু এটা আমাদের জমি. আমরা কুরিল দ্বীপপূঞ্জকে বাস যোগ্য করব. কিন্তু এর মানে এই নয় যে, আমরা আমাদের জাপানী সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে তৈরী নই. আমরা সম্মিলিত অর্থনৈতিক প্রকল্প করতে তৈরী, আমরা তৈরী কোন না কোন ঐতিহাসিক জিনিস নিয়ে আলোচনা করতে, যা আগে কুরিল দ্বীপপূঞ্জে হয়েছে, এটা সত্য. আমরা ওদের সঙ্গে কাজ করতে তৈরী. কিন্তু এর মানে এই নয় যে, আমরা কুরিল থেকে আমাদের অধিকার ফিরিয়ে নেবো আমাদের দেশের জমি হিসাবে, আর এটা আমাদের সহকর্মীদের পরিস্কার করে বুঝতে হবে".

    ১০ই এপ্রিল স্মোলেনস্ক শহরের কাছে পোল্যান্ডের বিমান দূর্ঘটনার কথা রাষ্ট্রপতি সেন্ট পিটার্সবার্গে ১০ই এপ্রিল সকালেই জানতে পেরেছিলেন. প্রথম যে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তা ভীষণ চমক খাওয়া, উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ.

    "এরপর আমরা পোল্যান্ডের সঙ্গে খুবই কঠিন পথ পার হয়ে এসেছি. আমাদের সম্পর্ক ছিল ভীষণ জটিল, বর্তমানে তা ভাল হয়েছে, খুবই ঠিক হয়েছে. আমি পোল্যান্ডে সরকারি সফর শেষ করে এসেছি, আমরা কথা বলেছি. অবশ্যই এই দূর্ঘটনার তদন্তকে শেষ অবধি হতে দেওয়া উচিত্, কেন রকমের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য না নিয়ে, কোন অভিযোগ না করে. সমস্ত পক্ষের দৃষ্টিকোণ দেখা উচিত্ ও তার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত্, যা আন্তর্জাতিক পরিষদ নেবে আর, অবশ্যই আভ্যন্তরীন অনুসন্ধানও করা দরকার".

তাঁর কাছে  পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এর এই দূর্ঘটনা সম্বন্ধে দ্বিপাক্ষিক সরকারি পরিষদের সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হলে, দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

"আমার মনে করতে ইচ্ছা হয় যে, এটা দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিরোধের উত্তেজনার একটি আবেগময় প্রতিক্রিয়া মাত্র, যা আজ পোল্যান্ডে ঘটছে. পোল্যান্ড এখন বিভক্ত হয়ে পড়েছে, দেখাই যাচ্ছে সেখানের জনসাধারনের মানসিকতা বিভক্ত হয়েছে. আর সব মিলিয়ে এটা এক অর্থে বোঝাই যাচ্ছে, কারণ এটা এক সত্য কারের ট্র্যাজেডি. কিন্তু আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে এর কোন প্রভাব পড়া উচিত্ হবে না. এটা শুধু অনুসন্ধান ও আন্তর্প্রশাসনিক বিমান সংক্রান্ত পরিষদের কাজের ফলে কোন রকমের রাজনৈতিক প্রভাব যেন না ফেলতে পারে".

দিমিত্রি মেদভেদেভ আশা প্রকাশ করেছেন যে, পোল্যান্ডের রাজনীতিবিদদের যথেষ্ট বুদ্ধি হবে ও মানসিক জোর থাকবে যাতে তারা কোন রকমের বাড়তি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ছাড়াই দূর্ঘটনা সম্বন্ধে পরিষদের সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারবেন.