বিশ্বের বহু দেশেই বেশ কয়েক শ বহু দূর প্রসারিত অনুষ্ঠান – এই ছিল বিদায়ী বছরে "রুশ পৃথিবী" তহবিলের কাজের ফল. রাশিয়ার এই সামাজিক সংস্থা, বিদেশে রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসারের জন্য তৈরী করা হয়েছে. সংস্থার উদ্ভব হওয়ার পরে গত তিন বছরে প্রচুর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও মিলেছে.

    আজ রুশ ভাষা বিশ্বে ১৬ কোটি লোকের মাতৃভাষা, কিন্তু রুশ ভাষাতে কথা বলে আরও অনেক বেশী লোক – প্রায় তিরিশ কোটি. বিশ্বে প্রচলিত ভাষার মধ্যে রুশ ভাষা পঞ্চম স্থানে রয়েছে. এই ভাষার আন্তর্জাতিক ভাষা হিসাবে প্রসার – "রুশ পৃথিবী" তহবিলের মুখ্য উদ্দেশ্য এইটিই. তাই "রুশ পৃথিবী" তহবিল নিজেদের প্রকল্প গুলিকে বিশ্বের মানব সভ্যতার উদ্দেশ্যে, যাঁরা রাশিয়ার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাঁদের প্রতি অর্পণ করেছেন. "রেডিও রাশিয়া" কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এই তহবিলের প্রধান ও রাশিয়ার বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ বলেছেন:

    "আজ বিশ্বের বহু বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রন্থাগারের সহযোগিতায় ৬৬টি "রুশ পৃথিবী" তহবিলের কেন্দ্র খেলা সম্ভব হয়েছে, যেখানে বহু লোক রুশ ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রুশ অনুসন্ধানের বিষয়ে পড়তে ও জানতে পারছেন, এটি রুশ সম্বন্ধে জানার জন্য একটি বড় আগ্রহের বিষয়. আমরা বিশ্বের বহু দেশের জন্য রুশ ভাষা শেখার বই তৈরী করে "রুশ পৃথিবীর ঘর" নামে আমাদের কেন্দ্র গুলির একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ তৈরী করেছি. আমরা এরই মধ্যে চতুর্থ বার রুশ পৃথিবীর সম্মেলন আয়োজন করেছি – আমার স্মরণেরও অতীত এমন, যেখানে বহু বছরের মধ্যে প্রথম বার সমস্ত রুশ ভাষার বিদেশের শিক্ষকদের একসাথে করা সম্ভব হয়েছে – আমি তো এই ধরনের সম্মেলন আগে কখনও হয়েছে বলে মনেই করতে পারছি না".

    বিদেশের রুশ ভাষার শিক্ষকদের এই তহবিলের তরফ থেকে এক "রুশ ভাষার প্রফেসর" নামের বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে, সহযোগিতা করার জন্য. আর এই অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য শোনার পরে মনে হয়েছে যে, এই পরিকল্পনার আজ খুবই প্রয়োজন. যেমন, মারিনা সারি আদ – দিন নামে বেইরুট থেকে আসা একজন রুশ ভাষার শিক্ষক বলেছেন যে, "রুশ ভাষার প্রতি আগ্রহ কে জনপ্রিয় না বলতে পারলেও তাঁর ছাত্র ছাত্রীরা ইব্রাহিম কলেইলাইট ও কাতিয়া জাখার লেবানন দেশের রাজধানী বেইরুট শহরে রুশ ভাষা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ার কারণে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে মস্কো বেড়াতে এসেছিলেন ও তাঁরা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ডিপ্লোমা পেয়েছেন এখান থেকেই".

    "রুশ পৃথিবী" তহবিল ৩০০টিরও বেশী বড় প্রকল্প পরিচালনা করছে. তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হয়েছে এই বছরে হিটলারের নাত্সী বাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের ৬৫ বছর উপলক্ষে অনুষ্ঠান. এই সম্বন্ধে বলতে গিয়ে ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ বলেছেন যে, আমরা "এক অনির্দিষ্ট কালের জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি".

    "৬৫ বছরের বিজয় দিবস উপলক্ষে আমরা লন্ডনের কোভেন্ট গার্ডেন থিয়েটারে এক মহান অনুষ্ঠান করেছি, ইজরায়েল দেশেও বড় অনুষ্ঠান হয়েছে, বহু উত্সব, সঙ্গীতানুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা সারা বিশ্ব জুড়েই করা হয়েছে. আমরা "হৃদয়ের স্মৃতি" নামের এক পরিকল্পনা নিয়েছি, যার উদ্দেশ্য হল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিজয়ের স্মৃতি বিশ্ব জুড়ে মহাফেজ খানা থেকে সংগ্রহ করা. এই অনুষ্ঠান ৯ই মে তেই শেষ হয়ে যায় নি, যখন আমাদের অনুষ্ঠানের সদস্যরা "নাম না জানা নিহত সৈনিকদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে" ক্রেমলিনের দেয়ালের পাশের চিরন্তন অগ্নি শিখাতে মাল্য অর্পণ করেছিল, তা এখনও চলছে, আমি বিশ্বাস করি, যে আরও বহু বছর ধরেই সারা বিশ্বে এটা চলবে".

