রাশিয়ার উপগ্রহ মারফত দিক নির্ণয় ব্যবস্থা গ্লোনাসস এর জন্য নূতন নিয়ন্ত্রণ ও নথিভুক্ত করণের ব্যবস্থা আন্টার্কটিকার নোভোলাজারেভস্কায়া স্টেশনে কাজ শুরু করেছে.

বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এই রকমের যন্ত্রপাতি যত বেশী লাগানো হবে, তত ভাল করে ও ভরসাযোগ্য ভাবে মহাকাশ থেকে পাঠানো তথ্য ব্যবহার করা যাবে, এই কথা উল্লেখ করে “রেডিও রাশিয়া” কে সাক্ষাত্কারের সময়ে পিটার্সবার্গের আর্কটিকা ও আন্টার্কটিকা ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর ভালেরি লুকিন:

“এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভৌগলিক অবস্থান নির্দিষ্ট করা আরও ভালো করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আলাদা করে ঠিক করতে পারে ও গ্লোনাসস উপগ্রহ ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো তথ্যের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এমন স্টেশন রাখতে হবে. এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে রসকসমস সংস্থা রাশিয়ার আন্টার্কটিকা অভিযানের সংগঠনের সঙ্গে এরই মধ্যে দুটি স্টেশন চালু করেছে. বেলিঙ্গস্তাউজেন স্টেশনে ফেব্রুয়ারী মাস থেকেই এই রকম আরও একটি স্টেশন কাজ করছে”.

নোভোলাজারেভস্কায়া স্টেশনে উপগ্রহ থেকে তথ্য পাওয়া ও পাঠানোক জন্য যন্ত্রপাতি লাগানো হয়েছে. উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল বলে রাশিয়ার অভিযাত্রীদের ইন্টারনেট যোগাযোগ ভাল হবে. রসকসমস সংস্থা আগামী দুই বছরে দূরের মহাকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য কিছু অন্য যন্ত্রপাতি স্থাপন করবে. একই ধরনের স্টেশন লাগানো হবে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রুস্কায়া দ্বীপে. ২০১৫ সালে এই স্টেশনকে আবার চালু করে সারা বছর কাজের উপযুক্ত করা হবে.

এই প্রকল্প রুশ দশ বর্ষ ব্যাপী আন্টার্কটিকা অবস্থানের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত. এর একটি দিক হল মহাকাশের কাজ কর্মকে সহায়তা করা. গত শতকের নব্বই এর দশকে রাশিয়ার বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের নৌবাহিনীকে কাজ করা থেকে স্থগিত করতে হয়েছিল, যা আগে মহাকাশের কাজকর্মের জন্য বিশ্বের বহু দূরের জায়গায় ব্যবহার করা হত. একই সঙ্গে বহু সামরিক ঘাঁটিও বন্ধ করা দেওয়া হয়েছিল, যা বিশ্বের অন্য গোলার্ধে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজে লাগানো হত. এই গুলি থেকে যোগাযোগ ও প্রয়োজনে রাশিয়ার উপগ্রহ ব্যবস্থাকে মহাকাশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হত. এর ফলে মহাকাশের উপগ্রহ গুলির কক্ষপথ নির্ণয়ে সমস্যা হয়েছিল. এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, গ্লোনাসস ব্যবস্থা চালু করার সঙ্গে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও বহুল ভাবে চালু করার দরকার আছে.