মুম্বাই শহরে সফরে এসে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনলজির ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেছেন. রাশিয়ার দেশ নেতা অংশতঃ উল্লেখ করেছেন যে, "ন্যাটো জোটের উচিত মস্কোর সঙ্গে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্নে সহমত হওয়া. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন যে, যদি রাশিয়া উপযুক্ত ভাবে এই ব্যবস্থায় অংশ নেয়, নির্দিষ্ট কোন উপায়ে একত্রিত প্রতিরোধ ব্যবস্থায় জায়গা করে নেয়, যা দুটি অংশে ভাগ করা থাকবে, ন্যাটো ও রাশিয়া, তবেই আমাদের জন্য এটা গ্রহণ যোগ্য হবে. যদি রাশিয়া এই ব্যবস্থায় নিজের উপযুক্ত জায়গা না পায় – আর এটা বোঝা যাবে আগামী পাঁচ – সাত বছরের মধ্যেই, তবে রাশিয়া ও আমেরিকার রাজনীতিবিদদের খুবই অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে. তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের সহকর্মীদের যথেষ্ট বোধোদয় হবে, যাতে সহমতে এসে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়".

এখানে কথা হওয়ার সময়ে ইরানের পারমানবিক সমস্যার কথাও উঠেছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ছয় পক্ষের আলোচনা থেকে ফল হবে ও ইরানের সঙ্গে আলোচনা আবার সম্পূর্ণ ভাবে শুরু হবে. দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন – "আমাদের (রাশিয়ার) ইরানের সঙ্গে ভাল সহকর্মীদের মত সম্পর্ক, আমরা বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করে থাকি, তার মধ্যে শক্তি প্রকল্পও রয়েছে বড় মাপের. কিন্তু অন্য বিষয় হল যে, ইরান বর্তমানে কিছু প্রশ্নের বিষয়ে অযৌক্তিক, কঠিন নীতি নিয়েছে, যার মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তা ও নিজেদের পারমানবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকারের প্রশ্নও রয়েছে".

ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভারতের রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য দেশ হিসাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে রাশিয়ার সহযোগিতা বিষয়ে সমর্থন করেছেন. তিনি বলেছেন যে, "আমরা মনে করি যে, ভারত এক বিশাল দেশ হিসাবে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করতেই পারে, একই সঙ্গে মনে করি যে, এটা খুব সহজ কাজ নয়, কারণ বেশ কিছু বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের চার্টার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সকল পক্ষের সমর্থন চাই". তাছাড়া দিমিত্রি মেদভেদেভের তিনি ভারতকে আরও সক্রিয় ভাবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় অংশ নিতে আহ্বান করেছেন. তিনি উদাহরণ হিসাবে ব্রিক সংস্থার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে প্রাথমিক ভাবে অর্থনৈতিক প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে.

"আমরা ভারতের সঙ্গে বহু রকম ভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, ভারত – আমাদের খুবই ঘনিষ্ঠ দেশ ও সহযোগী. ভারতীয় বন্ধুদের সাথে আমরা আমাদের সমস্ত সম্ভাবনা ভাগ করে নিতে রাজী আছি, এটা নিরাপত্তার বিষয়ে ও অর্থনৈতিক উন্নতির বিষয়েও. তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, মঙ্গলবারে তিনি, যে আলোচনা করেছেন, তা এই দিকেই হয়েছে ও প্রায় তিরিশটি দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার অংশ নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য হয়েছে".

এই কথা মনে করে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ঘোষণা করেছেন:

"বাণিজ্যের পরিমান বৃদ্ধির প্রশ্নে কাজ হচ্ছে সক্রিয় ভাবে. বর্তমানে এর পরিমান প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের সমতূল্য. যদিও আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একত্রে উল্লেখ করেছি আমাদের মত, যে, এই পরিমান আমাদের দুই দেশের সুবিধাজনক স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার চরিত্র অনুযায়ী যথেষ্ট নয়. আমরা ২০১৫ সালের মধ্যেই এর পরিমান বৃদ্ধি করে ২০ হাজার কোটি ডলারের সমতূল্য করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করবো".

অর্থনৈতিক যোগাযোগকে উন্নত করার জন্য ও সাংস্কৃতিক এবং সাধারন মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করার জন্য বিশিষ্ট শ্রেনীর নাগরিকদের জন্য ভিসা ব্যবস্থায় পারস্পরিক শর্ত লাঘব সম্পর্কে চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন "রেডিও রাশিয়া"র সাংবাদিককে তাঁর প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, তিনি বলেছেন:

"দ্বিপাক্ষিক পারস্পরিক আকর্ষণ অবশ্যই খুব বেশী. আমরা খুশী যে, আমাদের সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে. অবশ্যই বর্তমানে যে চুক্তি স্বাক্ষর করা হচ্ছে, তা আমাদের দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যুব সমাজের পারস্পরিক বিনিময়, অন্যান্য প্রতিনিধি দলের যাতায়াত ও সাধারণ পর্যটনের মাত্রা বৃদ্ধি করবে. আমি মনে করি এর ফলে দুই দেশের মধ্যে মানবিক আলোচনার গতিতে একটা নূতন মাত্রা যোগ করবে".

রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে, রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতা খুবই ফলপ্রসূ এবং সম্পূর্ণ ভাবে খোলা মেলা. এখানে দুই পক্ষই আগামী ২০১১ সালে "ব্রিক" সংস্থার কাঠামোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে যুক্ত হওয়ার জন্য স্বাগত জানিয়েছেন. দুই দেশেরই উন্নত মানের পারমানবিক প্রযুক্তি থাকার জন্য রাশিয়া ও ভারত একত্রে উল্লেখ করেছে যে, পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করা  - দুই দেশের জন্যই প্রাথমিক কাজ. এই কারণেই দুই দেশই ইরানকে আহ্বান করেছে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত মান্য করতে ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে যোগ্য স্তরে সহযোগিতা করতে.

দুই পক্ষই সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা করেছে. এই ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা না করে উপায় নেই, তাই দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন:

"সেই সমস্ত লোকেরা যারা সন্ত্রাসবাদীদের লুকিয়ে রাখে, তারাই অপরাধী দের লুকিয়ে রাখে. আমরা বুঝি যে, তাদের বিচারের আদালতে তুলে দেওয়া অনেক সময়ই যথেষ্ট জটিল বিষয়, কিন্তু এই ক্ষেত্রে চাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সমস্ত দেশের মধ্যেই, যারা চায় সন্ত্রাসের মোকাবিলা করা হোক. আমি এই ধারণাই পোষণ করি যে, বর্তমানের একটিও আধুনিক সভ্য দেশ নিজের দেশের মধ্যে সন্ত্রাসবাদীকে আইন অনুগত নাগরিক বলে রেখে দিতে পারে না. তাদের অবশ্যই কৃত কর্মের জন্য শাস্তি হওয়া দরকার".

সব মিলিয়ে রাশিয়া ও ভারতের নেতারা মনে করেছেন যে, এই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে ও তা ঘনিষ্ঠ ভাবেই চালু রাখা দরকার. ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে রাশিয়া আসার আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করেছেন.

দিমিত্রি মেদভেদেভ মুম্বাই এসেছেন আগ্রাতে তাজমহল দেখার পরে, তিনি সেখানে অতিথিদের জন্য রাখা খাতায় ইংরাজী ও রুশ ভাষায় মন্তব্য লিখেছেন:

তাজমহল – মানব সমাজের বিরল সম্পদ. সবাইকে ধন্যবাদ, যারা তা রক্ষা করে রেখেছেন.