    "হৃদয়ের স্মৃতি" প্রকল্পে যারা অংশ নিয়েছেন, তারা ৩৬টি দেশের লোক. নিজেদের সংগ্রহ থেকে তাঁরা রুশ পৃথিবী তহবিলের কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন যুদ্ধের সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা, অনেক জিনিস, শিল্প সামগ্রী, ফোটো, রেকর্ড, ভিডিও ফিল্ম, তাঁদের পরিবারের লোকেদের স্মৃতিকথা, এমনকি বর্তমানে তোলা ছবিও, যা যুদ্ধের সময়ে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা বর্তমানের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তুলে রেখেছেন. যেমন, চিন দেশে বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ ভাষা বিভাগে অধুনা রুশ ভাষা যারা শিখছেন, তাদের সঙ্গে যুদ্ধের সময়ে চিনাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক শিশু ভবনে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা এসে রুশ শহর ইভানোভা সম্বন্ধে গল্প করেছেন. বৃদ্ধেরা মনে করেছেন, কিভাবে তাঁরা যুদ্ধের বছর গুলিতে বিমান প্রতিরোধ ও বিপদ হুঁশিয়ারি বিভাগে কাজ করতেন, হাসপাতালে কাজ করতেন, পরে যাঁদের থেকে অনেকেই জন প্রতিরোধ বিভাগে নাম লিখিয়ে যুদ্ধে গিয়েছিলেন ও মস্কোতে ১৯৪৫ সালের রেড স্কোয়ারে বিজয় দিবসের প্যারেডে অংশ নিয়েছিলেন.

    "রুশ ভাষায় কথা বলা সভ্যতার সমস্ত বুদ্ধিমত্তার শক্তিকে জড় করে রুশ পৃথিবী তহবিলের কাজে আরও একটি বিশেষ রূপ দেওয়া হয়েছে, শেষে তারই সম্বন্ধে বলবো".

    ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ বলেছেন:

    "এই বছরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা গুলির মধ্যে আমি উল্লেখ করতে চাই বুদ্ধির প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনাকে. রাশিয়া বর্তমানে নিজের সামনে বহুল প্রসারিত আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা নিয়েছে ও অবশ্যই দেশ তার নিজের সেই সমস্ত লোকেদের কাছ থেকে আশা করে ও তা করাই উচিত্ যে, তারা এক সময়ে নিজেদের জন্য ভাল সুবিধার আশায় দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ও বর্তমানে বিশ্বের বহু জায়গায় বিজ্ঞানও অন্য বিষয়ে অগ্রণীর ভূমিকা নিতে পেরেছেন, তাই এখন দেশের ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরে আসবেন. বিদেশের রুশ বুদ্ধিজীবি লোকেদের সঙ্গে উপযুক্ত সংযোগ স্থাপনও তহবিলের অন্যতম উদ্দেশ্য – যাতে তাঁরা রাশিয়ার উন্নতিতে সক্রিয় অংশ নিতে পারেন. এটা বিদায়ী বছরে রুশ পৃথিবী তহবিলের একটি অন্যতম পরিকল্পনা".

    এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে টাটকা উদাহরণ – সদ্য নোবেল প্রাইজ পাওয়া পদার্থ বিদ্যার দুই রুশ বিজ্ঞানীর মধ্যে গ্রেট ব্রিটেনের নাগরিক কনস্তানতিন নোভোসিওলভ. কনস্তানতিন হেমন্তের শেষে মস্কোতে এসেছিলেন, তাঁকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তিনি রাশিয়ার বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য কিছু করতে চান কি না, তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন যে, "বোধহয় স্কোলকোভো তে আসার মানে আছে". পদার্থ বিজ্ঞানী মস্কো উপকণ্ঠে নির্মীয়মাণ ক্ষমতা সম্পন্ন উদ্ভাবনী কেন্দ্র স্কোলকোভা জায়গার কথা মনে করেই বলেছেন.

    "রুশ পৃথিবী" তহবিল অদূর ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের কাজের পরিকল্পনা করেছে. ২০১১ সালে যেমন, তাঁদের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে মানুষের মহাকাশ ভ্রমণের পঞ্চাশ বছর উদযাপন. রুশ মহাকাশচারী ইউরি গাগারীনের মহাকাশ ভ্রমণের পঞ্চাশ বছর. ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ বলেছেন: "আমরা এই উপলক্ষে এক বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চলেছি – কারণ রুশ ভাষাই প্রথম মহাকাশে উচ্চারিত হয়েছিল. তাই আমাদের তহবিলও এরপর শুধু আবর্তনের গতিই বৃদ্ধি করবে".