২০১০ সালে অনুসন্ধানে পাওয়া রাশিয়ার সঞ্চিত খনিজ তৈলের পরিমান পঁচাত্তর কোটি টন ও গ্যাসের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক আট হাজার কোটি কিউবিক মিটারের ও বেশী.

    এই তথ্য সমস্ত সন্দেহ বাতিক লোকের প্রশ্নের উত্তর হতে পারে, যারা প্রতি বছরই বলে চলেছে যে, রাশিয়াতে গ্যাসের সঞ্চয় এই শীঘ্রই ফুরিয়ে যাবে আর খনিজ তেল আনতে হবে সমুদ্র পার থেকে. এই ছরে খনিজ তেলের উত্পাদন হতে চলেছে পাঁচ কোটি টনের চেয়ে বেশী ও গ্যাস উত্পাদনও বেশী হবে. উত্পাদনের পরিমান এই নিয়ে পরপর দুই বছর বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অর্থ হল খনিজ তেল ও গ্যাস উত্পাদন ক্ষেত্রে উন্নতির হার ইতিবাচক. এই ক্ষেত্রে রাশিয়ার সরকারের সময়মতো নেওয়া ব্যবস্থা যথেষ্ট উপকার করেছে, যার ফলে কোম্পানী গুলি খনিজ তেল ও গ্যাসের অনুসন্ধানের কাজ অব্যাহত রেখেছে. আশঙ্কা করা হয়েছিল যে, পূর্ব সাইবেরিয়াতে সন্ধান পাওয়া গেলেও নূতন উত্পাদনের জায়গা গুলি ব্যবহার সোনার দামে অর্থাত্ তা বিক্রীর দামের চেয়ে বেশী দামী হবে উত্পাদনের কাজে, এমন কথা সমর্থনের মতো ভিত্তি খুঁজে পায় নি, এই কথাই উল্লেখ করে রাশিয়ার জাতীয় সবার প্রাকৃতিক সম্পদ পরিষদের সভাপতি ভিক্তর অরলোভ বলেছেন:

    "ভৌগলিক ও আবহাওয়া গত কারণে আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের পরিস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকার দেশ গুলি বা পারস্য উপসাগরীয় দেশ গুলির তুলনায় অনেক জটিল. তা স্বত্ত্বেও আমাদের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হয়েছে বিগত তিন বছরে বিদেশে বিক্রী করা প্রতি টন খনিজ তেলের জন্য ৩০০ ডলার বাড়তি আয় ও শুল্কের আয়. অর্থ হল উত্পাদক কোম্পানী ও সরকারের কাছে ভালই আয় হয়েছে. সুতরাং বলা যেতে পারে যে, এই উত্পাদনের জন্য লাভ খুবই বেশী".

    এই সমস্ত উত্পাদনের অঞ্চল কঠিন আবহাওয়ার এলাকাতে থাকলেও ব্যবসায় ও দেশের জন্য সব মিলিয়ে আগ্রহজনক বলে মনে করেছেন ভিক্তর অরলোভ. অন্য কথা হল উত্তরের হিম সাগর অঞ্চলে উত্পাদনের জন্য নূতন ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োজন ও সেখানে খরচ প্রায় কয়েক গুণ বেশী. তাই সেখানে অনুসন্ধান ও উত্পাদনের কাজ করা দরকার সঠিক ভাবে নির্ণয় করে. অর্থাত্ প্রথমে বিশাল ক্ষেত্র গুলিতে, যেখানে উত্পাদনের খরচ কমানো সম্ভব, যেমন, শ্টকমানোভ তৈল ক্ষেত্রে, যেখানে সঞ্চয় রয়েছে প্রায় চার ট্রিলিয়ন কিউবিক মিটার.

    সমুদ্র তলের বৃহত্ ভাণ্ডার গুলির ক্ষেত্রে বর্তমানের স্ট্র্যাটেজিক সঞ্চয় সংক্রান্ত আইন বিদেশী বিনিয়োগ আনতে দেয় না. রাশিয়ার কোম্পানী গুলির জন্যও বাধা নিষেধ রয়েছে, যাদের সমুদ্র তলে কাজের অভিজ্ঞতা নেই. আইনে যে পরিবর্তন আনা হতে পারে, সেই বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে, এই কথা বলেছেন সভাপতি ভিক্তর অরলোভ:

    "এই ব্যবস্থা বিনিয়োগ আটকে রেখেছে. শুধু বিদেশী নয়, দেশের ভিতরের থেকেও. কারণ যে অনুসন্ধান করে ক্ষেত্র নির্ণয় করতে পারবে, তার কোন আস্থা নেই যে, তাকে এই ক্ষেত্র থেকে উত্পাদনের অনুমতি দেওয়া হবে ও সে তার প্রাথমিক বিনিয়োগ ফেরত নিতে পারবে. এই রকম মানসিকতা বর্তমানে ভূ তত্ত্ব বিদ ও উত্পাদকদের মধ্যে রয়েছে. তাই প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আইনে পরিবর্তন আনার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে. আমরা সেগুলিকে সমর্থন করবো".

    অদূর ভবিষ্যতে রাশিয়াতে আগের মতই প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের বিষয়ে বেশী জোর দেওয়া হবে. এর সঞ্চয় রয়েছে আরও অনেক দশকের মতো. কিন্তু ভূ তত্ত্ব বিদেরা এখনই মনোযোগ দিয়েছেন কার্বন হাইড্রোজেন যৌগের অন্য ধরনের কাঁচামালের খোঁজে: কয়লা খনির স্তর থেকে নির্গত গ্যাস ও স্লেট পাথরের স্তর থেকে উত্পন্ন গ্যাস.