যদি রাশিয়া ও ন্যাটো জোট রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিষয়ে প্রত্যেক পক্ষের উপযুক্ত ভূমিকার বিষয়ে সহমতে আসতে না পারে তবে কয়েক বছর পরেই রাশিয়া ও আমেরিকার রাজনীতিবিদেরা কঠিন সমস্যার সামনে পড়বেন বলে মনে করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ. ভারতে সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি মুম্বাই শহরে ভারতের প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেছেন ও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘোষণা করেছেন.

    ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনলজির পরিসরে এই সাক্ষাত্কার সম্পূর্ণ ভাবেই অধ্যয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে হতেই পারতো. কিন্তু দিমিত্রি মেদভেদেভ এখানে বলেছেন নিরাপত্তাও আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে কথা. রাষ্ট্রপতি বিশ্বাস করেন যে শুধু ন্যাটো জোটের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিষয়ে রাশিয়ার অংশগ্রহণ সম্বন্ধে নির্দিষ্ট মাপকাঠি থাকলে তবেই তা পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে কোন গ্যারান্টি হতে পারে. তা না হলে, যে দেশের স্বার্থ এখানে ক্ষুণ্ণ হতে পারে, তারা বাধ্য হবে নিজেদের পারমানবিক অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে, এই প্রসঙ্গে মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন:

    "ইউরোপে বর্তমানে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করার বিষয় সক্রিয় ভাবে ভাবা হচ্ছে, তাতে ন্যাটো জোটের দেশ গুলি উদ্যোগ নিয়েছে. আমরা এই ধারণার বিষয়ে খুবই বাস্তব ও কার্য কারণ যোগ সম্বন্ধ নিয়ে ভেবে দেখছি. যদি রাশিয়া এই আলোচনাতে প্রস্তাব করার উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে.আর যদি আমরা নিজেদের উপযুক্ত ক্ষেত্র সেখানে না পাই – ভবিষ্যত প্রজন্মের রুশ ও আমেরিকার রাজনীতিবিদদের খুবই অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হবে".

    রাশিয়ার নেতা বিশ্বাস করেন যে, বর্তমানের বিশ্বে সম্পূর্ণ ভাবে নিরস্ত্রীকরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু গণ হত্যার অস্ত্র ব্যবহারের বিপদকে কমানো প্রয়োজন. এই লক্ষ্যে পৌঁছনোর একটি দিক হিসাবে তিনি রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত নূতন স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন.

    রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন. ভারত সন্ত্রাসের সঙ্গে সংগ্রামের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সহায়তা আশা করতেই পারে, যা দুই দেশই এখন কোন শোনা কথা হিসাবে আর জানে না. বর্তমানের প্রাথমিক কাজের মধ্যেও আগের মত আঞ্চলিক ও বিশ্ব নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য দেশ গুলির শক্তিকে একত্রিত করার প্রশ্ন রয়েছে. রাশিয়ার নেতা দিল্লীকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় আরও সক্রিয় ভাবে অংশ নিতে আহ্বান করেছেন ও নিজের আস্থা প্রকাশ করেছেন এই বলে যে, ভারতের জন্য এই সংস্থায় উপযুক্ত এবং সম্পূর্ণ অধিকার সম্পন্ন সদস্য হওয়ার জায়গা রয়েছে. বর্তমানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় রয়েছে চিন, রাশিয়া, কাজাখস্থান ও তিনটি মধ্য এশিয়ার দেশ – তাজিকিস্তান, কিরগিজিয়া ও উজবেকিস্তান.

    "আমরা আজ চেষ্টা করছি বহু মেরুর বিশ্ব নিয়ে কথা বলতে, যেখানে কোন একটি "বৃহত্তম দেশ"ই প্রধান হবে না" – উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ. আর ভারত ও রাশিয়ার পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যেই বিশ্বের নিরাপত্তা ও ইউরো এশিয়া অঞ্চলের স্থিতিশীল উন্নতি অনেকটাই নির্ভর করে রয়েছে.