রাশিয়া ও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে সুবিধাজনক স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার স্তরে উন্নীত হতে পেরেছে বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ নয়া দিল্লী শহরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষ হওয়ার পরে এক যৌথ ঘোষণাতে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন.

রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে নূতন সম্ভাবনাময় দিক প্রতি বছরের সাথেই আরও উদ্ভূত হচ্ছে. বর্তমানে এই দিক গুলি হল: বিমান নির্মাণ ও নিয়ন্ত্রণ, চিকিত্সা বিজ্ঞানের উন্নতি ও ঔষধি নির্মাণ, সংস্কৃতি, জ্বালানী শক্তি, যন্ত্র নির্মাণ. এই বারের রুশ প্রতিনিধি দলের ভারত সফরের সময়ে তিরিশটি বিষয়ে দলিল স্বাক্ষর হয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলিই বাস্তবায়িত হওয়ার মত চুক্তি. এই রকমের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আশার উদ্রেক করে যে, দুই দেশের মধ্যেই বাণিজ্যের বৃদ্ধি হবে. এই কথা মনে করে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ঘোষণা করেছেন:

"বাণিজ্যের পরিমান বৃদ্ধির প্রশ্নে কাজ হচ্ছে সক্রিয় ভাবে. বর্তমানে এর পরিমান প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের সমতূল্য. যদিও আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একত্রে উল্লেখ করেছি আমাদের মত, যে, এই পরিমান আমাদের দুই দেশের সুবিধাজনক স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার চরিত্র অনুযায়ী যথেষ্ট নয়. আমরা ২০১৫ সালের মধ্যেই এর পরিমান বৃদ্ধি করে ২০ হাজার কোটি ডলারের সমতূল্য করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করবো".

অর্থনৈতিক যোগাযোগকে উন্নত করার জন্য ও সাংস্কৃতিক এবং সাধারন মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করার জন্য বিশিষ্ট শ্রেনীর নাগরিকদের জন্য ভিসা ব্যবস্থায় পারস্পরিক শর্ত লাঘব সম্পর্কে চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন "রেডিও রাশিয়া"র সাংবাদিককে তাঁর প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, তিনি বলেছেন:

"দ্বিপাক্ষিক পারস্পরিক আকর্ষণ অবশ্যই খুব বেশী. আমরা খুশী যে, আমাদের সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে. অবশ্যই বর্তমানে যে চুক্তি স্বাক্ষর করা হচ্ছে, তা আমাদের দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যুব সমাজের পারস্পরিক বিনিময়, অন্যান্য প্রতিনিধি দলের যাতায়াত ও সাধারণ পর্যটনের মাত্রা বৃদ্ধি করবে. আমি মনে করি এর ফলে দুই দেশের মধ্যে মানবিক আলোচনার গতিতে একটা নূতন মাত্রা যোগ করবে".

রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে, রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতা খুবই ফলপ্রসূ এবং সম্পূর্ণ ভাবে খোলা মেলা. এখানে দুই পক্ষই আগামী ২০১১ সালে "ব্রিক" সংস্থার কাঠামোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে যুক্ত হওয়ার জন্য স্বাগত জানিয়েছেন. দুই দেশেরই উন্নত মানের পারমানবিক প্রযুক্তি থাকার জন্য রাশিয়া ও ভারত একত্রে উল্লেখ করেছে যে, পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করা  - দুই দেশের জন্যই প্রাথমিক কাজ. এই কারণেই দুই দেশই ইরানকে আহ্বান করেছে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত মান্য করতে ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে যোগ্য স্তরে সহযোগিতা করতে.

দুই পক্ষই সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা করেছে. এই ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা না করে উপায় নেই, তাই দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন:

"সেই সমস্ত লোকেরা যারা সন্ত্রাসবাদীদের লুকিয়ে রাখে, তারাই অপরাধী দের লুকিয়ে রাখে. আমরা বুঝি যে, তাদের বিচারের আদালতে তুলে দেওয়া অনেক সময়ই যথেষ্ট জটিল বিষয়, কিন্তু এই ক্ষেত্রে চাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সমস্ত দেশের মধ্যেই, যারা চায় সন্ত্রাসের মোকাবিলা করা হোক. আমি এই ধারণাই পোষণ করি যে, বর্তমানের একটিও আধুনিক সভ্য দেশ নিজের দেশের মধ্যে সন্ত্রাসবাদীকে আইন অনুগত নাগরিক বলে রেখে দিতে পারে না. তাদের অবশ্যই কৃত কর্মের জন্য শাস্তি হওয়া দরকার".

সব মিলিয়ে রাশিয়া ও ভারতের নেতারা মনে করেছেন যে, এই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে ও তা ঘনিষ্ঠ ভাবেই চালু রাখা দরকার. ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে রাশিয়া আসার আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করেছেন.